মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপে সুব্রত ভট্টাচার্যর কোচিংয়ে থাকা মহমেডানকে ২–‌‌০ গোলে হারিয়ে মরশুম শুরু করেছিল মোহনবাগান। সুব্রতকে সরিয়ে দীপেন্দু বিশ্বাসকে টিডি করে আন মহমেডান বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে মোহনবাগানকে ৩–‌‌২ গোলে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নিল। এবং বাগানের খেতাব জয়ের স্বপ্নই কার্যত শেষ করে দিল। 
২০১৬–‌র পর আবার মহমেডান লিগে বাগানকে হারাল। ৯ ম্যাচে ১৪ পয়েন্টে আটকে থাকল বাগান। ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে মহমেডান উঠে এল দু’‌নম্বরে। এদিনের ফলাফলে সুবিধে হয়ে গেল পিয়ারলেস ও ইস্টবেঙ্গলের।
ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে বাগান কোচ ভিকুনা বলেছিলেন, মহমেডানকে খাটো করে দেখা যাবে না। মহমেডানের কিছু হারানোর ছিল না। পক্ষান্তরে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চাপ ছিল বাগানের ওপর। সেটা বুঝেই দীপেন্দু বলেছিলেন, জেতার জন্য শুরু থেকেই ঝাঁপাবেন। সেইমতো জমিতে বল রেখে পাসিং ফুটবলে শুরুতেই বাজিমাত তাদের। খাটালের মতো মহমেডান মাঠে এতদিন বোঝা যায়নি যে তীর্থঙ্কর, সত্যম, ছাঙতে, মুসারা স্প্যানিশ ঘরানার মতোই পাসিং ফুটবলের ফুল ফোটাতে পারেন। দায়িত্ব নিয়ে দীপেন্দু বলেছিলেন, ডায়মন্ড ছকে খেলাবেন দলকে। তারই প্রতিফলন দেখালেন তিনি। ম্যাচের সেরা তীর্থঙ্কর এককথায় অনবদ্য। নিজে করলেন একটি গোল। দুটির পিছনে রইল তাঁর অবদান। 
উল্টোদিকে মাঝমাঠ ছন্দ হারানোয় আক্রমণ ও রক্ষণে বাগানের ভারসাম্য উধাও। একা জোসেবা কত লড়বেন?‌ তাঁর দুটো ফ্রিকিক থেকে এল গোল। একটা নিজে করলেন। অন্যটা করালেন। বাগান ডিফেন্সিভ স্ক্রিনে ব্লকিং বলে কিছু ছিল না। সাহিল ও গঞ্জালেস ভুলভুলাইয়ায় হারিয়ে গিয়েছিলেন। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর স্টপার ড্যানিয়েল রক্ষণে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান। মহমেডানের আক্রমণ সামাল দিতে হিমসিম খান বাগান গোলকিপার দেবজিৎ। তাঁর দক্ষতা ও মহমেডান ফুটবলারদের বাউন্ডুলে মানসিকতার জন্য মোহনবাগানকে ৫ গোল হজম করতে হল না। 
প্রশংসার্হ মহমেডান গোলকিপার প্রিয়ন্ত সিং। মনোমালিন্যের জন্য তাঁকে দল থেকে বের করে দিয়েছিলেন সুব্রত। দীপেন্দু এসে তাঁকে ফেরান। এদিন প্রতিদান দিলেন প্রিয়ন্ত।
৭ মিনিটে সত্যমের শট দেবজিৎ ফিস্ট করলে কর্নার হয়। সেই কর্নার থেকে জটলার মাঝে আলতো প্লেসিংয়ে করিম ওমোলাজার গোল। পরের মিনিটে ছাঙতের মিস। ১১ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে বাঁ পায়ের শটে তীর্থঙ্করের বিশ্বমানের গোল। ২৫ মিনিটে ফ্রিকিকে জোসেবার দর্শনীয় গোলে ১–‌‌২। তবে ৩৫ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে জোসেবার নেওয়া হাঁটুসমান শট রুখে দেন প্রিয়ন্ত। 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মহমেডানের চিডি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন দেবজিতের গায়ে মেরে। ৬২ মিনিটে সামনে ফাঁকা গোল পেয়েও বাইরে মারেন ছাঙতে। তবে এক মিনিট বাদেই তীর্থঙ্করের শট দেবজিৎ আংশিক প্রতিহত করলে আলগা বল গোলে ঠেলেন চিডি (‌৩–‌‌১)‌। এর পরও ঝাঁপ বন্ধ না করে ওপেন ফুটবল খেলতে গিয়ে গোল হজম করে মহমেডান। ৬৪ মিনিটে গঞ্জালেসের জায়গায় চামোরোকে নামান ভিকুনা। ৭১ মিনিটে জোসেবার ফ্রিকিকে হেডে চামোরোর গোলে বাগান ব্যবধান কমায়। কিন্তু হার বাঁচাতে ব্যর্থ তারা। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বিতে জমাট ভাবের জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিল বাগান রক্ষণ। তাদের এমন বিশ্রী হাল কেন সেটা বোঝা গেল না। ভিকুনার অতিরিক্ত পরীক্ষা–‌নিরীক্ষার খেসারত কি? 
মোহনবাগান:‌ দেবজিৎ, চুলোভা (‌ব্রিটো)‌, ড্যানিয়েল, কিমকিমা, গুরজিন্দার, রোমারিও (‌শুভ)‌, গঞ্জালেস (চামোরো)‌, জোসেবা, সাহিল, নওরেম, সুহের।
মহমেডান:‌ প্রিয়ন্ত, ফিরোজ, করিম, প্রসেনজিৎ, সুজিত, ছাঙতে, সত্যম, মুসা, তীর্থঙ্কর, সফিউল, চিডি (‌আর্থার)‌।‌‌

যুবভারতীতে হতাশ বেইতিয়া। বৃহস্পতিবার। ছবি: রনি রায়

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top