রাজু মুখার্জি- ইডেনকে কেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাঠ বলা হয়, তার প্রমাণ আবার পাওয়া গেল। আগে আমরা দেখেছি, ইডেনের গ্রাউন্ডসম্যানদের টেস্টের জন্য স্পোর্টিং উইকেট বানাতে। কিন্তু আইপিএলের জন্য তো তা করা যায় না। দর্শকরা ব্যাটসম্যানদেরই প্রাধান্য দেখতে চান। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই ইডেনের পিচ তৈরি করেছেন গ্রাউন্ডসম্যানরা। নাইট রাইডার্সের ইনিংসের সময় দেখলাম, বল খুব সুন্দর আসছে ব্যাটে। খেলতে অসুবিধেই হচ্ছে না। তাই এমন পিচ তৈরির জন্য ইডেনের গ্রাউন্ডসম্যানদের প্রশংসা করতেই হবে। উইকেট খুবই ভাল। ব্যাটসম্যানদের আদর্শ।
ট্রেন্ট বোল্ট, মহম্মদ সামি, ক্রিস মরিসরা থাকলেও দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের বোলিংকে খুব সাধারণ মানের লাগল। রবীন উথাপ্পা, আন্দ্রে রাসেল, নীতিশ রানারা একটুও সমীহ করেনি বোল্ট, সামিদের। ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা বোলার সামিকে নিয়ে তো ছেলেখেলা করল রাসেল। খুব খারাপ লাগছিল সামির বোলিং দেখে। ওর বলে না ছিল বৈচিত্র‌্য, মুভমেন্ট, না ছিল গতির কোনও হেরফের। খুবই সাদামাটা বোলিং। যার সুবিধে রাসেল, রানারা নিয়েছে। 
টস হেরে আগে ব্যাট করে কেকেআর করল ৯ উইকেটে ২০০। দিল্লির যা ব্যাটিং, ইডেনের যা পিচ, তাতে হয়ত ২০০ রান তাড়া করা কঠিন ছিল না। আগের ম্যাচেই জেসন রয় ভাল ব্যাট করেছে। পুরনো দলের বিরুদ্ধে ভাল কিছু করার তাগিদ থাকবে গম্ভীরের, এমন আশা অনেকেই করেছিলেন। ইডেনে পরে বল করা কিন্তু একটু হলেও কঠিন। কারণ শিশির পড়ে। বল গ্রিপ করতে সমস্যা হয়। স্পিনারদের কাছে ভিজে বল গ্রিপ করা আরও কঠিন। বিশেষ করে কেকেআরের দুই ভরসা যেখানে সুনীল নারাইন এবং কুলদীপ যাদব। দেখার ছিল, এই সমস্যাটা কীভাবে সামলাবে ওরা। কিন্তু সমস্যায় পড়তে হয়নি কেকেআর–কে। কারণ হাতে ছিল বিরাট রান। সেই রান তাড়া করার চাপেই ভেঙে পড়ল দিল্লি। ওই চাপকে কাজে লাগিয়েই সফল হল নারাইন, কুলদীপরা। বিক্ষিপ্তভাবে ঋষভ পন্থ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল চেষ্টা করেছিল ঠিকই, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কমই ছিল। কারণ সেই ২০০ রান তোলার চাপ। 
পরপর দুই হারের পর সোমবারের জয় নিশ্চিতভাবেই কেকেআর–কে স্বস্তি দেবে। তবে ওদের সাফল্য ব্যক্তিনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। দলগত এফর্ট বলতে যা বোঝায়, তা দেখা যাচ্ছে না কেকেআরের খেলায়। কার্তিকের অধিনায়কত্বও সাধারণ মানের। সোমবার ম্যাচের সেরা হল রানা। খুব ভাল খেলেছে। যে সুযোগ পেল, তার সদ্ব্যবহার করেছে। আর বলব রাসেলের কথা। বছর দশেক আগে ওকে প্রথম দেখেছিলাম। ভারত ‘‌এ’‌ দলের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘‌এ’‌ দলের ম্যাচে। আমি ছিলাম আইসিসি ম্যাচ রেফারির দা। তখন রাসেল দুর্ধর্ষ জোরে বোলার। ফিল্ডিংও করত দুর্দান্ত। আর ব্যাট করত সবার নিচে। এখন সেই রাসেলই ব্যাটিংয়ে উন্নতি করেছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে খুবই ভাল। টি ২০–র আদর্শ ক্রিকেটার। এবারের আইপিএলে এই রাসেলের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে কেকেআর। আইপিএল সবে শুরু হয়েছে। সবাইকে ১৪টা করে ম্যাচ খেলতে হবে। অনেক উত্থান–পতনের সাক্ষী থাকতে হবে। সোমবারের জয় কেকেআর–কে একটু সামনে এগিয়ে দিল, শুধু এটাই বলা যায়। ‌

 

 

নাইটদের ব্যাটিংয়ে অন্যতম নায়ক রানা। ছবি:‌ এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top