আজকালের প্রতিবেদন: গুড লেংথ এরিয়ার আশেপাশে বল পড়ে বাঁক নিল। এতেই কুপোকাত ভারতীয় ব্যাটিংয়ের মহামহিমরা। অকল্যান্ডের বেসিন রিজার্ভ আবার দেখাল ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কঙ্কালসার চেহারা। ভারী আবহাওয়া। সবুজ বাইশ গজ। ঝোড়ো হাওয়া। এই পরিস্থিতিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত কোন ক্যাপ্টেন নিয়ে থাকেন? শুক্রবার সেটাই করলেন নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন। প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনেই কেঁপে গেল ভারতীয় ব্যাটিং। বৃষ্টিতে  চা–বিরতির পর খেলা হয়নি। দিনের শেষে ভারত কাঁপতে কাঁপতে ৫ উইকেটে ১২২ রান তুলল। তাকিয়ে এখন অজিঙ্কা রাহানে এবং ঋষভ পন্থের দিকে।  
বড় বড় স্যুইং নয়। কিউয়ি বোলারদের হাত থেকে বেরল ছোট ছোট স্যুইং। সেটা খেলতেই অস্থির হয়ে উঠলেন ভারতীয় ব্যাটিংয়ের রাজারাজড়ারা। বরাবরই শুরুটা ভাল করেন পৃথ্বী শ। মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে নিয়ে শুক্রবার তেমনই করেছিলেন। সাউদি, বোল্টদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ। মাথায় চেপে বসতে দেননি পেসারদের। সাউদির ‘আনপ্লেয়েবল’ বলে পৃথ্বী বোল্ড হলেন। বল মিডল স্টাম্পে পড়ে অফ স্টাম্পে চুমু খেয়ে চলে গেল। ফ্লিক করার চেষ্টা করেছিলেন মুম্বইকার। 
প্রথম টেস্ট খেলতে নামা বড়সড় চেহারার ফাস্ট বোলার জেমিসনকে খেলতেই পারলেন না কোহলি, পুজারারা। জেমিসন ৮৪টি ডেলিভারিতে ৩৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। জেমিসনের কথা উল্লেখ করতেই হবে। বোকা বানিয়ে একই রোগে বারবার পরাস্ত হওয়া কোহলিকে যেভাবে ফেরালেন, বুদ্ধিমান বোলারের পক্ষেই সম্ভব। গুড  লেংথে পড়া ডেলিভারিতে কোহলি অফ স্টাম্পের বাইরে ড্রাইভের দরাজ আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ফেললেন। প্রথম স্লিপে খোঁচাটা ধরতে বেগ পেতে হয়নি শততম টেস্ট খেলতে নামা রস টেলরের। ইতিহাস তৈরি করলেন নিউজিল্যান্ডের এই বর্ষীয়ান ক্রিকেটার। তিনিই হলেন প্রথম ক্রিকেটার, যিনি তিনটি ফরম্যাটেই ১০০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলে ফেললেন। 
জেমিসন ঠিক একইভাবে আগে বোকা বানান এখনকার ‘ওয়াল’ পুজারাকে। কিপার ওয়াটলিংয়ের হাতে জমা পড়লেন।
ভাল খেলছিলেন ওপেনার মায়াঙ্ক আগরওয়াল। কোনও দরকার ছিল না বোল্টের ডেলিভারিতে আধা পুল–আধা হুক শটটি নেওয়ার। মায়াঙ্ক সেটাই করলেন। বিপদে ফেলে গেলেন ভারতকে। সাময়িক স্বস্তিও দিলেন না অলরাউন্ডার হনুমা বিহারীও। জেমিসনের বলে ফিরলেন। বিপদ থেকে টেনে তোলার কাজটা নিজের কাঁধে নিয়েছেন সহ–অধিনায়ক অজিঙ্কা। সঙ্গে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র ঋষভ পন্থ। সোজা ব্যাটে খেলছেন রাহানে। খেলাচ্ছেন পন্থকেও। হারিকিরি নয়। শুধু মাথা শান্ত রেখে চোখ কান খুলে ক্রিেজ পড়ে থাকাই এখন আস‍ল কাজ ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। চা–বিরতিতে বৃষ্টি নামায় আর তৃতীয় সেশন শুরুই করা গেল না প্রথম দিন। অপেক্ষা দ্বিতীয় দিনের।
তাকিয়ে রয়েছে ভারতীয় শিবিরও। দিনের শেষে অকল্যান্ডে মায়াঙ্ক আগরওয়াল জানিয়েছেন, ‘আমরা তাকিয়ে রয়েছি অজিঙ্কা আর পন্থের দিকে। যতক্ষণ ওরা ব্যাট করে করুক। একটা ঠিকঠাক রানে পৌঁছলে আমাদের বোলারদের তখন নিশানায় অভ্রান্ত থেকে বোলিং করতে হবে। সত্যি, এমন পরিবেশে সকালে এমনকি লাঞ্চের পরেও ব্যাট করার কাজটা কঠিন ছিল। জেমিসন খুব ভাল বোলিং করল। পরিবেশের সঙ্গে মানানসই বোলিং।’ কোহলিকে আউট করে বেজায় খুশি জেমিসন। ‘কোহলির উইকেট হল ম্যাসিভ ব্যাপার। গত দু’সপ্তাহ ধরে যা চলছে তা বর্ণনা করতে পারব না। প্রথমে একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজ জিতলাম। টেস্টে সুযোগ পেয়ে প্রথম িদনই তিনটি উইকেট, সত্যি ভাবতে পারছি না!’
