সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: ছোটবেলায় কার, কার কোলে উঠেছেন?‌ চাইলেই চট করে মনে করা মুশকিল। কিন্তু এই বয়সে কারও কোলে চড়ার সুযোগ পেলে কেমন লাগে, তা সোমবার বিলক্ষণ বুঝেছেন ঋষভ পন্থ। ৩৬ বলে অপরাজিত ৭৮ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতানোর পর যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, সতীর্থদের অনেকেই পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিলেন। কিন্তু দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর সামনে এসে, একগাল হেসে কোলে তুলে নেন তাঁকে!‌ ‘‌দাদা’‌–র কোলে চড়ে কেমন লাগছে?‌ ঋষভ পন্থ মুহূর্ত না অপেক্ষা করেই জানিয়েছেন, ‘‌দারুণ। বিশেষ অনুভূতি।’‌ ঋষভ এরপর নিজেই ওই মুহূর্তের ব্যাখ্যা করেন, ‘‌ম্যাচ শেষের পর আমি যখন বেরিয়ে আসছি, সবাই ভালবাসায় ভাসিয়ে দিচ্ছিল। তবে সৌরভ স্যর যখন কোলে তুলে নিল, উফ সে এক অদ্ভুত অনুভূতি!‌ কীভাবে ম্যাচটা শেষ করব, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম। কিন্তু ম্যাচটা সত্যিই যখন শেষ করলাম, তখন স্পেশাল তো লেগেইছে।’‌ 
খেলার পর মাঠে দাঁড়িয়ে তাঁর সামনে মাইক্রোফোন এগিয়ে দিয়েছিলেন পৃথ্বী শ। যাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেও খেলেছেন এই ম্যাচে। পৃথ্বীই জানতে চান ঋষভের কাছে, ‘‌নিজের ইনিংসটা নিয়ে কী বলবে?’‌ ঋষভ জবাব দেন, ‘‌অনুভূতিটা বিশেষ। তবে বেশি ভাল লেগেছে তোমার সঙ্গে জুটি বেঁধে মাঠে সময় কাটাতে। জানতাম, আমরা দু‌জনে ম্যাচটা বের করে আনতে পারব।’‌ 
বিশ্বকাপ দলে তাঁর ডাক না পাওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা অনেকে অনেক কথা বলেছেন। ১৫ জনের দলে নাম নেই দেখে তাঁর মনের মধ্যে কী হয়েছিল?‌ ঋষভ জানিয়েছেন, ‘‌যদি বলি, বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের বিষয়টা আমার মাথায় ছিল না, তা হলে মিথ্যে বলা হবে। তবে তারপরও আমি নিজের খেলায় মন দিয়েছি। দেখুন, সেটা কাজেও লাগল। জয়পুরের পিচটা বেশ ভাল ছিল। আমি সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছি।’‌ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিশেষত্ব কী?‌ তা নিয়েও ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ঋষভ, ‘‌আমাদের দলের বিশেষত্ব হল, সবাই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।’‌
ঋষভ যখন এত কথা বললেন, তখন তাঁর খেলা দেখে ‌মুগ্ধ সৌরভ গাঙ্গুলি এবং রিকি পন্টিং। সৌরভ মাঠে ঋষভকে কোলে নিয়েই বুঝেছিলেন তিনি কতটা খুশি তরুণের খেলায়। পরে ট্যুইট করেন, ‘‌ঋষভ পন্থ তুমি সত্যিই দারুণ!‌’ পরে সৌরভ আরও যোগ করেন, ‘‌ঋষভ ম্যাচ উইনার। এই ধরনের প্লেয়ারদের খেলার ধরন বদলানোর কথা বলা ঠিক নয়। হয়তো চার, পাঁচটা ম্যাচ খারাপ খেলতে পারে। তবে নিজেদের দিনে এদের রোখা যাবে না। একা হাতেই ম্যাচ জিতিয়ে আনবে। এ কারণেই ঋষভের মতো প্লেয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’‌ 
দিল্লির কোচ রিকি পন্টিং বলেছেন, ‘‌জানি, বিশ্বকাপে ডাক না পেয়ে ও কতটা হতাশ। আমি তো বলব, ভারত ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইংল্যান্ডের পরিবেশে মাঝের ওভারগুলোতে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারত। খুব দেখার ইচ্ছে ছিল, ও বিশ্বকাপের সময় কী করে। তবে আগেও বলেছি, আবার বলছি, এই ছেলে তিন–চারটে বিশ্বকাপ খেলার ক্ষমতা রাখে। ঋষভ সত্যিই অন্য গ্রহের। ও সত্যি অন্য ধরনের প্রতিভা। যেমন লড়াকু। তেমনই জেতার ইচ্ছে তীব্র।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top