আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ প্রথম ম্যাচে দুরন্ত জয় এসেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘটেছিল ছন্দপতন। ঘুরে দাঁড়িয়ে দুরন্ত জয় পেয়েছিল ভারতীয় দল। তৃতীয় টি–টোয়েন্টি ম্যাচেও নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল টিম ইন্ডিয়া। দিল্লিতে প্রথমে ব্যাট করে হারলেও নাগপুরে সিরিজ নির্নায়ক ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করেই জিতলেন রোহিতরা। বাংলাদেশকে হারালেন ‌৩০ রানে। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতল ভারত। নাগপুরের ম্যাচে ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই কার্যত প্রতিপক্ষকে টেক্কা দিলেন রোহিতরা। আর এই জয়ের নায়ক একা কেউ নন। শিবম দুবে, শ্রেয়স আয়ার, লোকেশ রাহুল–প্রত্যেকেই অবদান রেখেছেন। তবে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ পারফর্ম দীপক চাহারের। মাত্র ৩.‌২ ওভার বল করে সাত রান দিয়ে হ্যাটট্রিক–সহ ছ’‌টি উইকেট নেন তিনি। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে টি–টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকের নজির আর কারও নেই। শুধু তাই নয়, বিশ্বক্রিকেটে টি-২০ ক্রিকেটে বোলারদের মধ্যেই এটাই সবচেয়ে কৃপণ বোলিং।এর আগে এই রেকর্ড ছিল নিউজিল্যান্ডের ইশ সোধির দখলে (৬/১১)।
রবিবার টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ভারত। কিন্তু শুরুতেই বাংলাদেশি বোলাররা ভারতের ঘাড়ে চেপে বসেন। মাত্র ২ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক রোহিত শর্মা। ১৬ বলে ১৯ করে আউট হন ভারতীয় দলের ‘‌গব্বর’ শিখর ধাওয়ান। এরপরই ইনিংসের হাল ধরেন লোকেশ রাহুল এবং শ্রেয়স আয়ার। বিরাট কোহলিকে বিশ্রাম দেওয়ায় এই সিরিজে সুযোগ পেয়েছেন রাহুল। আর সিরিজের নির্নায়ক ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে করলেন মাত্র ৩৫ বলে ৫২ রান। অন্যদিকে, আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার এদিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন। জীবন পেয়েছিলেন শূন্য রানে। সেখান থেকে ১৭তম ওভারে সাজঘরে ফিরলেন আন্তর্জাতিক টি২০ কেরিয়ারের প্রথম হাফ–সেঞ্চুরি করে। শুধুই কী তাই!‌ ভারতের স্কোরবোর্ডে ১৭৪/‌৫ ওঠার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেলেন শ্রেয়স আইয়ারই। হার্সেল গিবস তাঁর ক্যাচ ফেলায় স্টিভ ওয়ার সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘‌তুমি তো বিশ্বকাপটাই ফেলে দিলে’‌ ক্রিকেটের লোকগাথায় উঠে গিয়েছে। রবিবার নাগপুরে বিপক্ষ ফিল্ডারের উদ্দেশ্যে শ্রেয়স সেরকম কিছু বলেছেন কিনা জানা নেই। কিন্তু এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তাঁর জায়গা যে টলমল হয়ে যেত, সেটা বিলক্ষণ জানতেন। সেজন্যই পরবর্তী ৩২ বলে বাংলাদেশের বোলারদের ঘাড়ে চেপে বসার কোনওরকম সুযোগই দিলেন না আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক। ৩৩ বলে ৬২ রান করে যখন সাজঘরে ফিরলেন, ততক্ষণে বড় রানের হাইওয়েতে উঠে পড়েছে টিম ইন্ডিয়া। তবে এদিনও ব্যর্থ হলেন ঋষভ পন্থ। করলেন মাত্র ৬ রান। তবে মনীশ পাণ্ডে কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করলেন না। ‌ক্রুনাল পান্ডিয়ার বদলে এদিন মণীশ পান্ডেকে দলে নিয়েছিলেন রোহিত। মাত্র ১৩ বল খেলে ২২ রান করে অধিনায়কের আস্থার মর্যাদা রাখলেন তিনি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দীপক চাহারের বলে ৯ রান করে আউট হন লিটন দাস। পরের বলেই সৌম্য সরকারকেও ফেরান চাহার। তবে এরপর বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন মহম্মদ নইম এবং মহম্মদ মিঠুন। দু’‌জনে মিলে গতিতে রানও তুলতে থাকেন। একসময় মনে হচ্ছিল সহজেই ম্যাচ ও সিরিজ জিতে যাবেন মুশফিকুররা। কিন্তু নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে ফের রোহিতের মুখে হাসি ফোটান চাহার। ২৭ রানে ফিরিয়ে দেন মিঠুনকে। পরের ওভারের প্রথম বলেই বাংলাদেশের অধিনায়ক মুশফিকুরকে (‌০) আউট করেন শিবম দুবে। এরপর ১৬ তম ওভারে পরপর দু’‌বলে ফেরান নইম এবং হোসেইনকে (০‌)। বাংলাদেশের হয়ে এদিন দুরন্ত লড়াই করেন নইম। মাত্র ৪৮ বলে করেন ৮১ রান। মারেন দশটি চার এবং দু’‌টি ছয়। তবে তিনি আউট হতেই পুরোপুরি ভেঙে পড়ে‌ বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষদিকে, হ্যাটট্রিক সারেন চাহার। ১৮ তম ওভারের শেষ বল এবং ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম দু’‌বলে দু’‌টি উইকেট নেন। শেষপর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৪৫ রানে। সবমিলিয়ে সাত রান দিয়ে মোট ছ’‌টি উইকেট নেন চাহার। অন্যদিকে তিনটি উইকেট পান শিবম দুবে।
সামনের বছর অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিশ্বকাপের আগে হাতে এক বছরেরও কম সময়। এই সময়ে এরকম পরিস্থিতিতে তরুণদের পরীক্ষার মধ্যে ফেলে দেখে নেওয়ার কথাই তো শুরু থেকে বলে আসছিলেন বিরাট কোহলি। সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হতে থাকলে চাপ বাড়বে। এবং শেষপর্যন্ত উত্তীর্ণ হতে না পারলে বিশ্বকাপের টিকিট যে অধরাই থেকে যাবে। তবে শ্রেয়স, দীপক চাহার এবং লোকেশ রাহুল কিন্তু লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন। তবে কিছুটা যেন পিছিয়ে পড়লেন ঋষভ পন্থ। কারণ এই সিরিজে পুরোপুরি ব্যর্থ তিনি। ব্যাটিং হোক কিংবা উইকেট কিপিং– সবদিকেই। তাই আগামিদিনে নিজেকে প্রমাণ করতেই হবে পন্থকে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top