সংবাদ সংস্থা: মিশন ২০২০ সালের টি২০ বিশ্বকাপ। ধরমশালায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টি২০ ম্যাচ দিয়ে বিরাট–‌বাহিনী সেই ‘মিশন’ শুরু করছে। 
২০২০ সালের অক্টোবরে টি২০ বিশ্বকাপ। তার আগে প্যা ৩০টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে টিম ইন্ডিয়া। আপাতত কুলদীপ যাদব–‌যুজবেন্দ্র চাহালরা দলে নেই। আছেন ওয়াশিংটন সুন্দর, ক্রুনাল পান্ডিয়া–‌সহ রাহুল চাহার, খলিল আমেদ, নভদীপ সাইনি, দীপক চাহাররা। 
উল্টোদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে ফ্যাফ ডুপ্লেসির বদলে নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন কুইন্টন ডি’‌কক। বলা হয়, ডি’ককের মস্তিষ্ক নাকি ক্রিকেট–‌বুদ্ধির কারখানা। প্রোটিয়া শিবিরে ৩০ বছর বয়সী মিলার খেলেছেন ১২৬টি একদিনের ম্যাচএবং ৭০টি টি২০। অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার মনে করেন, ঠিক পথেই এগোচ্ছেন ডি’‌কক। তাঁর কথায়, ‘আমরা সবাই নতুন অধিনায়কের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। নতুন দল। সবাইকেই দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। আমি তো ভারতের বিরুদ্ধে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। দলের মধ্যে অনেক নতুন মুখ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ‌এ‌ দলের হয়ে খেলা অনেক ক্রিকেটার রয়েছে। ভারত সফরে এসে ওরা অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে নিতে পারবে।’‌ 
মিলারের বক্তব্য, বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলে দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন করে শুরু করতে চাইছে। বলেছেন, ‘‌বিশ্বকাপ এখন অতীত। কয়েকটা ভুল আমরা করেছিলাম। সেজন্য আর টুর্নামেন্টে ফিরতে পারিনি। এখন এই সফরে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি আমরা।’‌ দলে থাকছেন জোরে বোলার কাগিসো রাবাডা। টেস্ট দল থেকে তুলে আনা হয়েছে তেম্বা বাভুমাকে। অ্যানরিচ নোরজেকে সুযোগ দেওয়া হবে। হাসিম আমলা এবং ডুপ্লেসি নেই। তাই নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এসবের মাঝেই রাবাডা টুইট করেছেন, ‘‌ভারতে ফিরে এলাম। উত্তেজিত বোধ করছি। ভাল ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব।’‌ মিলার এবং রাবাডার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে থাকবে প্রোটিয়া বোলিং বিভাগ।
ভারতীয় শিবির থেকে শনিবার পর্যন্ত জানানো হয়নি, চার নম্বর জায়গায় কাকে সুযোগ দেওয়া হবে। মণীশ পান্ডে‌ নাকি শ্রেয়স আইয়ার‌। শ্রেয়স অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চমৎকার ফর্মে ছিলেন। লেগ স্পিনার রাহুল চাহারও ভাল বল করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। ক্রুনালের মতো তাঁকেও ভবিষ্যতের তারকা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আরও একজন লেগ স্পিনারকে খেলানোর কথা ভাববেন বিরাট। ওয়াশিংটন সুন্দর। দক্ষিণ আফ্রিকার মতোই ভারতীয় দলে অভিজ্ঞতার অভাব। কিন্তু প্রতিভার ছড়াছড়ি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি২০, একদিনের সিরিজ এবং টেস্ট সিরিজ জিতে বিরাটদের মনোবল তুঙ্গে। ‌‌
কোহলি জানিয়েই দিলেন, রবিবার থেকে প্রস্তুতি শুরু হচ্ছে আগামী বছর টি–‌২০ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে। তাঁর কথায়, ‘‌নতুন মুখগুলো যথেষ্ট উত্তেজিত। উৎসাহীও। গত ২ বছর ধরে যারা ঘরোয়া ক্রিকেট, বিভিন্ন টি–‌২০ প্রতিযোগিতা এবং আইপিএলে ভাল খেলেছে, তাদেরই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে যথেষ্ট ভারসাম্য থাকে। যে ভারসাম্যের সঙ্গে আমাদের দল পরিচিত। অন্য দলের ৯ নম্বর ব্যাটসম্যান যদি ব্যাট করতে পারে, আমরা কেন পারব না?‌ যে ক’‌টা সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি, তা সবই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।‌’‌
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কোহলির বক্তব্য, ‘রোডম্যাপ প্রসঙ্গে বলতে পারি, যখনই কোনও বিশ্বপর্যায়ের টুর্নামেন্ট আসে, তখন সেটা আমরা একটা মাইলফলক হিসেবে দেখি। পিছনের দিক থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। আমার মনে হয়, টি২০ বিশ্বকাপের আগে প্রতিটা দলই এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাবে। বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র পরখ করে দেখার এটাই সেরা সুযোগ।’ ভারত অধিনায়কের মতে, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেটারদের সক্ষমতা, চরিত্র, ধৈর্য পরীক্ষা করা হয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অধিনায়ক হিসেবে বিভিন্ন খেলোয়াড়কে ব্যবহার করে বিভিন্ন কম্বিনেশন পরীক্ষা করে নিতে চাই। আমরা সবাই সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি। তাই নতুন মুখ উঠে এসে নিজেদের প্রকাশ করতে চাইলে ভাল লাগে।’

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top