সংবাদ সংস্থা, পুনে: বিশাখাপত্তনমের মতোই ধরনের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চায় টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তো?‌ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। তবু কোহলি ব্রিগেড পুনেতে সিরিজ পকেটে ভরতে মরিয়া। 
ভারতীয় শিবিরে উঁকি মারলেই আত্মবিশ্বাসের ছবিটা ধরা পড়বে। প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত জয় একটা কারণ হলে দ্বিতীয় কারণ অবশ্যই ক্রিকেটারদের ফর্ম। প্রথম টেস্টে ‘‌শেহবাগ মডেল’‌ দারুণ কাজে দিয়েছে। দু’‌ ইনিংসেই রোহিত শর্মার সেঞ্চুরি। মায়াঙ্ক আগরওয়ালের জীবনের প্রথম দ্বিশতরান। অশ্বিন, জাদেজারা সাফল্য পেয়েছেন।  ফর্মে মহম্মদ সামিও। কোণঠাসা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে পুনেতে সিরিজ জেতার জন্য বিরাট কোহলির বাড়তি কোনও রসদ প্রয়োজন আছে কি?‌ ‘‌শেহবাগ মডেল’‌ কাজে দেওয়ায় খুশি কোহলি। রোহিতের পারফরমেন্স প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘‌ও শুধু প্রত্যাশাপূরণ করেনি, প্রত্যাশার বেশি দিয়েছে।’‌ রোহিতকে নিয়ে কাটাছেঁড়ার পক্ষপাতী নন কোহলি। তাঁর কথায়, ‘‌ও দুর্দান্ত খেলেছে। টপ অর্ডারে ওকে ব্যাটিং উপভোগ করতে দিন। রোহিতকে নিয়ে আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। ও দারুণ ছন্দে রয়েছে।’‌ 
তবে আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের বাইশ গজ নিয়ে। মাথায় রাখতে হচ্ছে ২০১৭–তে ভারত–অস্ট্রেলিয়া টেস্টের কথা। তিনদিনের কম সময়ে খেলা শেষ। দুই দলের স্পিনাররা তুলে নিয়েছিলেন ৩১ উইকেট। স্টিভ ও’‌কিফ এবং নাথান লায়ন নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। আইসিসি–র চোখে পুনের বাইশ গজ ছিল ‘‌পুওর’‌। তবে ২০১৭–র মতো আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই কোহলিদের। পুনের বাইশ গজের চরিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। শুরুর দিকে সাফল্য পেতে পারেন জোরে বোলাররা। সেক্ষেত্রে কোহলির তুরুপের তাস হতে পারেন সামি।
বিশাখাপত্তনমে প্রথম ইনিংসে সামির বোলিং দেখে অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু বাংলার বোলার একাই বিধ্বস্ত করে দিয়েছিলেন প্রোটিয়াদের। এই জোরে বোলারের ওপর ক্যাপ্টেন কোহলির যে বাড়তি ভরসা আছে, তাঁর কথাতেই তা বোঝা গেছে। দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামার আগে কোহলি বলেছেন, ‘‌সামি নিজে থেকেই এখন অনেকটা দায়িত্ব নিচ্ছে। ওকে উদ্দীপ্ত করার প্রয়োজন হয় না। কাম অন, তোমাকে দলের জন্য এই স্পেলে জ্বলে উঠতে হবে— এসব বলার দরকার হয় না। ও নিজেই বল চেয়ে নেয়। যখন ওর হাতে বল তুলে দেওয়া হয়, তখন পরিস্থিতিটা বোঝে।’‌ পাটা উইকেটেও সামির সিম করানোর দক্ষতায় মুগ্ধ কোহলির কথায়, ‘যে উইকেটে বোলারদের জন্য কিছু থাকে না, সেখানেও সামির মতো অন্য কোনও বোলারকে সিম করাতে দেখিনি। যে কোনও মুহূর্তে ম্যাচের রং বদলানোর দক্ষতা রয়েছে। বিশেষত, দ্বিতীয় ইনিংসে যখন পরিস্থিতি কঠিন থাকে, সামি এসে রং বদলে দেয়।’‌ ‌
বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও টিম কম্বিনেশন বদলের পরিকল্পনা নেই ভারতীয় শিবিরের। তৃতীয় জোরে বোলার খেলানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়ে কোহলি বলেছেন, ‘‌দল থিতু হয়ে গেছে। পরিবর্তনের খুব একটা সম্ভাবনা নেই। পিচ বড় ফ্যাক্টর হবে না। উইকেট স্যাঁতসেঁতে হলেও জোরে বোলাররা যেমন সাহায্য পাবে, তেমন বল ঘুরবেও। স্পিনাররাও সাহায্য পাবে। উইকেটে পুরো ঘাস থাকলে টিম কম্বিনেশন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতাম।’‌ টিম কম্বিনেশনের জন্যই প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন না কুলদীপ যাদব। তাঁর বিষয়ে কোহলি বলেন, ‘‌দলে কারও জায়গা নিশ্চিত নয়। সবাই জানে দলের জন্য সে কী করতে পারি। কুলদীপও তাই। ও জানে ব্যাটিংয়ে অশ্বিন আর জাদেজা দলকে অনেক সাহায্য করে বলেই ওরা প্রথম পছন্দ।’‌ 
এখনও পর্যন্ত ১৬০ পয়েন্ট পেয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষে ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতে পেয়েছে ১২০ পয়েন্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে ৪০ পয়েন্ট। তবে শীর্ষে থাকলেও পয়েন্ট সিস্টেমে খুশি নন কোহলি। তিনি বলেন, ‘‌পয়েন্ট টেবিলের প্রসঙ্গে বলব, অ্যাওয়ে টেস্ট জয়ের জন্য দ্বিগুণ পয়েন্ট থাকলে ভাল হত।’‌ তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও দলই ড্রয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে না নামায় খুশি তিনি। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top