বিশ্বজিৎ দাস: বিরাট কোহলি শহরে পৌঁছতেই ইডেন টেস্ট নিয়ে উন্মদনার পারদ একলাফে কয়েকগুণ বেড়ে গেল। সহ অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেকে নিয়ে এদিন সকালে বিরাটের শহরে পৌঁছনোর খবর চাউর হতেই ইডেনের সামনে ব্যস্ততা হঠাৎ গতি পেয়ে গেল। 
এদিন বিরাটরা ইডেনমুখো না হলেও রাতে তাঁদের ক্রিকেট সরঞ্জাম পৌঁছে গেল ইডেনে। আজ, বুধবার দুপুরে প্রথমে বাংলাদেশ এবং বিকেলে ভারত অনুশীলন করবে ইডেনে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার টেস্ট শুরুর দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর উপস্থিতি নিয়ে খানিকটা সংশয় তৈরি হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশ বা রাজ্য বিজেপি থেকে ওই বিষয়ে কিছু না জানানো হলেও একটি সূত্রে বলা হচ্ছে, সংসদের অধিবেশন চলায় শাহ না–ও আসতে পারেন। ওই সূত্রের বক্তব্য, তেমন হলে টেস্টের প্রথমদিন (শুক্রবার) না এসে দ্বিতীয় দিন (শনিবার) আসতে পারেন শাহ। কারণ, শনিবার সংসদ বন্ধ থাকে। তবে সরকারিভাবে এমন কোনও রাজ্য প্রশাসন বা ক্রিকেট প্রশাসনে এদিন রাত পর্যন্ত পৌঁছয়নি।  
একদিকে ঐতিহাসিক গোলাপি বলে টেস্ট স্মরণীয় করে রাখতে তৎপর সিএবি। নিখঁুত আয়োজনের সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু অন্যদিকে, টিকিট বন্টনকারী সংস্থা ‘বুক মাই শো’–এর  বিভ্রাটে কোথাও একটা তাল কাটছে। যার সঙ্গে সিএবি–র কোনও কোনও প্রত্যজ্ঞ বা পরোক্ষ যোগাযোগই নেই। সংবাদ সংস্থা পিটিআই রাতে সৌরভকে উদ্ধৃত করে জানায়,   তিনি বলেছেন, ইডেন টেস্টের প্রথম চারদিনের টিকিট নিঃশেষিত।  
আজ, বুধবার থেকে গোলাপি সাজে সেজে উঠবে তিলোত্তমা। শহিদ মিনার–সহ শহরের বেশ কয়েকটি অভিজ্ঞান এবং বহুতলে ফুটে উঠবে গোলাপি রং। টাটা সেন্টারে থ্রিডি এফেক্টে ফুটে উঠবে ক্রিকেটের নন্দনকাননের নানা ছবি। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মোট ২১ জায়গায় থাকবে ইডেন টেস্টের বিজ্ঞাপন। শুধু তা–ই নয়, ম্যাচের দিনগুলোয় তো বটেই, তার আগে–পরেও ইডেনের ড্রেসিংরুম লাগোয়া লন এবং গ্যালারির ছাদগুলোতে জ্বলবে গোলাপি আলো।
অনলাইনে যাঁরা টিকিট বুক করেছিলেন, গত দুদিন ধরে ইডেন গার্ডেন্সের অস্থায়ী কাউন্টার থেকে তাঁদের টিকিট বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে লম্বা লাইন দেখে অনেকেই টাকা দিয়ে টিকিট নিতে হাজির। সোমবার থেকে ক্লাব ও অনুমোদিত সংস্থাগুলিকেও টিকিট দেওয়া হচ্ছে। আর বাজারে টিকিট আসতেই আর্বিভূত হয়েছেন ময়দানের টিকিটের কারবারিরাও। ইতিমধ্যেই তাঁরা কালোবাজারে চড়া দামে টিকিট বিক্রি করতে শুরু করে দিয়েছেন। এক কথায় তাঁদের পৌষমাস।
এদিকে, সিএবি অনুমোদিত ক্লাব ও রাজ্য ক্রীড়া সংস্থার টিকিট বন্টনে বিভ্রান্তি এদিনও জারি। টিকিট সংগ্রহ করতে আসা সদস্যদের দাবি, পরিস্থিতি আগের দিনের থেকেও খারাপ। অভিযোগের তির বন্টনের দায়িত্বে থাকা সেই ‘‌বুক মাই শো’‌র দিকেই। 
আগের দিন নাকি টিকিট বন্টনের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, সময়ের অভাবে তাঁরা আবেদন অনুযায়ী টিকিটের প্যাকেট তৈরি রাখতে পারেননি। পরদিন সেটা তৈরি করে রাখবেন। কিন্তু টিকিট নিতে আসা সদস্যদের দাবি, সেসবের কিছুই হয়নি। উল্টে বন্টনের মাঝপথে ‘‌টিকিট নেই, আনতে হবে’‌ বলে বসেন ওই সংস্থার লোকজন। একটি সংস্থা টিকিটের আবেদনপত্রের নোটিশ হাতে পান এদিন বিকেলে। ক্ষিপ্ত সদস্যরা সচিব অভিষেক ডালমিয়ার দ্বারস্থ হওয়ায় তাঁর হস্তক্ষেপে সমস্যা সাময়িক মিটলেও পরে অব্যবস্থার চেনা ছবি ফেরত আসে।
অতীতে ইডেনে ফ্লাডলাইট বিভ্রাটে তাল কেটেছে। এবছর আইপিএলেও ম্যাচ থমকে গিয়েছিল। এবার সতর্ক সিএবি। ফ্লাডলাইটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেগুলি আরও একদফায় এদিন পরখ করে নেওয়া হয়েছে। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top