দেবাশিস দত্ত, ম্যাঞ্চেস্টার : ১৯৮৩–‌র বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে ২০১১–‌র চ্যাম্পিয়ন দলের তফাত কী কী?‌ এরকম একটা প্রশ্ন করা হয়েছিল সুনীল গাভাসকারকে। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন দুটো। ‘‌প্রথম তফাত হল, ’‌৮৩–‌র বিশ্বকাপজয়ী কপিলদেবের ভারত অনেক বেশি সুদর্শন ছিল। সেই দলে হ্যান্ডসাম ক্রিকেটারের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি, ২০১১ বিশ্বকাপে খেলা ক্রিকেটারদের চেয়ে।’‌ উত্তর শুনে যখন আপনি হাসছেন, তখন তিনি কিন্তু আরও সিরিয়াস, ‘অনেস্টলি স্পিকিং। আমাদের দলে সুন্দর দেখতে ক্রিকেটারের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল।’‌ আবার যখন হাস্যরোল শুরু হল, তখন তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘আমাদের আমলে কিন্তু বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা হয়নি। শিডিউলই এমন ছিল।’‌
ভারত প্রথম পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল ’‌৯২–এ। সিডনিতে সেবার আজহারউদ্দিনের ভারত হারিয়ে দিয়েছিল ইমরানের পাকিস্তানকে। তবে সেবার শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তানই। এবং সেই থেকেই একটা মজা চালু আছে ক্রিকেট মহলে— বিশ্বকাপ জেতো অথবা না জেতো, পাকিস্তানকে হারাতেই হবে। যেন পাকিস্তানকে হারানোটাই বিশ্বকাপ জেতা। এবার কিন্তু ভারতীয় সমর্থকদের দাবি দুটো। পাকিস্তানকে হারাও এবং ট্রফি জেতো। (‌সৌজন্য:‌ পুলওয়ামা।)
মোটেই ছন্দে নেই পাকিস্তান। তবু পার্শ্ববর্তী দেশের নির্বাচক সমিতির চেয়ারম্যান বলে গেলেন এদিন এখানে নেট প্র‌্যাকটিসের পর, ‘‌ফর্মে ফিরতে কতক্ষণ লাগে!‌ প্রচুর মেহনত করেছে গোটা দল। রবিবার সেই দিন, যেদিন কিনা গোটা দলকে ভাল খেলতে হবে।’‌ ভাল খেলার তাড়না এতটাই যে, প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে পাকিস্তান শুক্রবার সকালেই অনুশীলনে নেমে পড়েছিল। আমরা যখন বাসের টিকিট ক্যানসেল করে, পুরো টাকাটা গচ্চা দিয়ে ট্রেন ধরে ম্যাঞ্চেস্টার পিকাডিলিতে পৌঁছলাম, তখন বৃষ্টিতে ভাসছে এ শহর। যেন নটিংহ্যাম থেকে গায়ে–‌মাথায় বৃষ্টি নিয়ে পৌঁছতে হল। বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছেই। খারাপ আবহাওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তান অনুশীলন চালিয়ে যেতে চাইছিল। মাঠে প্র‌্যাকটিস উইকেট ঢাকা সাদা ত্রিপলে। গোটা মাঠ ভাসছে। গন্ধে গন্ধে ইনডোর স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর ব্যাট–‌বলের মিষ্টি টুং–‌টাং শব্দ। কোচ মিকি আর্থারকে দেখলাম ওয়াইড অফ দ্য ক্রিজ থেকে ঘনঘন ইয়র্কার ডেলিভারি দিতে বলছেন হাফিজ, ইমাম, বাবরকে প্র‌্যাকটিস দিতে। বুমরাকে সামলানোর জন্য। পাশাপাশি চারটি নেটে চলছিল অনুশীলন। ৫০ ওভার ব্যাট করতে হবে। ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে হবে। এই লক্ষ্যে শুরুতেই ওয়াহাব রিয়াজ এবং মহম্মদ আমিরকে ব্যাটিং করিয়ে নেওয়া হল। সানিয়া মির্জার স্বামী শোয়েব মালিককে দেখলাম অনেক ওজন কমিয়ে ফেলেছেন। কেন তঁাকে এত নীচের দিকে ব্যাট করানো হচ্ছে, এটা নিয়ে গুঞ্জন, ফিসফিসানি আছে দলে। নির্বাচক সমিতির চেয়ারম্যান ইনজামাম নেটে এসে সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বললেন। পরে কোচ ও ক্যাপ্টেনকে নিয়ে পিচ 
দেখতেও গিয়েছিলেন। পাকিস্তান দলের অনুশীলনে তৎপরতা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু ইমরান–আক্রাম–ওয়াকারদের আমলে যে টগবগানিটা ছিল, সেটা যেন একটু কম। এমনকী, জার্সির রংয়ে ঔজ্জ্বল্য গিয়েছে কমে। অনুশীলনে যে জার্সি গায়ে ছিল সরফরাজদের, সেটা অনেকটা কালচে সবুজ। পুরনো শ্যাওলার মতো রং। মিডিয়া ম্যানেজার রাজা জানালেন, ‘ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ডেকে গোটা দলকে শুভেচ্ছা এবং উদ্বুদ্ধ করার পর ইমরান খান আর ফোন করেননি। হয়তো করবেন শুক্র অথবা শনিবার। রবিবার সকালেও হতে পারে। তঁার রাজনৈতিক জীবনের জন্য রবিবার পাকিস্তানের জেতা জরুরি।’‌ জানতে চেয়েছিলাম, এককথায় যদি বোঝাতে হয়, ইমরান সেদিন কোন কোন কথা বলেছিলেন?‌ রাজা বললেন, ‘‌খাস কুছ নেহি। শুধু জোর দিয়েছিলেন, আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই খেল বিশ্বকাপে।’‌ তাহলে কি রবিবার প্রথম বল থেকেই যুদ্ধ–‌যুদ্ধ মেজাজ এনে ফেলবেন আমির, ওয়াহাবরা?‌
মাঝ বিকেলে নটিংহ্যাম থেকে বিরাটরাও পৌঁছে গেলেন এ শহরে। সকালেই পৌঁছে গিয়েছিলেন ঋষভ পন্থ। আলাপ–আলোচনা, শলাপরামর্শ শুরু হয়ে গিয়েছিল বৃষ্টিতে নটিংহ্যামে ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর থেকেই। এখনও চলছে। বিরাট কোহলি বৃহস্পতিবারই বলেছিলেন, ‘‌ভারত–‌পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্ব আমরা নতুন ক্রিকেটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। বিশেষ করে এর আগে ভারত–‌পাকিস্তান ম্যাচে যারা খেলেনি, তাদের কাছে রবিবারের ম্যাচটা তো সত্যিই বড় ম্যাচ।’‌ তা আর বলতে!‌

 

ছবি: রনি রায়

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top