‌গৌতম সরকার: বিশ্বকাপের পর মাত্র দু’‌মাসের ব্যবধানে আবার মাঠে নেমে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের মতো দেশগুলো যেখানে প্রীতি ম্যাচ খেলতে ব্যস্ত, সেখানে ফ্রান্স, হল্যান্ড, ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেন, পোল্যান্ডের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো আবার নেমে পড়েছে উয়েফা নেশনস লিগ খেলতে। দু’‌দিন আগে বিশ্বচাম্পিয়ন ফ্রান্সকে যেমন আটকে দিয়েছে জার্মানি, তেমনি পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোনও রকমে হার বাঁচিয়েছে ইতালি। অনেক আশা নিয়ে ইংল্যান্ড–স্পেন ম্যাচ দেখতে বসেছিলাম। বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। আর স্পেন ছিটকে গিয়েছিল প্রি–কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। উয়েফা নেশনস লিগে এই দুই দলের সাক্ষাৎকারে একটা দুর্দান্ত ম্যাচ উপহার পেলাম। এই রকম ম্যাচ দেখার জন্য রাতজাগা সত্যিই সার্থক।
দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পেনের কোচ লুই এনরিকের এটাই ছিল প্রথম ম্যাচ। বেশ কয়েকজন নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি হয়েছে প্রথম একাদশে। এনরিকে দায়িত্ব নিয়েই স্পেনকে বদলে দিয়েছে। অনেকদিন পর সেই পুরনো স্পেনের ঝলক দেখতে পেলাম, বিশ্বকাপে যা দেখতে পাইনি। বিশ্বকাপে ইনিয়েস্তারা যে খারাপ ফুটবল খেলেছিল, এ কথা বলছি না। কিন্তু বিশ্বকাপের স্পেনের থেকে এই স্পেন সম্পূর্ণ আলাদা। অনেক বেশি বৈচিত্র‌্যময়। না হলে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও জয়ে ফেরা সম্ভব হত না র‌্যামোস, ইসকো, আসপাসদের। তবে ইংল্যান্ডও যে ঘরের মাঠে খারাপ খেলেছে, এ কথা বলব না। ডেলে আলি, রাশফোর্ড, হেন্ডারসন, লিনগার্ডদের খেলায় সেই বিশ্বকাপের ঝলক দেখতে পেলাম। তবে হ্যারি কেনকে অনেকটাই নিষ্প্রভ লাগল। আক্রমণ–প্রতি–আক্রমণে খেলাটা দারুণ শুরু হয়েছিল। দুই দলই সুন্দরভাবে প্রান্ত ব্যবহার করছিল। তবে স্পেন অ্যাটাকিং থার্ডে প্রচুর পাস খেলে গোলমুখ খোলার চেষ্টা করছিল। নিখঁুত পাস কীভাবে করতে হয়, স্পেনকে দেখে শেখা উচিত।
ইংল্যান্ডও কম ছিল না, কিন্তু স্পেনের তুলনায় কম। ডেভিড সিলভার জায়গায় এনরিকে ভরসা করেছিল সল নিগুয়েজের ওপর। এই তরুণ মিডফিল্ডার হতাশ করেনি। যেমন রক্ষণে হতাশ করেনি পিকের পরিবর্তে র‌্যামোসের পাশে খেলতে নামা নাচো। অন্যদিকে, রহিম স্টারলিংয়ের চোট না থাকলে র‌্যাশফোর্ডের হয়তো প্রথম একাদশে খেলার সুযোগই হত না। র‌্যাশফোর্ড কিন্তু দারুণভাবে সুযোগ কাজে লাগাল। গোটা ম্যাচে শুধু অনবদ্য ফুটবলই খেলল না, গোল করে দলকে এগিয়েও দিয়েছিল। ম্যাচে ১১ মিনিটে লুক শ–র নিখুঁত সেন্টার থেকে দুরন্ত শটে গোল করে র‌্যাশফোর্ড। তার এই গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি সল নিগুয়েজ। কারভাজালের সেন্টার ধরে রডরিগো বল বাড়ায় সলকে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে নিখুঁত হাফভলিতে ইংল্যান্ড গোলকিপার পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে সল। এই গোল দুটি দেখে শুরুতেই দুই দলের রক্ষণকে বেশ নড়বড়ে মনে হচ্ছিল। পরে ম্যাচ যত গড়িয়েছে, এনরিকে, সাউথগেটরা নিজেদের রক্ষণকে গুছিয়ে নিয়েছে।
তবে রডরিগোর গোলের সময় ইংল্যান্ড রক্ষণ দোষ এড়িয়ে যেতে পারে না। থিয়াগোর ফ্রিকিক থেকে রডরিগো যখন গোল করে গেল, ট্রিপিয়েরদের উচিত ছিল তাকে নজরে রাখা। বাকি সময়টা অবশ্য ইংল্যান্ড রক্ষণ দারুণ খেলেছে। হ্যারি কেনদের ব্যর্থতায় সমতা ফেরাতে পারেনি। পিছিয়ে পড়ার ২ মিনিট পরেই সমতা ফেরাতে পারত ইংল্যান্ড। র‌্যাশফোর্ডের শট দারুণভাবে বাঁচায় স্পেন গোলকিপার ডি গিয়া। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের পর এইরকম একটা ম্যাচ দেখে মন ভরে গেল।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top