উৎপল চ্যাটার্জি: এজবাস্টনের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল যেন ম্যাঞ্চেস্টারের প্রতিচ্ছবি দেখছি। সেমিফাইনালের সূচনা পর্বে। প্রথম সেমিফাইনালে ভারতীয় ইনিংসের শুরুতে যেভাবে ঝড় তুলেছিল নিউজিল্যান্ডের বোলাররা, ঠিক তেমনই টসে হেরে অস্ট্রেিলয়ার বিরুদ্ধে ঝড় তুলে দিল ইংল্যান্ডের দুই জোরে বোলার। ক্রিস ওকস এবং জোফ্রা আর্চার। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে ম্যাঞ্চেস্টারে যেভাবে পিচের ব্যবহার করেছিল দুই কিউয়ি ফাস্ট বোলার ট্রেন্ট বোল্ট এবং ম্যাট হেনরি, ঠিক তেমনই। মাত্র ১৪ রানে ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চ এবং হ্যান্ডসকম্বকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে রীতিমতো কোণঠাসা করে দিয়েছিল ওকস এবং আর্চার। হুবহু মিল দেখতে পাওয়া গেল ভারত–নিউজিল্যান্ড ম্যাচের সঙ্গে।
ভারত–নিউজিল্যান্ড প্রথম সেমিফাইনালে ভারতকে পরে ব্যাট করতে নেমে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তাড়া করতে হয়েছিল ২৩৯ রান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে সেট করতে হল রানের লক্ষ্য। তফাত এখানেই। নইলে বেশ মিল খুঁজে পাওয়া গেল প্রথম সেমিফাইনালের সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের।
হ্যাঁ, ক্রিকেটীয় আলোচনার খাতিরে মনে হতেই পারে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ধোনির ইনিংসের সঙ্গে এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথের ইনিংসের সাদৃশ্য। তবে, মাথায় রাখতেই হয়, ধোনিকে কিন্তু ২৩৯ রান তাড়া করতে হয়েছিল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। যে কাজটা বেশ কঠিনই। কারণ, রান তাড়া করা তা যাই হোক না কেন, সবসময়ই কঠিন রান সেট করার থেকে। স্মিথকে রান সেট করতে হল এজবাস্টনে। সেটা ২২৩ হল, আবার েসটা ২৭০ হতে পারত। যেটা করবে সেটাই তাৎক্ষণিক সঞ্চয়। উল্টো দিকে ২৩৯ রান হোক আর ৩০০ রান হোক, রান তাড়া করা কঠিন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই স্মিথের কাজ সহজ ছিল ধোনির থেকে।
স্টিভ স্মিথের ইনিংসই অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা হলেও লড়াই করার জায়গা দিল। স্মিথ ইনিংস বিপদ থেকে টেনে তুলল অ্যারন ফিঞ্চদের। সঙ্গে অবশ্যই লড়াকু উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারির ব্যািটং। জোফ্রা আর্চারের বাউন্সারে থুতনি ফেটে যাওয়ার পরেও ঘাবড়ে যেতে দেখলাম না ক্যারিকে। ব্যান্ডেজ করে ব্যাট করল। ওর এবং স্মিথের জুটির ১০৩ রান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেটা নিশ্চয়ই বোঝা গেছে। মানতেই হবে ক্যারি অস্ট্রেলিয়া দলে ঢোকার পর থেকে দলের ব্যাটিং গভীরতা আগের থেকে অনেকটাই বেড়ে গেছে।  
অস্ট্রেিলয়া–ইংল্যান্ড মানেই ক্রিকেট মােঠ পুরনো শত্রুতা। ভারত–পাকিস্তানের মতোই। কেউ কাউকে সহজে ছেড়ে দেবে না এটাই দস্তুর। কিন্তু বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভেবেছিলাম ব্যাটের পাশাপাশি বোলিংয়েও বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতায় টইটম্বুর অস্ট্রেলিয়া লড়াই করবে। কোথায় সেই লড়াই? দেখতেই পেলাম না। আসলে বার্মিংহামে ক্লিক করল না অস্ট্রেলিয়ার সেই চিরাচরিত স্ট্র্যাটেজি। শুরু থেকেই মারতে শুরু করা। বিপক্ষের ওপরে চাপ তৈরি করা। এটা করতে গিয়ে অনেক সময় ক্লিক করে না। যদিও অতীতে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানেরা সফল হয়েছে। বিপক্ষকে চাপে রাখতে পেরেছে। এটাই তো অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডারের বৈশিষ্ট্য। বৃহস্পতিবার যা বুমেরাং হয়ে গেছে। উসমান খোয়াজার অভাব টের পাওয়া গেল।
আসল কাজটা করে চলে গেল ইংলিশ বোলাররা। ম্যাচের প্রথম বল থেকেই ওকস, আর্চাররা পাল্টা দাপট দেখিয়ে বোলিং করেছে। আর তাতেই কাবু হয়েছে অসি ব্যাটিং লাইনআপ। আমি তো অবাক ম্যাক্সওয়েলকে দেখে। গোটা বিশ্বকাপে প্রত্যাশানুযায়ী ব্যাটই করতে পারল না। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও হাতে অনেক ওভার পেয়েও পারল না। নিখঁুত লাইন–লেংথে অবিচল থাকল ইংল্যান্ডের বোলাররা। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা যে এখনও লেগ স্পিন ভাল করে খেলতে পারে না সেটা আবারও প্রমাণিত। আদিল রশিদের গুগলি ধরতেই পারল না অসি ব্যাটসম্যানরা! সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ সেমিফাইনােলর মতো ম্যাচে যে মাত্র ২২৩ রান তুলবে তা বোধহয় অতি বড় ইংল্যান্ড সমর্থকও ভাবেননি।
ঘটনা, পাল্টা চাপ না দিলে ইংল্যান্ডের দুই বিধ্বংসী ওপেনারের কাছে কোনও টার্গেট যে কিছুই নয় সেটা আবার প্রমাণ করে দিল। বিশ্বকাপে সত্যি যদি সবথেকে সফল ওপেনিং জুটির কথা বলতে হয় তাহলে জেসন রয়–জনি বেয়ারস্টো জুটির কথাই বলতে হবে। ওপেনিং পার্টনারশিপকে একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে চলে গেছে এই বিশ্বকাপে। মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সরা রুখতেই পারল না এই জুটিকে।

আউট দেওয়ার পর আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করছেন জেসন রয়। ছবি: এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top