সংবাদ সংস্থা, নিউ ইয়র্ক: মনের জোরের কাছে প্রতিকূল শব্দটা আগেও হেরেছে। হারল আরও একবার। সেরেনা উইলিয়ামস। দেখিয়ে দিলেন, খরচের খেরোর খাতায় তাঁর নামটা এত সহজে লিখে ফেলা যাবে না। বৃহস্পতিবার সেভাসতোভাকে ৬–৩, ৬–০ ফলে উড়িয়ে পৌঁছে গেলেন ইউ এস ওপেনের ফাইনালে। সময় নিলেন মাত্র ৬৬ মিনিট। এই নিয়ে ৯ বার ইউ এস ওপেনের ফাইনালে উঠলেন। এর আগে ছয়বার ইউ এস ওপেন খেতাব জিতেছেন ৩৬–এর সেরেনা। কিন্তু সেই ছয়বারের সঙ্গে এবারের ফাইনালে ওঠার তফাত অনেকটাই। মা হওয়ার পর এই প্রথম ইউ এস ওপেনের ফাইনালে। সামনে জাপানি বোমা নাওমি ওসাকা। যিনি জাপানের প্রথম মহিলা হিসেবে গ্র‌্যান্ড স্লামের ফাইনালে উঠে ইতিহাস লিখেছেন। ৬–২, ৬–৪ ফলে ম্যাডিসন কিসকে হারিয়ে। আমেরিকার টেনিস প্লেয়ার ম্যাডিসন গত বছর ইউ এস ওপেনের ফাইনালে উঠেছিলেন। তবে স্লোয়েন স্টিফেন্সের কাছে হেরে যান। 
নবমবার ইউ এস ওপেনের ফাইনালে উঠে ঘোর কাটছে না সেরেনার। বলেছেন, ‘হাসপাতালের বিছানায় শুয়েছিলাম। নড়াচড়া করার ক্ষমতা ছিল না। কোনও কিছুই নিজে নিজে করতে পারতাম না। এই অবস্থার মধ্যে দিয়ে কাটানোর এক বছরের মধ্যে আমি ইউ এস ওপেনের ফাইনালে!‌ তা–‌ও আবার পর পর দুটো টুর্নামেন্টের ফাইনালে!‌ সব কিছু অবিশ্বাস্য ঠেকছে। তবে এত তাড়াতাড়ি এই জায়গায় পৌঁছেছি যখন, তখন সামনের দিকেই তাকাতে চাই।’‌ উল্লেখ্য ক’‌দিন আগেই উইম্বলডনের ফাইনালেও খেলেছেন সেরেনা।

তবে কেরবারের কাছে হেরে যান। ২০১৫ ও ২০১৬ ইউ এস ওপেনে, পরপর দু’‌বারই সেমিফাইনালে হেরেছিলেন ২৩ গ্র‌্যান্ড স্লামের মালকিন। 
সপ্তমবার ইউ এস ওপেন খেতাব জিতলে, সেরেনা ছাপিয়ে যাবেন ক্রিস এভার্টকে (‌‌যিনি নিজেও ছয়বার ইউ এস ওপেন খেতাব জিতেছেন)‌‌। এটাই ছিল এতদিন সবচেয়ে বেশিবার ইউ এস ওপেন খেতাব জয়ের রেকর্ড। চব্বিশ নম্বর গ্র‌্যান্ড স্লাম খেতাব জিতলে সেরেনা অস্ট্রেলিয়ার মার্গারেট কোর্টের সবচেয়ে বেশি গ্র‌্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলবেন। 
এদিকে প্রথমবার গ্র‌্যান্ড স্লাম ফাইনালে ওঠার থেকেও, সেরেনার মুখোমুখি হবেন এটা ভেবেই ছটফট করছেন ২০ বছরের নাওমি ওসাকা। বলেছেন, ‘‌সেরেনাকে দেখেই তো আমি টেনিস খেলা শুরু করি। তাই ওর বিরুদ্ধে খেলার জন্য ছটফট করছিলাম। যখনই খেলতে খেলতে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, মনে করার চেষ্টা করি, এই পরিস্থিতিতে সেরেনা কী করত। সেটা ভেবেই খেলি। হ্যাঁ, একথা ঠিক এর আগে মেডিসনকে কখনও হারায়নি। ওকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছি, এটা ভেবেও ভাল লাগছে।’‌
এই ওসাকার বিরুদ্ধেই মিয়ামি ওপেনের প্রথম রাউন্ডে ৬–৩, ৬–২ হেরে যান সেরেনা!‌ ওই ম্যাচের কথা মনে করাতে সেরেনা বলেছেন, ‘‌আমি সেই সময় মোটেই সেরা ছন্দে ছিলাম না।’‌ এবার?‌ বদলা?‌ সেরেনা উত্তর দেননি। যা উত্তর দেওয়ার ফাইনালে কোর্টেই দিতে চান।

‌আবার ফাইনালে ওঠার হাসি সেরেনার। ইতিহাস রচনা করা ওসাকা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top