সংবাদ সংস্থা
১৯৮৩–র পর ২০১১। ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে মহেন্দ্র সিং ধোনির লং অনে ছয় স্টেডিয়ামে আছড়ে পড়তেই দুলে উঠেছিল আসমুদ্রহিমাচল। আঠাশ বছর পর ভারতের ঘরে এসেছিল পঞ্চাশ ওভারের বিশ্বকাপ। ওয়াংখেড়ের সেই ফাইনালে দুরন্ত ছন্দে থাকা যুবরাজ সিংয়ের আগে ব্যাট করতে নেমেছিলেন ধোনি। এই সিদ্ধান্ত পাল্টে দিয়েছিল ম্যাচের রং। কিন্তু প্রশ্নটা বারবার উঠেছে, তঁার আগে নামার সিদ্ধান্ত কি ধোনি নিজেই নিয়েছিলেন। না, মাহিকে সেদিন এই পরামর্শ দিয়েছিলেন শচীন তেন্ডুলকার।
২৭৪ রান তাড়া করতে নেমে তাড়াতাড়ি আউট হয়েছিলেন বীরেন্দ্র শেহবাগ এবং শচীন। হাল ধরেন গৌতম গম্ভীর এবং বিরাট কোহলি। ২২তম ওভারে আউট হন কোহলি। সবাই ধরেই নিয়েছিলেন ক্রিজে আসবেন যুবি। কিন্তু এসেছিলেন অধিনায়ক ধোনি। যা শুধু দর্শকদেরই নয়, চমকে দিয়েছিল বিপক্ষ শ্রীলঙ্কাকেও। গম্ভীরের ৯৭–এর পাশাপাশি ধোনির ৭৯ বলে অপরাজিত ৯১ রানও সাহায্য করেছিল ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে। 
গম্ভীর–কোহলি ব্যাট করার সময় কী চলছিল মাস্টার ব্লাস্টারের মনে?‌ শচীনের কথায়, ‘‌ওদের খেলার সময় আমি বীরুকে বললাম, যদি বাঁহাতি (‌গম্ভীর)‌ আউট হয় তাহলে আর এক বাঁহাতি (‌যুবি)‌ যাবে। আর যদি ডানহাতি (‌বিরাট)‌ আউট হয় তাহলে আর এক ডানহাতিরই (‌ধোনি)‌ যাওয়া উচিত। জানতাম যুবি দুর্দান্ত ফর্মে ছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কার হাতে ছিল দুই অফস্পিনার। তাই ভেবেছিলাম এই স্ট্র‌্যাটেজি কাজে লাগবে।’‌ শেহবাগের সংযোজন, ‘‌ঠিকই বলেছিল শচীন। তখন বাঁহাতি–ডানহাতি কম্বিনেশন ধরে রাখাই উচিত ছিল। এই স্ট্র‌্যাটেজিই সম্পূর্ণভাবে শ্রীলঙ্কাকে সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল।’‌ 
বীরুকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন শচীন, ধোনিকে ব্যাপারটা জানানোর। কিন্তু তার আগেই ড্রেসিংরুমে ধোনি আসায় বীরুর সামনে তাঁকে এই পরামর্শ দেন শচীন। ধোনি বিষয়টি জানান কোচ গ্যারি কারস্টেনকে। তারপর চারজনের আলোচনায় গ্যারি এবং ধোনিও সহমত হয়েছিলেন শচীনের সঙ্গে। বাকিটা ইতিহাস।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top