দেবাশিস দত্ত:  নিউজিল্যান্ড ‌যাওয়ার আগে অজিঙ্ক রাহানে বলেছিলেন, ওয়েলিংটনের হাওয়া নিয়ন্ত্রণ করাটাই কঠিন।
শচীন তেন্ডুলকার:‌ ঠিকই বলেছে জিঙ্কস (‌এভাবেই শচীন ডাকেন অজিঙ্ককে)‌। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, হাওয়ার বিপরীতে (‌এগেনস্ট দ্য উইন্ড)‌ ব্যাটিং করা কঠিন। সজোরে ধাক্কা দেয় শরীরে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে। অথচ ব্যাটসম্যানদের তো জোরে ডেলিভারিগুলো স্পট করতে হয়। প্রবল হাওয়ায় লাইন মিস হয়ে যায় অনেক সময়ই।
 ১৯৯৮ সালে ওয়েলিংটন টেস্টে ড্যানিয়েল ভেট্টরির একটা ডেলিভারি হাওয়ায় কেটে ব্যাটসম্যানের দিকে না এসে চলে গিয়েছিল স্লিপে। ‌
শচীন:‌ হ্যাঁ, মনে আছে। আমি চেয়েছিলাম, ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ভেট্টরিকে মাঠের বাইরে পাঠাতে। কিন্তু একটু এগোতেই দেখি বল নাগাল এড়িয়ে চলে যাচ্ছে স্লিপের দিকে। তাই হাওয়াকে বশ করে বেসিন রিজার্ভে রান করতে হয় ব্যাটসম্যানদের। এটা চ্যালেঞ্জিং।
 ভোর চারটেয় উঠে খেলা দেখছেন টিভিতে?‌
শচীন:‌‌ মুম্বইয়ের বাড়িতে থাকলে টিভি খুলি সকালেই। কিন্তু গত এক সপ্তাহ বা তার বেশি খুব ট্রাভেল করতে হচ্ছিল। তবে নজর তো রাখতেই হয়।
 বাকি দু’‌দিনে ভারত ম্যাচের দখল নিতে পারবে?‌
শচীন:‌‌ এখনও দু’‌দিন বাকি। একটা বড় পার্টনারশিপ হয়ে যেতেই পারে। তখন ভারত আবার খেলায় ফিরবে। আমাদের যা বোলিং শক্তি, তা পুরোপুরি মেলে ধরতে পারলে ম্যাচ জমবে তো বটেই।
 ১৯৯৮ সালের সেই ওয়েলিংটন টেস্টে আপনি ২ ইনিংসে রান করেছিলেন ৪৭ এবং ১১৩। তবু ভারত হেরেছিল।
শচীন:‌‌ আমরা প্রথম ইনিংসে অল আউট হয়ে গিয়েছিলাম মাত্র ২০৮ রানে। তার মধ্যে আমাদের ক্যাপ্টেন মহম্মদ আজহারউদ্দিনই করেছিল ১০৩ রান। সাইমন ডুল একাই প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছিল ৭ উইকেট। ওই ধাক্কা সামলে আমরা লড়াই করেছিলাম। কিন্তু জিততে পারিনি।
 মুম্বই ক্রিকেটের কী হল?‌ মুম্বই এবার রনজি ট্রফিতে নক আউট পর্যায়েও পৌঁছতে পারল না?‌ 
শচীন:‌‌ আমি যেহেতু মুম্বইয়ের রনজি ট্রফি দল থেকে অনেক দূরে, তাই কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে এক ঝাঁক ভাল ব্যাটসম্যান উঠে এসেছে। আকর্ষিত নামে এক অল্পবয়সি ব্যাটসম্যান ওপেন করছে। সেঞ্চুরি করেছে অভিষেক ম্যাচে। সরফরাজ তো ৩০০, ২০০, ১০০ রান করেছে পর পর। যশস্বীও ভাল ব্যাটসম্যান। আগামী মরশুমে মুম্বইয়ের ভাল খেলার কথা। বেঙ্গল তো ভাল খেলছে দেখছি।
 পৃথ্বী শ কি একটু বেশি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছে না?‌
শচীন:‌‌ খেলতে খেলতে শিখবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করাটাও একটা শিল্প। যেটা ম্যাচ খেলে খেলেই আয়ত্তে আনতে হয়।
 ভারতীয় দল মুভিং বলে খেলার সমস্যাটা থেকে কিছুতেই নিজেদের মুক্ত করতে পারছে না।
শচীন:‌‌ এটাও আয়ত্তে আসে খেলতে খেলতেই।
 লরিয়াস অ্যাওয়ার্ডের জন্য অভিনন্দন। কখন জানতে পেরেছিলেন শ্যুমাখারকে হারিয়ে আপনিই পুরস্কার পাবেন?‌
শচীন:‌‌ ধন্যবাদ। আগের দিন রাতে ওখানে পৌঁছে ইঙ্গিত পেয়েছিলাম। সরকারিভাবে জানানো হয়েছিল অনুষ্ঠানের দিন সকালে।
 বরিস বেকার মঞ্চে আপনার নাম ঘোষণা করলেন। ওঁকে আগে চিনতেন তো নিশ্চয়ই?‌ কী কথা হল?‌
শচীন:‌‌ অফ কোর্স চিনতাম!‌ অস্ট্রেলীয় ওপেন এবং উইম্বলডন চলার সময় টেনিস তারকাদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের দেখা হয়। রজার ফেডেরারের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল উইম্বলডনেই। সেভাবেই বরিস বেকারকে চিনি অনেকদিন ধরে।
 আলোচনায় কখনও ক্রিকেটের প্রসঙ্গ আসে?‌
শচীন:‌‌ না, না। একেবারেই না। আমার ধারণা, ক্রিকেট খেলা সম্পর্কে বরিস বিশেষ কিছু জানে না। খেলা দেখতে আসে এই পর্যন্তই। জীবনের অন্য নানা প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয়।
 শ্যুমাখারের সঙ্গে দেখা হল?‌
শচীন:‌‌ না। দেখা হয়েছে ডালে টমসন, নাদিয়া কোমানেচি, দক্ষিণ আফ্রিকার রাগবি দলের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে। স্টিভ ওয়া তো ছিলই। অন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদরাও ছিল। দারুণ একটা পরিবেশ ছিল বার্লিনে।
 স্টিভ কী বললেন?‌
শচীন:‌‌ ওর সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আগামী বছর ভারতের অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে দিন–রাতের টেস্ট ম্যাচ খেলার ব্যাপারে স্টিভকে যথেষ্ট আগ্রহী মনে হল।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top