সংবাদ সংস্থা, নিউ ইয়র্ক: তিনি দৃষ্টিহীন দৌড়বিদ। আর পাঁচজনের মতো একলা অনুশীলন করতে পারেন না। সঙ্গে রাখতে হয় গাইড। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে অনুশীলনে সমস্যায় পড়েছিলেন ২০১৬–র প্যারালিম্পিকে ১০০ মিটারে সোনাজয়ী ডেভিড ব্রাউন। তা–ও অনুশীলন চালু রাখতে গোটা পদ্ধতিটাই বদলে দিলেন তিনি। আপাতত তাঁর একটাই স্বপ্ন, উসাইন বোল্টকে টপকানো।
সাধারণত দৃষ্টিহীন দৌড়বিদদের ক্ষেত্রে অনুশীলনের সময় প্রায় সমান গতিতে দৌড়তে থাকেন একজন গাইড। একইসঙ্গে নির্দেশও দিতে থাকেন। দৌড়বিদ যাতে ট্র‌্যাক থেকে বেরিয়ে না যান তার জন্য গাইডের সঙ্গে তাঁর হাত বাঁধা থাকে ১২ ইঞ্চির ব্যান্ডের মাধ্যমে। ব্রাউনের গাইড জেরোমে আভেরির ক্ষেত্রেও একই জিনিস চলত। কিন্তু সামাজিক দূরত্বের কারণে এখন এত কাছাকাছি থেকে অনুশীলন করা যাচ্ছে না। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুশীলনের ধরনটাই বদলাতে হয়েছে।
কীরকম?‌ ব্রাউন নিজের মুখেই বলেছেন সেকথা, ‘‌জেরোমে বা আমার কোচ (‌৮০০ মিটারে প্রাক্তন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন জোয়াকুইম ক্রুজ)‌ ৫০–৬০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে থেকে অনবরত হাততালি দিতে থাকে। আমি ওদের দিকে দৌড়তে থাকি। গাইড নিয়ে এবং গাইড ছাড়া দৌড়নো দিন আর রাতের মতোই আলাদা। যদিও আমি সোজাসুজি দৌড়তে পারি, তা–‌ও অনেক সমস্যা থাকে। যেমন, হাওয়ার জন্যে হয়তো জেরোমের আওয়াজ শুনতে পেলাম না।’‌
ব্রাউনের জীবনে আভেরির অবদান কম নয় মোটেই। অলিম্পিকে পদক জেতার যোগ্যতা তাঁর নেই, এটা ভেবে অনেক আগেই দৌড় থেকে সরে গিয়েছিলেন আভেরি। গত আট বছর ধরে তিনি ব্রাউনের গাইড। রেস চলাকালীন সমানে পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন। আভেরির নির্দেশেই ফিনিশিং লাইনে পৌঁছনোর আগে সামনে ঝুঁকে দৌড় শেষ করার কাজটাও করেন ব্রাউন। রিও প্যারালিম্পিকে ১০.‌৯৯ সেকেন্ড সময় করে সোনা জেতা ছাত্রের সম্পর্কে আভেরি বলেছেন, ‘‌ফর্মে থাকলে ও আকাশ ছুঁতে পারে। টোকিওতে ওকে কেউ আটকাতে পারবে না।’‌ 
প্রথম প্যারা–অ্যাথলিট হিসেবে রানিং শু–র বিপণনদূত হওয়া ব্রাউন বলেছেন, ‘‌সর্বকালের সেরা অ্যাথলিট হতে চাই। বোল্টের থেকেও জোরে দৌড়তে চাই।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top