‌আজকালের প্রতিবেদন: স্কোরবোর্ডে যতই থাকুক ম্যাচটা ভারত বনাম কাতার। আসলে মঙ্গলবার রাতে ম্যাচটা হল গুরপ্রীত সিং সান্ধু বনাম কাতার। শেষে অপরাজিত গুরপ্রীত।
গুরপ্রীত না থাকলে এদিন ভারতের লজ্জা কোন পর্যায়ে পৌঁছত বলা মুশকিল। ভারতের তেকাঠির নীচে যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন গোলরক্ষক–অধিনায়ক। একের পর এক বিপক্ষের আক্রমণ সেই প্রাচীরে প্রতিহত হল। নইলে বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারত প্রথমার্ধেই অন্তত খান চারেক গোল হজম করত। গোটা প্রথমার্ধে কাতার গোল লক্ষ্য করে অন্তত এক ডজন শট নিয়েছে। তবু অপরাজিত গুরপ্রীত। হার বঁাচিয়ে ভারতের গোলশূন্য ড্রয়ের কৃতিত্বের পুরোটাই পাঞ্জাব কা পুত্তরের।
কাতারের আলমোয়েজ আলির আক্রমণে থরহরি কম্প অবস্থা ছিল ভারতের রক্ষণের। ফলে কোচ ইগর স্টিম্যাকের রক্ষণ নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমত, মিডফিল্ডার মান্দার রাও দেশাইকে কেন সাইডব্যাকে খেলানো হল? দ্বিতীয়ত, গত ম্যাচে ভাল খেলা সত্ত্বেও সাইডব্যাক শুভাশিস বসুকে বসিয়ে দেওয়া হল কেন? 
বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে হারের পর কাতারের বিরুদ্ধে ম্যাচেও জয় অধরা স্টিম্যাচের। অবশ্যই সুনীল ছেত্রির না থাকাটা ফ্যাক্টর। ভারতের আক্রমণ শানানোর লোকের অভাব ছিল। তার ওপর প্রথম এগারো থেকে বাদ ছিলেন আশিক কুরুনিয়ান, ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ ও শুভাশিস বসু। ওমান ম্যাচে আশিক, ব্রেন্ডন দারুণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। সুনীল না থাকায় উদান্তার সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলার কেউ ছিল না। ফরোয়ার্ডে সামাদের সঙ্গে ছিলেন মনবীর সিং। 
তবে গোটা ম্যাচের রাশ ছিল কাতারের হাতেই। প্রথমার্ধে কাতারের অজস্র সুযোগ তৈরি করার পাশে ভারত একটিও সুযোগ পায়নি। ভারতীয় ফুটবলারদের মিসপাসের বহরও ছিল চোখে পড়ার মতো। ১২ মিনিটে মান্দারের মিসপাসের সুযোগে আবদুল আজিজের পায়ে বল জমা হলেও আবদুলের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তার মিনিট আটেক পরেই আলমোেয়জের দূরপাল্লার শট ফিস্ট করে বাঁচান গুরপ্রীত। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমেও আলমোয়েজের শট বাঁচান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর পরও ভারতের আক্রমণ সেভাবে দানা বাঁধছিল না। তারই মধ্যে উদান্তার ছটফটানিতে সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু লাভের লাভ কিছু হয়নি। ৮১ মিনিটে সুযোগ পেয়েছিলেন উদান্তা। তার আগে ৬৫ মিনিটে সামাদের সামনেও গোলের সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তঁার শট অল্পের জন্য নিশানার বাইরে যায়। 
ওমানের বিরুদ্ধে ভারতের মিডফিল্ডে খেলা তৈরি হচ্ছিল। এদিন সেটা হয়নি। কাতার ৪–৩–৩ ছকে আক্রমণাত্মক খেলছিল। ভারত সেই জায়গায় ৪–৪–২ স্ট্র্যাটেজিতে খেলে। দ্বিতীয়ার্ধেও গুরপ্রীত কয়েকটি দারুণ সেভ করেন। ম্যাচের শেষলগ্নে ৮৫ মিনিটে কাতারের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। 
তবে ম্যাচ ড্র হলেও এশিয়া চ্যাম্পিয়নের বিরুদ্ধে কঠিন চ্যালেঞ্জে ১ পয়েন্ট পাওয়া ভারতের কাছে জয়েরই সমান। এটা বললে বাড়াবাড়ি হবে না যে, সেই ১ পয়েন্ট দেশকে এনে দিলেন অধিনায়ক গুরপ্রীত।
ভারত: গুরপ্রীত, রাহুল, সন্দেশ, আদিল, মান্দার, নিখিল (ব্রেন্ডন), রাওলিন, অনিরুদ্ধ (নরেন্দ্রর), উদান্তা, সামাদ (বিনীত), মনবীর

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top