দেবাশিস দত্ত: এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটে সবথেকে আলোচিত বিষয় বিরাট কোহলি–রোহিত শর্মা ঝামেলা। বিরাট–রোহিতদের কোচ হতে চেয়ে আবেদনকারীদের কাছেও জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিরাট–রোহিত গোলমাল কীভাবে সামলাতেন?‌ এক ভারতীয় পরীক্ষার্থী পাল্টা জানতে চান, ‌এমন গোলমাল আছে নাকি?‌ প্রথমে বোর্ড জানায়, এটা প্রচারমাধ্যমের রটনা। পরে বিরাট বলেছে, এমন কিছু নেই। তাহলে গোলমাল সামলানোর প্রসঙ্গ আসছে কী করে?‌ এখনকার কোচ ওই সমস্যা সামলাতে পারছে না কেন?‌’‌ 
মোক্ষম প্রশ্ন। তখনও ইন্টারভিউ চলছিল। রবি শাস্ত্রীকে তখনও দু–বছরের জন্য নিয়োগ করা হয়নি। ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান কোচ বাছাই কমিটির তিন সদস্য। পরে ওই পরীক্ষার্থী জবাব দেন, ‘‌আমি হলে ব্যাপারটা এতদূর গড়াতেই দিতাম না। প্রথমে দু–জনের সঙ্গে কথা বলতাম। বরফ না গললে সরাসরি বোর্ডকে জানাতাম। অনুরোধ করতাম দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে। কারণ, ভারতকে জিততে হলে দু–জনকেই মুক্তমনে খেলতে হবে। শিবিরে চাই আদর্শ ও সুস্থ পরিবেশ।’‌ 
ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির সদস্যরা জানিয়েছিলেন, প্রথম তিন স্থানাধিকারী প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাঁরা অনেক কিছু জানতে পেরেছেন। অথচ একবারও দুই ভারতীয় প্রার্থী সম্পর্কে একটি শব্দও খরচ করেননি। রবীন সিং একদা ছিলেন ভারতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ। লালচাঁদ রাজপুত ছিলেন সেই দলে, যারা ২০০৭ সালে প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়। রাজপুতের হাত ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানও ক্রিকেটে প্রভূত উন্নতি করেছে। তবু কপিলদেব, অংশুমান গায়কোয়াড়, শান্তা রঙ্গস্বামীরা একবারও এই দু‌ই ভারতীয় কোচের কথা উল্লেখ করেননি। বিদেশি কোচ সম্পর্কে যাঁর বিশেষ উৎসাহ নেই, সেই কপিলদেবের ওই দু–জন সম্পর্কে নিজের বক্তব্য জানাতে ভুলে যাওয়া বিস্ময়কর। গোটা দুনিয়ার কাছে বার্তা গেল যে, ওই দু–জন সম্পর্কে ভারতেই কোনও আগ্রহ নেই।
কপিলরা অবশ্য একসঙ্গে তিনজন কোচের নাম উল্লেখ করে মার্কশিট তৈরি করতে চাননি। বোর্ড চেয়েছে বলে যোগ্যতা অনুযায়ী তিনজনের নাম পরপর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানেও গোলামল আছে। তিন পরীক্ষকের নাম এবং স্বাক্ষর সংবলিত মার্কশিটে দেখা যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের মাইক হেসনের নামের বানান ভুল (পাশের ছবিতে চিহ্নিত)। এতে বিদেশিরা অনেকেই মজা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়াতে চর্চাও হচ্ছে, পরপর দুটো বিশ্বকাপে হেরো দলের কোচ রবি শাস্ত্রীকেই যখন রাখা হবে, তখন কোচ নিয়োগের এই প্রহসন কেন?‌ ওঁরা আরও রেগেছেন, মাইক হেসনকে দ্বিতীয় স্থানে দেখে। অস্ট্রেলিয়া বনাম নিউজিল্যান্ডের আকচা‌–আকচি নতুন কোনও নয়। সেই রেষারেষি থেকে এমন অদ্ভুত পর্যবেক্ষণ!‌ তবে দুই ভারতীয় প্রার্থীর প্রেজেন্টেশন দেখে তিন পরীক্ষকই খুশি হয়েছিলেন। দুজনকেই বলেন, ‘‌তোমরা যে এমনভাবে নিজেদের তৈরি করেছ জানতাম না। জানতে চাই, শুধু ওয়ান ডে–র জন্য কোচ নিয়োগের কথা ভাবলে রাজি হবে?‌’ যা শুনে দু–জনই আশা করেছিলেন স্বীকৃতি পাবেন। সেখানে যে শূন্যহাতে ফিরতে হবে, পরোক্ষে অপমানিত হতে হবে ভাবেননি। ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জনিতদের একাংশের বক্তব্য, ক্রিকেট অ্যাডভাইসরি কমিটির সভা না ডেকে সরাসরি কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর নাম ঘোষণা করে দিলে সমালোচনা হলেও এই বিতর্কিত বাতাবরণ তৈরি হত না।‌‌‌‌‌
অন্যদিকে, একটি সূত্রের খবর, ক্রিকেট অ্যাডভাইসারি কমিটির (‌সিএসি)‌ কোনও সদস্যকেই বোর্ডকর্তারা সাপোর্ট স্টাফ বাছাইয়ের সভায় আমন্ত্রণ জানাবেন না। রবি শাস্ত্রী–বিরাট কোহলি জুটির সঙ্গে পাঁচজন নির্বাচক বোলিং, ফিল্ডিং কোচ–সহ অন্য সাপোর্ট স্টাফদের বেছে নেবেন।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top