‌আজকালের প্রতিবেদন—ক্লাবের সম্ভাব্য নতুন ইনভেস্টার স্ট্রিমকাস্টের ব্যাপারে বিশদভাবে খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হল বিশ্বের নামী কোম্পানি ডেলয়েটকে। বৃহস্পতিবার সাড়ে তিন ঘণ্টার বোর্ড মিটিংয়ের নির্যাস এটাই। ডেলয়েট তাদের রিপোর্ট জমা দিলে স্ট্রিমকাস্টের সঙ্গে মৌ সই বা চুক্তি করার প্রশ্ন আসবে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে বাগান সচিব অঞ্জন মিত্রর দাবি মতো ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মৌ সই বা চুক্তি কোনওটি সম্ভব হচ্ছে না। এদিন মিটিংয়ে বোর্ড সদস্যদের মধ্যে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব সরাসরি প্রকাশ না পেলেও আলোচনা শেষে প্রচারমাধ্যমের সামনে তুমুল বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন অঞ্জন মিত্র গোষ্ঠীর নতুন কার্যকরী কমিটির সদস্য চিন্ময় চ্যাটার্জি ও কোম্পানির কর্মী ইমরান। এতে ক্লাবের প্রশাসনিক হাল যে কী পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বলাই বাহুল্য। বুধবার ইনভেস্টার হিসেবে স্ট্রিমকাস্টের নাম ঘোষণা করেছিলেন মোহনবাগান সচিব অঞ্জন মিত্র। কোম্পানি বোর্ডে থাকা বাকি ডিরেক্টারদের মধ্যে সৃঞ্জয় বসু ও দেবাশিস দত্ত বলেছিলেন, তাঁরা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বোর্ড মিটিং হলে সেখানে সব জেনে যা বলার বলবেন। এটা অঞ্জনের কানে গিয়েছিল। তাই বৃহস্পতিবার বিকেলে তড়িঘড়ি বোর্ড মিটিং ডাকেন বাগান সচিব। এদিনের ক্লাবে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে হাজির ছিলেন বোর্ডের পাঁচ সদস্য। যার মধ্যে অন্যতম সভাপতি স্বপন সাধন বসু। এছাড়াও সচিব অঞ্জন মিত্র, সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্ত ও সোহিনী মিত্র। এদিন সভায় স্ট্রিমকাস্ট কোম্পানির পক্ষে কথা বলতে ডাকা হয়েছিল কল্যাণ চৌবেকে। পরে সভা শেষে বাগান সভাপতি স্বপন সাধন বসু বলেন, ‘নামী কোম্পানি ডেলয়েটকে নতুন ইনভেস্টার সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত হয়েছে সভায়। এর আগে বার্ষিক সাধারণ সভায় অঞ্জন বলেছিল, বাগানকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি করার কথা ভাবছে। সেইমতো পোস্টারও পড়েছিল। আমি তখন অঞ্জনকে বলি স্পনসর পেলে তাদের কী দিবি পাবলিক লিমিটিড কোম্পানি করে বাজারে শেয়ার ছাড়লে?‌ বাগানে নতুন স্পনসর বা ইনভেস্টার এলে ক্লাবের ভাল। সহযোগিতা করতে কোনও অসুবিধা নেই। নির্বাচনী লড়াইয়ের সঙ্গে এটাকে গুলোলে চলবে না।’‌ অঞ্জন মিত্রর মতো আপনারাও কি স্পনসর খুঁজছেন?‌ বাগান সভাপতির ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘খুঁজছি না কে বলল?‌ এতো শুধু ট্রেলার দেখছেন, মেন ফিল্ম আভি বাকি হ্যায়।’‌ সচিব অঞ্জন মিত্রর কাছে প্রশ্ন ছিল, এই ধরনের খোঁজ খবরে ইনভেস্টার স্ট্রিমকাস্টের সঙ্গে চুক্তি কি ভেস্তে যেতে পারে?‌ খানিকটা অসহায় ভাবে অঞ্জন বলেন, ‘ঠিক ছিল ৯ সেপ্টেম্বর মৌ সই হবে। ১১ তারিখ অগ্রিম পাব ওদের কাছে। ১৫ তারিখ ফুটবালরদের মাইনে মেটানো সম্ভব হবে তা দিয়ে। এখন যা পরিস্থিতি, তাতে সেটা আটকে যেতে পারে। এই ধরণের দেরি হওয়ায় স্ট্রিমকাস্ট পিছিয়ে যেতে পারে। ক্ষতিটা সেক্ষেত্রে ক্লাবের। এ নিয়ে কোনও ঝগড়ায় যেতে বা কারও ঘাড়ে দায় চাপাতে চাই না। আর্থিক সমস্যা মিটলেই হল।’‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top