‌আজকালের প্রতিবেদন: সৃঞ্জয় বসু এবং দেবাশিস দত্তর পদত্যাগপত্র গৃহীত হল না মোহনবাগানে। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে সৃঞ্জয় এবং দেবাশিস ক্লাবের সব পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, সেই ক্লাব সচিব অঞ্জন মিত্র আশাবাদী সব ভুলবোঝাবুঝির অবসান হবে এবং দুজনেই আবার ক্লাবে যোগ দেবেন।
সোমবার সৃঞ্জয় এবং দেবাশিস অভিযোগ করেন, সচিবের সঙ্গে কাজ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এরপর মঙ্গলবার বিকেলে ক্লাবে চলে আসেন অঞ্জন। কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসেন। অঞ্জন জানান, সংবিধান মেনে ‘‌রেজলিউসন বাই সার্কুলেশন’‌–‌এর মাধ্যমে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই বৈঠকে দুই পদত্যাগী ছিলেন না। ফুটবল সচিব সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, মাঠ সচিব তপন বন্দ্যোপাধ্যায়–‌সহ বাকিরা সবাই ছিলেন। সদস্য সমর্থকদের মধ্যে বিশাল উৎসাহ ছিল। সোমবার কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে সৃঞ্জয় এবং দেবাশিস যখন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছেন, তখন সেখানে শুধু সাংবাদিকরা ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার মোহনবাগান মাঠে ভিড় উপচে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকের পর সত্যজিৎ চ্যাটার্জি ও বাবুন ব্যানার্জিকে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অঞ্জন। 
প্রথমেই সচিবের কাছে জানতে চাওয়া হয় সহ–‌সচিব ও অর্থ সচিবকে কি অনুরোধ করা হচ্ছে পদত্যাগপত্র ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য?‌ অঞ্জন বলেন, ‘‌আমরা এই পদত্যাগ গ্রহণ করছি না। আমরা এটা ওঁদের জানিয়েও দিচ্ছি। ওঁদের সঙ্গে কথা বলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকব। সেখানেই ওঁদের বক্তব্য শুনব আমরা।’‌ কিন্তু আজই এগজিকিউটিভ কমিটির বৈঠক ডাকা হল না কেন, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘‌সেই সময় ছিল না। যেহেতু সামনেই সুপার কাপ, তাই আরও কাজ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা এই সমস্যা মেটানোর জন্য অযথা সময় নষ্ট করতে চাইনি। প্রথমেই ওঁদের পদত্যাগ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাকিটা নিয়ম মাফিক এগোবে।’‌
দুজনেই যে আবার ক্লাবে ফিরবেন, সে ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে অঞ্জন বলেন, ‘‌এত বছর ধরে ওঁদের সঙ্গে কাজ করেছি, সহযোগিতা পেয়েছি। আমার সঙ্গে ওঁদের কোনও বিরোধ নেই। কাউকে আঘাত করিনি। কেন ওঁরা এরকম করলেন, আমার কাছে পরিষ্কার নয়। চেষ্টা করব যাতে সব ভুলে ওঁরা আবার একসঙ্গে ক্লাবে এসে কাজ করেন। আমরা আশাবাদী।’‌
এরপরই সচিবকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়িয়েছেন সৃঞ্জয় ও দেবাশিস। অভিযোগ, আইএফএ–‌র গভর্নিং বডিতে ৪ বছর ধরে না যাওয়া, মোহনবাগানের যে কোম্পানি গঠিত হয়েছে, তার চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও বোর্ড মিটিংয়ে নিয়মিত না যাওয়া এবং ক্লাবের ব্যালান্স শিটে ঠিক সময়ে সই না করা। এগুলো নিয়ে অঞ্জন বলেন, ‘‌ধীরেন দে যখন গভর্নিং বডিতে ছিলেন, তখন তিনি সেখানে না গিয়েও বেঙ্গল ক্লাবে নিয়মিত আইএফএ সচিব, সভাপতির সঙ্গে বসতেন। আসল হল সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা। মানছি যেতে পারিনি। অসুস্থ ছিলাম। এখন সুস্থ হচ্ছি। আইএফএ–‌এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। আর বোর্ড মিটিংয়ে সব সময় যাওয়ার দরকার পড়ে না। কাগজে কলমে হয়ে যায়। ব্যালান্স শিটেও ঠিক সময়ে সই করেছি। মোটেই পড়ে ছিল না।’‌ 
সৃঞ্জয় এবং দেবাশিস নির্বাচনে লড়বেন না বলে জানিয়েছেন। অঞ্জন প্রথমে বলেন, ‘‌কারও জন্য কিছু আটকে থাকে না’‌। পরক্ষণেই বলেন, ‘‌কে নির্বাচনে লড়বে, সেটা সময়ই বলবে। নির্বাচন ঠিক সময়ে হবে। যেভাবে এতদিন ধরে টুটু বসু, সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্ত যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করেছেন, সেভাবে ওঁদের দেখতে চাই।’‌‌
শুধু দেবাশিসের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে অঞ্জন বলেন, ‘‌গতকাল ফোন করেছিলাম। কেউ ফোন ধরেননি। আজ দেবাশিসের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমার কাছে পরিষ্কার নয়, ঠিক কী হয়েছে। মনে হয়নি এমন কিছু ভুল করেছি, যাতে ওদের অসম্মান হয়েছে। ওঁরা বলেছেন ‘‌দেখছি’‌। সময় চেয়েছেন। কার্যকরী কমিটিতে আশা করি আসবেন।‌’‌ 
সুপার কাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে অঞ্জন বলেন, ‘‌কোচ, ফুটবলারদের ওপর এই আঁচ পড়তে দেব না। মোহনবাগান সুপার কাপে খেলবে। এখনও ৩ কোটি টাকার ঘাটতি। অভাবের সংসারে অনেক সময় সমস্যা হয়।’‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top