আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌সাতে সাত/‌এবারেও হল না/‌‘‌ফাদার্স ডে–তে ভারত দেখিয়ে দিল কে বাবা, আর কে ছেলে?‌’‌। ম্যাঞ্চেস্টারে ম্যাচ শেষের পর আগামী ২৪ ঘণ্টায় এই কথাগুলি হয়ত ঘুরে বেড়াবে নেটদুনিয়ায়। আর হবে নাই বা কেন?‌ বিশ্বকাপে আবারও ভারতের কাছে হেরে গেল পাকিস্তান। ১৯৯২, ১১৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০১১, ২০১৫ এবং সবশেষে ২০১৯– এই নিয়ে সাতবারের সাক্ষাতে সাতবারই পর্যূদস্ত হল পাকিস্তান। বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের আমল থেকে শুরু হয়েছিল, সরফরাজ খানের নেতৃত্বেও জারি থাকল একই দশা। ব্যাটে ‘‌রো–হিট’ শর্মা, কে এল রাহুল, বিরাট কোহলি আর বোলিংয়ে কুলদীপ, চাহালরা নাকানিচোবানি খাওয়ালেন পাকিস্তানকে। ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ভারত ম্যাচ জিতল ৮৯ রানে।

 

রবিবার ম্যাচ শুরুর আগেই হাউসফুল হয়ে গিয়েছিল স্টেডিয়াম। যেদিকে চোখ যাচ্ছিল, সেদিকে শুধু তেরঙ্গা। মাঝেমধ্যে উঁকি দিচ্ছিল পাকিস্তানের পতাকাও। কে বলবে দু’‌দেশের পরিস্থিতি এখন উত্তপ্ত। মাঠে পাশাপাশি বসেই খেলা দেখতে মগ্ন ভারত–পাকিস্তানের দর্শকরা। এদিকে, মেঘলা পরিবেশ, বৃষ্টির পূর্বাভাস। তাই টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং নিলেন পাক অধিনায়ক সরফরাজ । ওদিকে, শিখরের অনুপস্থিতিতে প্রথমবার রোহিতের সঙ্গে ওপেনিংয়ে কে এল রাহুল। কিন্তু মেঘলা আকাশে মহম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজদের শুরুর দিকে সামলে আক্রমণের পথে হাঁটলেন ভারতীয় ওপেনাররা। বিরতিতে রাহুল বলেছিলেন, তিনি নাকি নার্ভাস ছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় কখনই সেটা মনে হয়নি। তবে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেও ওয়াহাব রিয়াজের বলে আউট হন রাহুল। উল্টোদিকে, অবশ্য নিজের ‘‌২০০’–র মেজাজে ছিলেন রোহিত। অর্থাৎ আজ যেন মাঠে নেমেছিলেন ২০০ রান করবেন বলেই। করে ফেলেন দুরন্ত শতরানও। কিন্তু ব্যক্তিগত ১৪০ এর মাথায় আচমকাই ছন্দপতন। বাজে একটি শট ‌খেলে আউট হয়ে যান রোহিত। মাত্র ১১৩ বলে এই রান করেন তিনি। তবে আউট হওয়ার আগে প্রথমে রাহুলের সঙ্গে ১৩৬ রানের এবং পরে বিরাটের সঙ্গে ৯৮ রানের পার্টনারশিপ করেন রোহিত। বিরাটের ব্যাট থেকেও এদিন রান আসে ