সংবাদ সংস্থা
বিশ্ব ক্রিকেটের তিনি মুখ। ক্রমে যেন ‘‌স্পিরিট অফ ক্রিকেট’‌–এরও রাষ্ট্রদূত হয়ে উঠছেন বিরাট কোহলি। বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন স্বদেশীয় অনুরাগীদের নিশানায় যখন স্টিভ স্মিথ, ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়েছে আইসিসি। কিন্তু স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষায় নয়, কেন উইলিয়ামসনের পাশে দাঁড়িয়ে কোহলি আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ক্রিকেটকে কেন জেন্টলম্যান’‌স গেম বলা হয়। 
বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে দুরমুশ হওয়ার পর থেকে নেতা উইলিয়ামসন কাঠগড়ায়। নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক ম্যাকালাম অভিযোগ করেন, ‘‌নিজের দায়িত্বের প্রতি একটু একটু করে ভালবাসা হারাচ্ছে কেন। ওর দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া উচিত।’‌ এই যে হারলেই অধিনায়কের দিকে আঙুল ওঠে এর বিরোধিতা করে কোহলি বলেছেন, ‘‌হারলেই অধিনায়ক দায়ী। এই দোষারোপের খেলাটা নতুন নয়। তিন ঘরানায় নেতৃত্ব দিলে এসব শুনতেই হবে। দলের জন্য কী করতে পারি, দলকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি— আমি শুধু সেদিকে নজর রাখি। রেজাল্ট কখনওই নেতৃত্বের মাপকাঠি নয়। হার–জিত দিয়ে সবসময় সবকিছুর বিচার হয় না। আমার মতে, একজন ক্যাপ্টেন কীভাবে গোটা দলকে একসূত্রে বেঁধেছে, কীভাবে তার নেতৃত্বে দল খেলছে— সেটা দেখা উচিত। সেদিক দিয়ে দেখলে কেন দারুণভাবেই নিজের কাজটা করছে। সতীর্থরা কেনকে সম্মান করে। ভরসা করে। সেই সঙ্গে ও অত্যন্ত স্মার্ট ক্রিকেটার। আমার মতে, যখন কোনও দল খারাপ খেলে, তখন সেটাকে দলের সামগ্রিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত। ক্যাপ্টেনের ব্যর্থতা হিসেবে নয়।’‌ 
২০০৮ অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সময় থেকে উইলিয়ামসনকে চেনেন কোহলি। ক’‌দিন আগেই বলেছিলেন, উইলিয়ামসন সেই থেকেই কতটা আলাদা ছিল। তাই একেবারেই চান না নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কের ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হোক। কোহলি বলেছেন, ‘‌নেতার দায়িত্বে থাকবে নাকি থাকবে না— এ ব্যাপারে লোকে বড্ড বেশি নাক গলায়। মন্তব্য করে। তার চেয়ে ওই ব্যক্তি বিশেষকে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত। কেনকে যখন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তখন ও–ই ভাল বুঝবে ভবিষ্যতে দায়িত্বে থাকবে নাকি থাকবে না।’‌ 
বিপক্ষের অধিনায়ককে নিয়ে এত কিছু বলার পর কোহলিকে প্রথম টি২০ ম্যাচের আগে প্রশ্ন করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচি নিয়ে। কোহলি বলেছেন, ‘‌ব্যাপারটা এমন জায়গায় যাচ্ছে যে এরপর সরাসরি স্টেডিয়ামে গিয়ে আমরা নামব। আর ম্যাচ খেলতে শুরু করে দেব। ভারতীয় সময়ের থেকে সাত ঘণ্টা এগিয়ে আছে যে দেশ, এই মুহূর্তে সেখানে খেলতে এসেছি। ফলে রাতারাতি মানিয়ে নেওয়াটা সত্যিই কঠিন। আশা করি, ভবিষ্যতে সূচি তৈরির সময় এই ব্যাপারগুলো মাথায় রাখা হবে। তবে আধুনিক ক্রিকেট এরকমই হয়ে গেছে। কিছু করার নেই। এ বছর টি২০ বিশ্বকাপ। তাই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।’‌ 
গত বছর ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছিল ভারত। এবার কি সেই হারের বদলা নিতে এসেছেন?‌ কোহলির জবাব, ‘যতই বদলার কথা ভাবুন, নিউজিল্যান্ডের প্লেয়াররা এতই ভাল যে ওদের বিরুদ্ধে মাঠে নামলে সেই ভাবনাটা উধাও হয়ে যায়। ওদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল। লড়াইটা শুধুই ২২ গজে। ইংল্যান্ডে যে কথা বলেছিলাম সেটাই আরেকবার বলছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার যোগ্য দলের উদাহরণ বলতে গেলে নিউজিল্যান্ডের কথাই বলব। ওরা মাঠে নেমে এমন কোনও আচরণ করে না, যা মেনে নেওয়া যায় না। তাই বদলার প্রশ্নই নেই। দুটো ভাল দল লড়বে এটুকু বলতে পারি। নিউজিল্যান্ডকে ওদের দেশে হারানোটা চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি।’‌ লোকেশ রাহুলকে দিয়ে উইকেটকিপিং করানো নিয়ে ভারত অধিনায়ক বলেছেন, ‘‌রাহুল কিপিং করায় আমাদের হাতে অপশন বেড়েছে। আপাতত কিছুদিন ওকে দিয়ে কিপিং করাব। কিন্তু তার মানে এই নয় কারও কাছ থেকে কিছু ছিনিয়ে নিচ্ছি। দলের ভারসাম্যটাই আসল। রাহুল টিমম্যান। তাই সবরকম দায়িত্ব নিতে তৈরি থাকে।’‌ ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top