সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে সম্পর্ক মোটেই ভাল নয়। ভারতের বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর থেকে সৌরভকে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেছে প্রচারমাধ্যম। তাঁকেও করেছে। সপ্তাহখানেক আগে বিষয়টিকে ‘‌নিছক জল্পনা’‌ বলে উড়িয়ে দেন সৌরভ। এবার রবি শাস্ত্রী বললেন, ‘‌সৌরভকে শ্রদ্ধা করি। যাঁরা  সেটা মানেন না, তাঁদের কথায় কান দিই না।’‌ 
ভারতের কোচ এখানেই থামেননি। ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘‌আসলে সৌরভ–শাস্ত্রীর সম্পর্ক মিডিয়ার কাছে চাটমশলা, ভেলপুরির মতো। নুন–লঙ্কা দিয়ে মশলাদারভাবে পেশ করছে। ক্রিকেটার হিসেবে সৌরভ যা করেছে, তার জন্য ওকে শ্রদ্ধা করি। ম্যাচ গড়াপেটায় বিধ্বস্ত যখন ভারতীয় ক্রিকেট, সেই সময় দলকে টেনে তুলেছে। এই কারণে ওকে শ্রদ্ধা করতেই হবে। যাঁরা সেটা করেন না, তাঁদের পাত্তাই দিই না।’‌ 
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁেক ট্রোল করা হয়েছে । যা নিয়ে কোহলি মুখ খুলেছিলেন। এতদিন চুপ থেকে এবার মুখ খুলেছেন শাস্ত্রী। বলেছেন, ‘‌সোশ্যাল মিডিয়া কী?‌ আর ট্রোল ব্যাপারটাই বা কী?‌ অনুরাগীদের জন্য পোস্ট করি। তাঁরা উত্তর দেন। তাতেই কৃতজ্ঞ। আমাদের দেশে ১২০ কোটি জনতা। যাঁদের কোনও কাজ নেই, তাঁরাই বেশি কথা বলেন। আমি নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালবাসি।’‌ 
ভারতীয় কোচের চাকরিটা যে কতখানি চাপের তা নিয়েও ‘‌ইন্ডিয়া টুডে’‌–র অনুষ্ঠানে মুখ খুলেছেন। বলেছেন, ‘‌চাপ তো অবশ্যই আছে। ভারতীয় দলের কোচ বলে কথা। নিজের কাজের জন্য আমি জবাব দিতে বাধ্য। জেনে রাখুন কোহলি আর আমি দু’‌জনেই হার শব্দটাকে অপছন্দ করি।’‌ ‌‌
ভারত বিশ্বের ১ নম্বর দল হবে, তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়েছিল। শাস্ত্রী বলেছেন, ‘‌ভারত যখন সাতে ছিল, মনের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, ১ নম্বর হবেই। কিন্তু দু’‌বছর আগে এটা শুনে লোকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিল, স্প্যানিশ বা ফরাসী ভাষায় কথা বলছি নাকি?‌ ভুলে যাবেন না, আমারও নিজের কথাটা বলার অধিকার আছে।’‌ 
শাস্ত্রী কথা বলেছেন ধোনি, ঋষভ এবং রাহুলকে নিয়েও। ধোনি কি টি২০ বিশ্বকাপে খেলবেন?‌ শাস্ত্রীর জবাব, ‘‌ধোনির ছুটিটা যুক্তি সঙ্গত। টি২০ ক্রিকেট ধোনির পক্ষে আদর্শ। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলার মতো জায়গায় কি ও রয়েছে?‌ ওর শরীরে কি দেবে?‌ উত্তরটা ধোনিই দিতে পারবে।’‌ লোকেশ রাহুলকে কিপার হিসেবে মাথায় রাখছেন শাস্ত্রী। বলেছেন, ‘‌রাহুলকে অপশান হিসেবে ভাবতেই পারি। কারণ কার কোনটা শক্তি সেটা তো দেখতেই হবে।’‌ ঋষভ পন্থকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। শাস্ত্রীর মতে, ‘‌ঋষভকে শান্ত, স্থির হতে হবে। যদি তিন মাস বা ছয় মাস ওকে দেখা না যায়, তা হলে লোকে যেন মনে না করে ঋষভের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। দরকার হলে ও আরও শক্তিশালী হয়েই ফিরবে। ওকে সময় দিন। পাঁচ বছর পর আগুন না ঝরালে তখন মন্তব্য করবেন।’‌   
 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top