এটিকে–মোহনবাগান ২       এসসি ইস্টবেঙ্গল ০ 
(‌রয় কৃষ্ণা, মণবীর সিং)‌ 
আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সকাল থেকেই দেখছিলাম। লাল–হলুদ সমর্থকদের সে কী উন্মাদনা। কেউ বাড়িতে ইলিশ নিয়ে এসেছে। কেউ চিরপরিচিত লাল–হলুদ জার্সি পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি দিচ্ছে। সন্ধে গড়িয়ে রাত হতেই সব প্রত্যাশার ফানুশ চুপসে গেল। এটিকে–মোহনবাগান গুণে গুণে ২–০ ব্যবধানে হারাল ইস্টবেঙ্গলকে। 
গোয়ার তিলক ময়দানে আইএসএলের ইতিহাসে প্রথম ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান–ইস্টবেঙ্গল। শুরুর দিকে রবি ফাওলারের ইস্টবেঙ্গল লম্ফঝম্ফ করলেও সময় যত গড়াল ম্যাচ ধরে নিল মোহনবাগান। আসলে অভিজ্ঞতার একটা দাম আছে তো। ৭ মিনিটে ওয়ান টাচ খেলে একটা সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। আর ৮০ মিনিটের মাথায় পিলকিংটনের একটা শট সেভ করা ছাড়া বাগান গোলকিপার অরিন্দম ভট্টচার্যকে আর কষ্ট করতে হয়নি। বরং ম্যাচের প্রথম ১৫ মিনিট বাদ দিলে বাকি সময়টা ব্যস্ত থাকতে হল লাল–হলুদ গোলকিপার দেবজিৎ মজুমদারকে। বেশ কয়েকবার দুরন্ত সেভও করেন দেবজিৎ। ৩৫ মিনিটেও একটি দুরন্ত শট বাঁচান।
খেলার প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই খোলস ছেড়ে বেরোল মোহনবাগান। গোল করে গেলেন সেই রয় কৃষ্ণা। আবার বাঁ পায়ে। দুরন্ত গোল। দেবজিৎ হাত ছোয়ানোর সুযোগ পাননি। আর ম্যাচের শেষদিকে একার চেষ্টায় একটা লম্বা বল পেয়ে ব্যবধান ২–০ করলেন মণবীর সিং। প্রথম একাদশে ছিলেন না মণবীর। সুপার সাব হিসেবে নেমে কাজের কাজটা করে গেলেন। জার্ভি হার্নান্ডেজ দুরন্ত খেললেন। 
কেরালার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচেই দেখা গিয়েছিল, মোহনবাগান দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের খেলার ধরণ বদলে ফেলে। এদিনও তাই হল। আক্রমণাত্মক মোহনবাগান দ্বিতীয়ার্ধে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা করে দিয়েছিল ইস্টবেঙ্গলের।
খেলার ৪৯ মিনিটে জেভিয়ারের পাস থেকে জয়েশের ছোট্ট টোকায় পাওয়া বলটি রয় কৃষ্ণা যেভাবে জালে জড়িয়ে দিলেন, তার জন্য কোনও প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। সেইসময় স্কট নেভিল জায়গাতেই ছিলেন না। তিনি প্রথমবার ট্যাকলিং মিস করেন। যা কাজে লাগান কৃষ্ণা।
খেলার ৮৪ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় গোল করলেন মণবীর সিং। তিনি যেভাবে একাই বল নিয়ে উঠে গোল করে গেলেন, সেখানে লাল–হলুদের নারায়ণ দাসকে অতিথি মনে হচ্ছিল।
তবে ফাওলারের কোচিং নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। কেন শুরুতে জেজে নয়। বলবন্ত পারছেন না দেখেও জেজেকে নামালেন না। সবচেয়ে বড় কথা নেভিল ও পিলকিংটন একেবারে ব্যর্থ। 
ম্যাচের সেরা হলেন বাগানের মার্ক ম্যাকহুগ। রয় কৃষ্ণার দুই ম্যাচে দুই গোল হয়ে গেল। সেরা গোলদাতার তালিকায় তিনি এবারও থাকছেন। 

পুনশ্চ:‌ হাবাস মনঃস্তত্ত্ব খুব ভাল বোঝেন। তাই ডার্বিতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড দিয়েছিলেন প্রীতম কোটালকে। বাঙালি ডিফেন্ডার অসাধারণ ফুটবল খেললেন গোটা ম্যাচে। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top