ভারত- ২ (নিখিল, মনবীর)

মালদ্বীপ- 0

নজরুল ইসলাম: ম্যাচ শুরুর আগেই যখন নিশ্চিত হয়ে যায় সেমিফাইনালে ওঠার ব্যাপারে, তখন বাড়তি উদ্যম নিয়ে ঝাঁপানোর তাগিদ খুব বেশি অনুভব করে না কোনও দল। সামনে গ্রুপশীর্ষে থাকার হাতছানি থাকলে অবশ্য অন্য ব্যাপার। গ্রুপশীর্ষে থাকলে সেমিফাইনালে অপর গ্রুপের অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সুযোগ থাকে। সাফ চাম্পিয়নশিপে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ভারত। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা–মালদ্বীপ ম্যাচ শেষ হয়েছিল গোলশূন্যভাবে। ফলে আগেই সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল গ্রুপশীর্ষে থাকার লড়াই। ড্র করলেই গ্রুপশীর্ষে। অন্যদিকে, সেমিফাইনালের ছাড়পত্র পেতে গেলে ভারতের বিরুদ্ধে হয় ড্র করতে হত মালদ্বীপকে, অথবা বড়জোর ১ গোলের ব্যবধানে হারলেও চলত। মালদ্বীপকে কোনওরকম সুযোগ দিলেন না কনস্টানটাইনের ফুটবলাররা। ২–০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে গ্রুপশীর্ষে থেকেই সেমিফাইনালে পৌঁছল ভারত। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট ভারতের। সেমিফাইনালে ভারতের সামনে এবার পাকিস্তান।
মালদ্বীপের বিরুদ্ধে এগিয়ে থেকেই মাঠে নেমেছিল ভারত। শুধু পরিসংখ্যানের নিরিখেই নয়, পারফরমেন্সের বিচারেও। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জিতলেও ফুটবলারদের খেলায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি ভারতের কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন। তিনি মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও ভাল ফুটবল আশা করেছিলেন। এদিন অবশ্য ভাল ফুটবল উপহার দিয়ে গেলেন মনবীররা। কোচ কনস্টানটাইনের মুখেও সেই কথা শোনা গেল ম্যাচের শেষে। বলছিলেন, ‘‌আগের ম্যাচের তুলনায় দল এদিন ভাল খেলেছে। পরপর দুটি ম্যাচে জয়। এটা দারুণ ইতিবাচক দিক।’‌ দলের তরুণ ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখে তিনি যে ভুল করেননি, প্রমাণ করে দিলেন নিখিল পূজারি, মনবীর সিংরা। কনস্টানটাইন বলছিলেন, ‘‌দলটা তরুণ। অধিকাংশ ফুটবলারের জাতীয় দলের হয়ে আগে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। ওরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাচ্ছে।’‌ এই যেমন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রথম গোল পেলেন মনবীর সিং। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নিজেদের সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও মালদ্বীপের বিরুদ্ধে অন্য ফুটবল উপহার দিলেন কনস্টানটাইনের ফুটবলাররা। ম্যাচের ১২ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ভারত। অনিরুদ্ধ থাপার সেন্টারে মাথা ছোঁয়াতে পারেননি নিখিল পূজারি। ৩৬ মিনিটে অবশ্য সেই নিখিল পূজারির গোলেই এগিয়ে যায় ভারত। মালদ্বীপের মুজুথাজের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ফারুখ চৌধুরির সঙ্গে ওয়াল পাস খেলে দলকে এগিয়ে দেন নিখিল। মিনিট তিনেক পরই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মনবীর সিং। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি। বিরতির ঠিক আগে লালরিনজুয়ালার পাস থেকে তিনিই ২–০ করেন। দেশের হয়ে এটাই প্রথম গোল মনবীরের। দ্বিতীয়ার্ধে মালদ্বীপ লড়াই করার চেষ্টা করলেও সুযোগ দেননি ভারতীয় ডিফেন্ডাররা। বরং নিখিল পূজারি, পরিবর্ত হিসেবে নামা সুমিত পাসিরা সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান বাড়ত ভারতের।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top