সৌমিত্র কুমার রায়
স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন। করোনার জেরে সেই স্বপ্নে ধাক্কা। এখন চরম সঙ্কটে কলকাতা ময়দানের মহিলা রেফারিরা।
জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে কলকাতা ময়দানে এসে রেফারিং শুরু করেছিলেন। আদিবাসী মহিলারা পারিবারিক, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূরে সরিয়ে বাঁশি তুলে নিয়েছিলেন মুখে। লকডাউনে খেলা বন্ধ। এবার কলকাতা লিগ অনিশ্চিত। চরম সঙ্কটে দিন কাটছে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর মহিলা রেফারি অ্যাকাডেমির ছাত্রী মাহি টুডু, রাজশ্রী হেমব্রম, মণি খিলাড়ি, আরতি টুডু, অঞ্জলি সোরেন, পূজা সিং, অনিতা মুদির। খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, কেউ কেউ রেফারিং ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন। ইতিমধ্যেই তাঁরা অন্যের জমিতে ধান কাটতে, জঙ্গলে কাঠ কাটতে, ভ্যান চালাতে শুরু করেছেন। জঙ্গলমহল থেকে ফুটবলারদের পাশাপাশি রেফারিরাও উঠে এসেছেন। কিছু ফুটবলারের সিভিক পুলিশে চাকরি হলেও রেফারিদের হয়নি। 
এআইএফএফের রেফারি বিভাগের প্রাক্তন কর্তা গৌতম কর খবর পেয়ে আর্থিক সাহায্য করেছেন। কলকাতার ফিফা রেফারি প্রাঞ্জল ব্যানার্জিও পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বলছিলেন, ‘অনেক লড়াই করে ওঁরা রেফারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। লকডাউন সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দিল।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঝাড়গ্রামের এক সিনিয়র রেফারি বলছিলেন, ‘পরিস্থিতির চাপে পড়ে লকডাউনের মাঝেই দুই মহিলা রেফািরর জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর থেকেই স্পষ্ট কী ভয়ঙ্কর দিন আসছে।’‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top