স্কোর
ভারত (প্রথম ইনিংস): পৃথ্বী শ ব সাউদি ১৬, মায়াঙ্ক আগরওয়াল কট জেমিসন ব বোল্ট ৩৪, চেতেশ্বর পুজারা কট ওয়াটলিং ব জেমিসন ১১, কোহলি কট রস টেলর ব জেমিসন ২, রাহানে অপরাজিত ৩৮, হনুমা বিহারী কট ওয়াটলিং ব জেমিসন ৭, পন্থ অপরাজিত ১০, অতিরিক্ত ৪, মোট: ১২২/৫। উইকেট পতন: ১/১৬, ২/৩৫, ৩/৪০, ৪/৪৪, ৫/১০১। বোলিং: সাউদি ১৪–৪–২৭–১, বোল্ট ১৪–২–৪৪–১, গ্র্যান্ডহোম ১১–৫–১২–০, জেমিসন ১৪–২–৩৮–৩, আজাজ প্যাটেল ২–২–০–০।

‌বিরাট নয়: এবারের নিউজিল্যান্ড সিরিজে আবার ব্যর্থ হলেন বিরাট কেহলি। প্রথম টেস্টে তাঁর ব্যাট থেকে এল মাত্র ২ রান। এবারের সিরিজে টি২০, একদিনের ম্যাচ ও টেস্ট মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৮টি ইনিংস খেললেন বিরাট কোহলি। কোনও শতরান নেই। অর্ধশতরান মাত্র ১টি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইডেনে দিন–‌রাতের টেস্টে ১৩৬ রান করার পর এখনও পর্যন্ত টানা ১৯টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে কোহলির শতরান নেই। কোহলির ১১ বছরেরও বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে মাত্র ২বার এরকম হয়েছে, যেখানে টানা ১৯টির বেশি ইনিংসে তাঁর কোনও শতরান ছিল না। এর প্রথমটি ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর, এই ৮ মাসে হয়েছিল। এই সময়ে টানা ২৪টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে কোহলির কোনও শতরান ছিল না। এর তিন বছর পরে কোহলির ক্রিকেট জীবনের সবথেকে খারাপ ফর্মটি এসেছিল। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে টানা ২৫টি আন্তর্জাতিক ইনিংসে কোহলির কোনও শতরান ছিল না। এর মধ্যে রয়েছে ইংল্যান্ড সফরও। সেই সিরিজে ৫টি টেস্টে মাত্র ১৩৪ রান করেছিলেন কোহলি। পরিসংখ্যানের বিচারে এটি কোহলির তৃতীয় খারাপ সময়। শুধু শতরান নয়, এমনকী অর্ধশতরানের ক্ষেত্রেও এই তিনটি সময়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন কোহলি। গত ১৯টি ইনিংসে কোহলির অর্ধশতরানের সংখ্যা ৬টি। ২০১৪ সালের খারাপ সময়েও কোহলির অর্ধশতরান ছিল ৬টি। ২০১১–‌র খারাপ সময়ে মাত্র ৪টি অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি।‌‌‌

প্রথম দিন মাত্র ২ রান করে আউট হয়ে ফিরছেন বিরাট কোহলি। ছবি: এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top