আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বিশ্বকাপ থেকে ভারত ছিটকে যেতেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হেড কোচ রবি শাস্ত্রী নিজের দায় এড়িয়ে যেতে পারছেন না। একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে শাস্ত্রীকে। বিরাট কোহলির সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতে ২০১৭ সালে কোচের পদ থেকে সরে যান অনিল কুম্বলে। দায়িত্ব দেওয়া হয় রবি শাস্ত্রীকে। তারপর তিনি দু’‌বছর সময় পেলেন। কিন্তু মিডল অর্ডার গুছিয়ে নিতে পারলেন না কেন?‌ এই দুই বছরে যুবরাজ সিং, মণীশ পান্ডে, অজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, শ্রেয়স আইয়ার ও অম্বাতি রায়ডুকে মিডল অর্ডারে খেলানো হয়েছে। বাদও দেওয়া হয়েছে। যদিও যুবরাজ ও রায়না নিজেদের সেরা সময় পিছনে ফেলে এসেছেন। যুবি তো অবসরও নিয়ে ফেলেছেন। বাকিদের মধ্যে রায়না ও পান্ডেকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিশ্বকাপের ঠিক একবছর আগে থেকে অম্বাতি রায়ডুকে চার নম্বরে টানা খেলানো হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। 
এটা ঘটনা গত তিন বছরে ভারত বিশ্ব ক্রিকেটে যে দাপট দেখিয়েছে, তার মূল কারণ ধাওয়ান, রোহিত ও বিরাটের চওড়া ব্যাট। সঙ্গে জসপ্রীত বুমরার মতো বোলার। আবিষ্কার বলতে দুই রিস্ট স্পিনার কুলদীপ ও চাহালকে তুলে আনা। কিন্তু চার ও পাঁচ নম্বর জায়গায় নির্দিষ্ট কাউকে ভাবাই হয়নি। অধিনায়কের আগে বিশ্বাস ছিল ইংল্যান্ডে মিডল অর্ডারে রাহানে ভাল বিকল্প হবেন। কিন্তু ২০১৮–র শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই আশ্চর্যজনকভাবে একদিনের দল থেকে বাদ পড়ে যান রাহানে। 
বিশ্বকাপের ঠিক একমাস আগে বিজয় শঙ্করকে মিডল অর্ডারে খেলানোর ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। তার উপর তিনি পেস বোলিংটাও করতে পারেন। লিস্ট এ ক্রিকেটে বিজয় শঙ্করের ব্যাটিং গড় মাত্র ৩৬.‌৩২। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক ব্যাটসম্যান রয়েছে। যাদের গড় বিজয়ের থেকে ভাল। তাছাড়া মাত্র ৯টি একদিনের ম্যাচ খেলেই বিজয় সুযোগ পেয়ে যান বিশ্বকাপ দলে। এই ৯টি ম্যাচে বিজয়ের সর্বোচ্চ রান ৪৬। বিশ্বকাপে চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ার আগে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছেন বিজয়। তবে যে তিনটি ম্যাচ খেলেছেন তাতে বোঝা যায়নি তিনি মিডল অর্ডারে ভরসা দিতে পারবেন। 
তরুণ, প্রতিভাবান ঋষভ সুযোগ পান ধাওয়ান ছিটকে যাওয়ার পর। বয়স ২০। বিশ্বকাপের আগে মাত্র পাঁচটি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচে ঋষভ করেছেন ৩২, ৪৮, ৩২। 
এই সিদ্ধান্তগুলো অবাক করার মতো হলেও এতদিন প্রশ্ন ওঠেনি। বিশ্বকাপে মিডল অর্ডার ব্যর্থ হওয়ার পর কিন্তু প্রশ্ন উঠবে। এটা ঘটনা মণীশ পান্ডে ও রাহানে যথেষ্ট ভাল ব্যাটসম্যান হলেও জাতীয় দলে থেকে গেলেন ব্রাত্য। 
শাস্ত্রীকে নিয়ে আরও প্রশ্ন আছে। ধোনির ঠিকঠাক ব্যাটিং অর্ডার তিনি ঠিক করতে পারেননি। কিউয়ি ম্যাচে চারে কেন ধোনি নয়। এ প্রশ্ন উঠে গেছে। বিদেশে কঠিন পরিস্থিতিতে সুইংয়ের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা ভারতীয়রা অর্জন করতে পারেনি। যদিও সুযোগ যথেষ্ট মিলেছে। তাহলে হেড কোচের ভূমিকাটা কী?‌ 
২০১৫ বিশ্বকাপে টিম ডিরেক্টর ছিলেন শাস্ত্রী। তারপর ২০১৭ থেকে পূর্ণ দায়িত্বে। এত সময় পেলেও শাস্ত্রীকে কিন্তু ব্যর্থই বলতে হবে। কিউয়িদের বিরুদ্ধে ধোনি নামলেন সাতে। দীনেশ কার্তিক বিশ্বকাপে যথেষ্ট সুযোগ না পেয়েও চলে গেলেন পাঁচে। একমাত্র ধারাবাহিকভাবে সফল রোহিত, বিরাট ও কিছুটা ধাওয়ান। কিছু ম্যাচে হার্দিক খেলেছেন। আর সেমিফাইনালে জাদেজা, ধোনি। বাকিরা সফল কোথায়?‌ কিংবা ধারাবাহিকভাবে মিডল অর্ডার খেলতে পারল কই?‌ বোলিং নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য থাকবে না। 
দেশে ফেরার পর এই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে শাস্ত্রীকে। কিন্তু বিসিসিআই সাহস দেখাবে তো?‌ ‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top