সৌমিত্র কুমার রায়: বন্যার গ্রাসে কেরালা। বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক মানুষ ঘরছাড়া ছিল। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সেখানেই মানবিকতার নজির রাখলেন ভারতীয় ফুটবল দলের তারকা আনাস এডাথোডিকা। জিপ গাড়িতে করে গ্রাম ঘুরে ঘুরে ত্রাণ সামগ্রী বিলি করেন। যা দেখে কেরালার মল্লপুরমের অন্যান্য ফুটবলারও যোগদান করেন তাঁর সঙ্গে। 
আনাসের মানবিকতার ছবি দেখে মুগ্ধ গ্রামবাসীরা। ত্রাণ সামগ্রী বিলি করার পাশাপাশি বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর সাফাই অভিযানেও হাত লাগান আনাস। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কালো টি–শার্টটি কাদা আর জলে মাখামাখি হয়ে অন্য রং নিয়েছে। মল্লপুরম হল তঁার জন্মস্থান। এখানেই বেড়ে ওঠা। সেখানকার মানুষদের জন্য এই কাজে নিজেকে শামিল করতে পেরে কৃতজ্ঞ আনাস। বরাবরই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। কেরালা থেকে খবরটি পাওয়ার পর তঁার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে অস্বীকার করেন। তারপর বলেন, ‘আপনাকে কে বলল?’ একটু থেমে জুড়লেন, ‘আমি সবাইকে মোবাইলে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিলাম। ছবি তুলে মানুষের সেবা করতে পছন্দ করি না। মন থেকে এসেছে, তাই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সাহায্য করেছি। বন্যায় ভয়াবহ অবস্থা হয়েছিল। খারাপ সময়ে মানুষের পাশে দঁাড়িয়েিছ। এর বেশি কিছু নয়।’
মানুষের আপদে–বিপদে পাশে থাকতে আনাস বরাবরই পছন্দ করেন। জাতীয় দলের সতীর্থদের সঙ্গে গল্প করে জানা গিয়েছিল, ভারতের হয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে নানা জায়গায় গিয়ে দান–ধ্যান করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ তুলতেই হেসে ফেললেন আনাস। বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবাকে দেখে এসব শিখেছি। বাবা এটাও বলতেন, মানুষকে সাহায্য করে তা নিজে মুখে বলবে না। মানুষ যখন তোমার কৃতকর্মের প্রশংসা করবে, সেটাই হবে প্রাপ্তি।’ জাতীয় দলের সতীর্থ গুরপ্রীত সিং সান্ধু ‘অর্জুন’ পুরস্কার পেতে চলেছেন। যে খবরে উচ্ছ্বসিত আনাস। বলেন, ‘গুরপ্রীত পাজি এই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে দারুণ খেলছে। জাতীয় দলে তিন কাঠির তলায় ও থাকা মানে ডিফেন্ডারদের কাজ অনেকটা হালকা হয়ে যাওয়া। খুব খুশি। শুভেচ্ছা জানাই। আগামী দিনে আরও সাফল্য পাক। দেশের মুখ উজ্জ্বল করুক।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top