আজকালের প্রতিবেদন: রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাগুলিকে রবিবার রাতেই নতুন গাইডলাইন (‌এসওপি)‌ পাঠিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী কোচিং স্টাফদের কারও ৬০–এর বেশি বয়স হলে এবং আগে কোনও শারীরিক সমস্য থাকলে তিনি আর কাজ করতে পারবেন না। সেই নির্দেশিকা মাথায় রেখে সোমবার থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে সিএবি।
সিনিয়র দলের আগামী মরশুমের রণকৌশল স্থির করার জন্য অরুণলালের হাতেই দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিল সিএবি। সেভাবে কাজও শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে বোর্ডের নির্দেশিকা মেনে মাঝপথে অরুণলালকে সরিয়ে দিতে হলে পুরো পরিকল্পনাই যে ধাক্কা খাবে। আবার বোর্ডের নির্দেশিকা অমান্য করার কোনও উপায় নেই। সবকিছু মাথায় রেখে ধীরে চলো নীতিতে ভরসা রাখছেন কর্তারা।
বোর্ডের পাঠানো এসওপি–তে বলা হয়েছে, দলের শিবির বা প্র‌্যাকটিস শুরু করতে গেলে রাজ্য সংস্থাগুলিকে সবার আগে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। সেটাই এখন বড় ভরসা সিএবি–‌র। প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়ার কথায়, ‘‌এমনিতেই আমাদের এখানে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন নিয়মাবলি প্রযোজ্য। সরকারি গাইডলাইন মেনে ৫ তারিখ থেকে জিম ও যোগ সেন্টার চালু হবে। সুতরাং এখনই মাঠে নেমে অনুশীলন বা ক্যাম্প শুরু করার কোনও প্রশ্ন ওঠে না। আপাতত গ্রুপে ভাগ করে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে ক্রিকেটাররা জিম ও যোগ ক্লাস করবে। অরুণলাল অনলাইনে ক্রিকেটারদের সঙ্গে পুরো বিষয়টা মনিটর করবেন। সরকারের পরবর্তী নির্দেশিকা দেখে আমরা পদক্ষেপ নেব।’‌ সিএবি–‌র আরেক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘‌করোনা পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে বদলাচ্ছে। তাছাড়া ঘরোয়া মরশুম কবে থেকে শুরু হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। বোর্ড কোথাও বলেনি এই এসওপি পাকাপাকিভাবে প্রযোজ্য। তাহলে আমরাই বা তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে যাব কেন!‌’‌
বিসিসিআইয়ের নয়া গাইডলাইন দেখে যাঁকে নিয়ে এত চর্চা, সেই অরুণলালও খুব একটা ভাবিত নন। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘‌আমাদের মতো মানুষদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রাখতে গিয়েই তো বোর্ডকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। যতদূর জানি, এই সিদ্ধান্ত সাময়িক। কারণ, কাল করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কার হয়ে গেলে এই গাইডলাইন বদলাবে না, একথা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারবে?‌ তবে বয়সের যে কথাটা বলা হয়েছে, তাতে আমার খানিক আপত্তি আছে। কারণ, বয়স ৫৯ হলে আমার কোনও সমস্যা হবে না আর ৬০ হয়ে গেলেই সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মক, ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। তবে আমার বিশ্বাস সিএবি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। আমি আশাবাদী।’‌
প্রসঙ্গত, বোর্ডের পাঠানো এসওপি–তে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ষাটোর্ধ্ব কোনও ব্যক্তি, যাঁদের ডায়াবেটিস, ফুসফুসের সমস্যা, জটিল কোনও রোগের ইতিহাসে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, এমন কাউকে (‌কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, গ্রাউন্ডসম্যান, আম্পায়ার)‌ দলের সঙ্গে যুক্ত রাখা যাবে না। সেটাই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলা ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থার শীর্ষকর্তাদের। কারণ এই নির্দেশিকা মেনে চলতে গিয়ে সবার আগে সরিয়ে রাখতে হচ্ছে সিনিয়র দলের কোচ অরুণলালকে। যাঁর হাত ধরে গতবার রনজি ট্রফির ফাইনাল খেলেছেন অভিমন্যু ঈশ্বরনরা। গত সপ্তাহেই ৬৫–তে পা দিয়েছেন অরুণলাল। তারওপর মারণরোগ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অতীত ইতিহাস রয়েছে তাঁর। একই পরিস্থিতি মুখ্য কিউরেটর সুজন মুখার্জির ক্ষেত্রেও। গতবছর থেকে যিনি হৃদরোগের সমস্যায় ভুগছেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top