দেবাশিস দত্ত, ম্যাঞ্চেস্টার: ডাকাবুকো বিরাট কোহলি খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন ভারত–পাক ম্যাচের আগে। ‘‌দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়াকে যে ছন্দে থেকে হারিয়েছি, তা ধরে রাখতে পারলে পাকিস্তানকেও হারাব। জানি না, আবহাওয়া দপ্তর থেকে কী পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। আমরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলব। নিজেদের শক্তি নিয়ে খেলতে পারলে পাকিস্তান কেন, দুনিয়ার যে কোনও দলকে আমরা হারাব।’‌ উত্তেজনা নয়। আত্মবিশ্বাস আর প্রত্যয় মিলেমিশে একাকার।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিরাট বললেন, ‘‌জানি না কতক্ষণ খেলা হবে। তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। পাকিস্তান দলে নতুন কারা আছে, তারা কেমন খেলে, এসব নিয়ে ভাবছি না। আমরা সবাই নিজেদের শক্তিতে শান দিয়ে রাখছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুলো মেলে ধরতে পারলে জয় নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে না। আবহাওয়া তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই!‌ আবহাওয়ার ওপর  প্রথম এগারো বেছে নেওয়া নির্ভর করবে। উইকেট দেখেছি। কিন্তু টসের সময় আকাশ মেঘলা থাকলে বাড়তি একজন জোরে বোলার খেলাতে পারি।’‌ 
বিপক্ষ পাকিস্তান বলে কি আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছে ভারত?‌ বিরাটের জবাব, ‘‌পাকিস্তান বলে আলাদা ভাবনাচিন্তা করিনি। আমরা চাই পেশাদার মানসিকতা নিয়ে সব ম্যাচ খেলতে। পেশাদার দল বিশেষ কোনও দল নিয়ে ভাববে না। আমাদের ড্রেসিংরুম একেবারে বিন্দাস। যথাসম্ভব পরিবেশকে হালকা রাখার চেষ্টা করছি। এমনকী নতুনদের সামনেও এই ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বুঝতে দিচ্ছি না।’‌
পাকিস্তান দল নিয়ে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। তবে তা নিয়েও বিরাটের শিবির ভাবছে না। তাঁর কথায়, ‘ক্রিকেট খেলার একটা পদ্ধতি আছে, ব্যাকরণ আছে। ভাল কভার ড্রাইভ বা একটা ভাল ডেলিভারি যে কোনও সময় যে কোনও দলের যে কোনও বোলারের হাত থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তখন ব্যাকরণ প্রয়োগ করতে হয়। সেদিন খারাপ খেললে হারতে হবে। কিন্তু যে দল মোটামুটি নিজেদের পদ্ধতি অনুসরণ করে চলেছে, বিপক্ষ বোলারদের যথাযথ সম্মান দিয়ে খেলেছে, তাদের ব্যর্থ হওয়ার কথা নয়। বলা হচ্ছে, রবিবারের লড়াইটা নাকি বিরাট কোহলি বনাম মহম্মদ আমির। এটা নিয়ে আমি এমন কিছু বলব না, যাতে টিআরপি বেড়ে যায়। রাবাডা সম্পর্কে যা বলেছি, আমির সম্পর্কেও তাই বলছি। এই ধরনের প্রচারে মন্তব্য করে সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে চাই না। নিজের যোগ্যতায় বিশ্বাস রাখছি। ভাল বোলারদের সম্মান দিয়ে নিজে যা জানি, সেটা মাঠে প্রয়োগ করার চেষ্টা করে থাকি। এটাই আমার জীবনদর্শন।’‌
একাহাতে দলকে জেতাতে কেমন লাগে? বিরাট মানলেন সেই তত্ত্ব, ‘‌মীরপুরে পাকিস্তানকে হারানোর দিন রোহিত, ধোনি, সুরেশ রায়না ভাল খেলেছিল। শচীন তেন্ডুলকার শুরুতে ভাল এগোচ্ছিল। তো আমি একা জেতালাম কোথায়?‌ কলকাতায় টি–‌২০ ম্যাচে ধোনির সঙ্গে আমার লম্বা পার্টনারশিপ হয়েছিল। একা তো জেতানো যায় না। সেটা আমি মাথায়ও রাখি না। খেলা আসে, চলে যায়। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলাটা শেষ খেলা নয়। আরও খেলতে হবে। তাহলে নিজেকে বা দলকে চাপে ফেলতে যাব কেন?‌ আসল ব্যাপার মানসিক দিক থেকে নিজেদের চাঙ্গা রাখা। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’‌
ভারত–‌পাক ম্যাচে টেনশন এবং মজার ঘটনা? বিরাট বললেন, ‘‌২০০৯ সালে সেঞ্চুরিয়নে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। যুবরাজ চোট পাওয়ায় আমাকে নিয়ে যাওয়া হয়। একটা বাজে শটে আউট হই। ভোর ৬টা পর্যন্ত জেগে ছিলাম। নিজেকে শুধু বলে যাচ্ছিলাম, এ কী করলাম!‌’‌ দ্বিতীয়:‌ ‘‌মোহালিতে ভারত–পাক ম্যাচে আফ্রিদি এবং ওয়াহাব রিয়াজের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছিল। এখানে বলতে পারব না, কী কী বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তবে আমি সেগুলো শুনে খুব হেসেছিলাম।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top