অগ্নি পাণ্ডে: কেউ ব‍‍লছেন দেশের সর্বকালের সেরা কোচ। কেউ বলেছেন, তাঁর মতো ফুটবলার হয়নি। পি কে ব্যানার্জির প্রয়াণের পর এমন সব প্রতিক্রিয়া দেশ জুড়ে। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে তাঁেক কীভাবে মানুষ মনে রাখলে তিনি খুশি হতেন? কয়েক মাস আগে বাড়িতে পি কে–র বড় মেয়ে পলা সরাসরি বাবাকে প্রশ্ন করেছিলেন। 
পি কে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আমি একজন ভাল বাঙালি এবং একজন ভাল ভারতীয় হিসেবে দেশকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি যখন থাকব না, তখন মানুষ যেন আমাকে ভাল মানুষ হিসেবেই মনে রাখে। তাহলেই সবচেয়ে বেশি খুশি হব।’ বলা যেতে পারে, এই ছিল পি কে–র অন্তিম ইচ্ছা। 
চার দিন অতিক্রান্ত তাঁর প্রয়াণের। ঠিক হয়েছে, তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া হবে ৩০ মার্চ। প্রথমে ৩১ মার্চ স্থির হলেও সংস্কার মেনে তা একদিন এগিয়ে আনা হয়েছে। তাঁর পরিবার আরও ঠিক করেছে করোনা–পরিস্থিতিতে বাইরের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। পি কে–র ভাই প্রাক্তন ফুটবলার তথা বর্তমান সাংসদ প্রসূন ব্যানার্জি এবং মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে দুই মেয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবাইকে নিয়ে স্মরণসভা করা যাবে। 
মঙ্গলবার বড় মেয়ে পলা বলছিলেন, ‘বাবার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে নিয়ে যাওয়ার সময়। বলেছিলাম, বাবা ফাইট!‌ বাবা আ‍লতোভাবে বলেছিলেন, আই উইল ফাইট টিল দ্য এন্ড। বাবা সত্যি শেষ পর্যন্ত লড়ে গিয়েছেন! একটা সময়ের পর বাবা তো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন দুই বোনের।’ বড় মেয়ে পলা এবং ছোট মেয়ে পিক্সি দু’‌জনেই উচ্চশিক্ষার জন্য মার্কিন মুলুকে ছিলেন দীর্ঘদিন। দেশে ফিরে এসেছেন। নস্টালজিক পলা জানালেন, ‘সারাজীবন বাবা বলে গিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার জন্য ট্রেনিং বিদেশে নাও। কিন্তু কিছু দেওয়ার থাকলে সেটা দেশেই দিও। বিদেশে না থেকে।’ 
কোনও ম্যাচ হেরে গেলে বাড়ি ফিরে কী মেজাজে থাকতেন পি কে? পলা বললেন, ‘বাড়িতে এসে কারও সঙ্গে কথা ব‍লতেন না। নিজের ঘরে ঢুকে যেতেন। ঘরের বাইরে একটা আলো জ্বেলে দিতেন। সেটা বন্ধ হলে মা প্রথমে বাবার ঘরে ঢুকতে পারতেন চা নিয়ে। নিজের ট্যাকটিক্যাল কোনও ভুলের কারণে হারলে বই নিয়ে বসে পড়তেন বাবা। কোথায় কী ভুল করেছেন, না করেছেন সেটা দেখার জন্য। ২৪ ঘণ্টা ঘরবন্দি থেকে সমানে ভাবতেন পরের ম্যাচ কীভাবে িজতবেন।’
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top