দেবাশিস দত্ত
 জৈব সুরক্ষার কারণে মরুশহরের হোটেলে একা থাকছেন বলে অসুবিধা হচ্ছে না?‌
সুনীল গাভাসকার:‌ লকডাউনের সময় থেকেই গৃহবন্দি। ফলে ওই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। তেমন অসুবিধা হচ্ছে না। বই, সংবাদপত্র, মোবাইল, ল্যাপটপ— সব মিলিয়ে সময় কাটছে।
 আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে আপনি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে এগিয়ে রেখেছেন। বিশেষ কোনও যুক্তি?‌
গাভাসকার:‌ সুরেশ রায়না, হরভজন সিং–‌এর অনুপস্থিতি অন্যতম কারণ। ক্রিকেটে ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। দুটোই বড় দল। চেন্নাইকে এই পরিস্থিতিতে জেতার জন্য অনেকটাই তাকিয়ে থাকতে হবে মহেন্দ্র সিং ধোনির দিকে। সেখানে রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্স–‌এ রয়েছে একাধিক ম্যাচ উইনার।
 তাহলে চ্যাম্পিয়ন হতে পারে কোন দল?‌
গাভাসকার:‌‌ এত আগে বলা যায়?‌ এবার কিন্তু ৮ দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। যে–‌কোনও দল জিততে পারে। তবু, এখানেও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স–‌এর সম্ভাবনা, কিছুটা হলেও, বেশি থাকবে। রোহিতরা গতবারের চ্যাম্পিয়ন। সব মিলিয়ে মুম্বই আইপিএল জিতেছে ৪ বার। চ্যাম্পিয়ন দল বড় ম্যাচে অন্য মানসিকতা নিয়ে খেলতে নামে। শনিবার প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স হেরে গেলেও ট্রফি জেতার ব্যাপারে রোহিতরাই ফেবারিট।
 দলে কোনও ফাঁকফোকর?‌
গাভাসকার:‌‌ ৫ নম্বরে কিয়েরন পোলার্ড। কিন্তু ৪ নম্বরে কে ব্যাট করবে?‌ কান্ট সে। হয়তো সূর্যকুমার যাদব। এই জায়গাটা বাদ দিয়ে চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে।
 রাজস্থান রয়্যালস?‌
গাভাসকার:‌‌ বেন স্টোকস কবে খেলবে?‌ প্রশ্নচিহ্ন। ওদের প্লাস পয়েন্ট হল, স্টিভ স্মিথ এবং জোফ্রা আর্চার। প্রথমবার আইপিএল জেতার পর রাজস্থান আর জিততে পারেনি। কোন ৪ জন বিদেশিকে খেলাবে ওরা, ঠিক করা কঠিন। তবে দলটা ভাল খেলবে।
 সানরাইজার্স হায়দরাবাদ?‌
গাভাসকার:‌‌ টপ টিম। বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডের কোচ এখন হায়দরাবাদের দায়িত্বে। দলে চমৎকার ভারসাম্য। মরুশহরের উইকেটে মানিয়ে নেওয়ার মতো বোলার রয়েছে শিবিরে। ডেভিড ওয়ার্নার, কেন উইলিয়ামসনরা অবশ্যই বড় দলগুলোকে বিপদে ফেলে দিতে পারে।
 রয়াল চ্যালেঞ্জার্স বাঙ্গালোর?‌
গাভাসকার:‌‌ বিস্ময়ের ব্যাপার এখনও ওরা ট্রফি জিততে পারেনি। ভেরি ভেরি সারপ্রাইজিং। বিরাট কোহলি, এবি ডিভিলিয়ার্স, ক্রিস গেল— ‌এক সময় এমন ৩ জন বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান থাকা সত্ত্বেও আরসিবি ট্রফি জিততে পারেনি। এবার গেল নেই। তাতে কী? বিরাটের সঙ্গে এবি ডি থাকবে। বোলিং ডিপার্টমেন্ট শক্তিশালী। আরসিবি–‌কে ভয় পাওয়া উচিত।
 কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব?‌
গাভাসকার:‌‌ মেন্টর অনিল কুম্বলের উপস্থিতিতে ওরা একটা অন্য উচ্চতার শক্তিশালী দল হিসেবে খেলবে। কে এল রাহুল, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ক্রিস গেল, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, সরফরাজ খান, মনদীপ সিং— এই ৬ জনের মধ্যে ৪ জন ক্লিক করলে পাঞ্জাব প্রয়োজনীয় রান তুলে ফেলতে পারবে। মহম্মদ সামি, মুজিব উর রহমান, জিমি নিশামরা বোলিং বিভাগকে টানতে পারবে বলেই মনে হয়। শেষ চারে পৌঁছনোকে পাঞ্জাব টার্গেট‌ করতেই পারে।
 দিল্লি ক্যাপিটালস?‌
গাভাসকার:‌‌ খুব ভাল দল। শ্রেয়স আয়ার, পৃথ্বী শ, শিখর ধাওয়ান, ঋষভ পন্থ, অজিঙ্ক রাহানে— কাকে সরিয়ে রাখবেন?‌ এই পাঁচ দেশী প্রতিভা ধারাবাহিকতা দেখালে দিল্লি দৌড়তে পারে। আক্রমণে রাবাডা, ইশান্ত, অশ্বিনরা ভালই সাফল্য পাবে মনে হয়। রিকি পন্টিং কোচ থাকায় এই দলটা চনমনে থাকবে বলেই ধারণা।
 কলকাতা নাইট রাইডার্স?‌
গাভাসকার:‌‌ সবচেয়ে বেশি টাকা পাওয়া প্যাট কামিন্স মন্থর উইকেটে কেমন বোলিং করে দেখতে হবে। নাইট রাইডার্স আবার জেতার স্বপ্ন দেখতেই পারে। তবে, এজন্য সুনীল নারাইন ও আন্দ্রে রাসেলকে ধারাবাহিকভাবে সফল হতে হবে। চাইব, সব প্লেয়াররা যেন সুস্থ হয়ে দেশে ফিরতে পারে। ট্রফি জেতার চেয়েও জরুরি হল করোনা–‌আবহে নিজেদের উইকেট বাঁচিয়ে রাখা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top