সৌমিত্র কুমার রায়
একাধারে শাসক দলের বিধায়ক, অন্যদিকে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ফুটবল সচিব। গত মরশুমে দু’দিকে চমৎকার ভারসাম্য রেখে কাজ করেছেন। অসুবিধে হয়নি। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনার জন্য বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেলে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থেকে দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগে নামবে মহমেডান। ফলত, রাজনীতি এবং খেলার মাঠ—উভয়ে ভারসাম্য রেখে চলার ক্ষেত্রে দীপেন্দু বিশ্বাসের কাছে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে বায়ো–বাব্‌ল। জৈব বলয়ে একবার ঢুকে পড়লে তখন আর রাজনীতি বলয়ে সশরীরে থাকতে পারবেন না। অন্তত ২৫ দিনের জন্য।
বিধায়ক হিসেবে বসিরহাটের মানুষের পাশে যেরকম সবসময় থাকেন, তেমনই টিডি হিসেবে মহমেডানেও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধু টিডি নন, এবার ফুটবল সচিব হয়ে দল গড়েছেন, ইনভেস্টার আনতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। গত মরশুমে কলকাতা লিগ, সিকিম গভর্নর্স গোল্ড কাপ, দ্বিতীয় ডিভিশন আই লিগে ড্রেসিংরুমে দীপেন্দুর উপস্থিতি অন্যমাত্রা যোগ করেছিল। ফুটবলাররা একবাক্যে তা স্বীকার করেন। ফুটবলাররা এবারও তঁাদের প্রিয় ‘দীপুদা’–কে চান।
কী করবেন ফুটবলার–বিধায়ক? দীপেন্দুর বক্তব্য, ‘দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কাছে অনুমতি চাইব। উনি যা বলবেন, সেভাবেই এগোবো। আমার বিধানসভা কেন্দ্রের দেখভালও করতে হবে। এটা আমার কাছে সামাজিক দায়িত্ব। করোনার জন্য কাজকর্ম অনেক বেড়েছে। সামনেই দুর্গাপুজো। এবারের পুজো একেবারে অন্যরকম। তবুও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পুজোয় সবার মুখে হাসি ফোটাতে তৎপর থাকব। কিন্তু মহমেডানের সঙ্গে থাকতে হলে ২৫ তারিখ থেকে আমাকে বায়ো–বাব্‌ল–এর মধ্যে ঢুকে পড়তে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেব। উনি কী বলেন দেখি।’
সাদা–কালো ব্রিগেডের সামনে আই লিগের মূল পর্বে ওঠার হাতছানি। মহমেডান সদস্য–সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন। ফুটবলারদের মতো কর্তারাও চান, টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দীপেন্দু থাকুন দলের সঙ্গে। সাদা–কালো টিডি বলছেন, ‘বসিরহাটের নেতা, কর্মীদের সঙ্গেও আলোচনা করতে হবে। জৈব বলয়ে একবার ঢুকে পড়লে আর বেরোতে পারব না। তবে ফোনে যোগাযোগ তো থাকবেই। নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে সবটা করতে হবে।’ ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top