আজকালের প্রতিবেদন- কোচ ইগর স্টিম্যাক বলে দিচ্ছেন, এই ভারতীয় দলে তঁার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সুনীল ছেত্রি। তা শুনে লাজুক হাসি ভারত অধিনায়কের মুখে। শুধু কী স্টিম্যাক, এ দিনের প্রাক্–ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠক সুনীলময়। বিপক্ষ শিবিরও  তঁাকে শ্রদ্ধায় মুড়ে রাখতে কার্পণ্য করছে না। 
কিন্তু সুনীল বারবার বোঝাতে চেয়েছেন, এই ভারতীয় দলের ২৩ জনের স্কোয়াডে তিনিও একজন সদস্য মাত্র! সে কথা আর কে শোনে! কারণ, নামটাই যে যথেষ্ট। এই মুহূর্তে বিশ্বের মধ্যে আন্তর্জাতিক দলের হয়ে গোলের নিরিখে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পরেই যে তিনি।
সুনীলের কাছে বরাবর নিজের রেকর্ডের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দলের জয়। বলছেন, ‘কাতার ম্যাচে তো আমি খেলিনি। তা সত্ত্বেও দল কী দুরন্ত পারফরমেন্সটাই না করেছিল। সত্যি বলতে এই ভারতীয় দলে কে খেলল কে খেলল না গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে সুযোগ পাবে, সেই নিজের সেরাটা উজাড় করে দেবে। গোটা দল ভীষণ পরিশ্রম করছে।’ উত্তর শেষ করতে না করতেই প্রশ্ন উড়ে এল বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করাই  লক্ষ্য? তৎক্ষণাৎ হেসে মজা করে সুনীল জুড়ে দেন, ‘ধুর, তিনটে কেন ছ’টা গোলও তো করতে পারি।’ হাসি থামিয়ে বলেন, ‘দেখুন আমি হ্যাটট্রিক করলাম কিন্তু দল ৩–৪ ব্যবধানে হেরে গেল। তখন আমার হ্যাটট্রিকের দাম থাকবে না। আপনারা খুশিও হতে পারবেন না। তার েচয়ে বরং তিনটে সিটার মিস করলাম, দল জিতল, গোটা দেশ খুশি হবে। সুতরাং আমার গোল নয়, দলের জয়টাই গুরুত্বপূর্ণ।’
শ্বশুরবাড়ির শহরে খেলতে নামার আগে কোনওরকম বাড়তি চাপ অনুভব করছেন না বাংলার জামাই। তিনি রীতিমতো উত্তেজিত ‘ফুলহাউস’ গ্যালারিতে জাতীয় দলের জার্সিতে খেলতে নামার আগে। ‘ক্লাবের হয়ে ভর্তি গ্যালারিতে খেলেছি। এই স্টেডিয়ামে ডার্বি ম্যাচেও প্রচুর দর্শক হয়। আমিও খেলেছি। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি গায়ে কানায় কানায় ভর্তি স্টেডিয়ামে খেলার অনুভূতিটাই আলাদা।’ দীর্ঘ কেরিয়ারে এটাই প্রথম অভিজ্ঞতা হতে চলেছে সুনীলের। তিনি জানান, অনুশীলনের শেষে কোচ দলের কাছে জানতে চান এর আগে কেউ কখনও ‘ফুলহাউস’ গ্যালারিতে খেলেছে কিনা? সুনীল বলেন, ‘কোচকে বলি আমি এর আগে খেলিনি। আমি খেলিনি যখন দলের আর কেউ খেলেনি। এএফসি কাপের ম্যাচে কোচিতে অনেক দর্শকের সামনে খেলেছিলাম জাতীয় দলের হয়ে। তবে কলকাতায় ভর্তি গ্যালারিতে উপভোগ্য ম্যাচ হবে।’
বাংলাদেশি এক সাংবাদিক সুনীলকে প্রশ্ন করেন, আপনাকে ঘিরেই তো বাংলাদেশ যাবতীয় অঙ্ক কষছে। হাসতে হাসতে সুনীলের উত্তর, ‘ম্যাচে আমাকে যেন ৩–৪ জন মিলে মার্কিং করে। তাহলে খুব খুশি হব। আমাকে মার্কিং করলে ইলেভেন বনাম সেভেন হয়ে যাবে। আমার থেকেও দলে ভাল ফুটবলার রয়েছে। ওদের কাজটা সহজ হয়ে যাবে। আশিক, বলবন্ত, সাহাল, মনবীররা রয়েছে। ওদের ম্যাচ বার করতে সুবিধে হয়ে যাবে।’‌

প্রাক ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে দুই অধিনায়ক জামাল, সুনীল। ছবি: রাজকুমার মণ্ডল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top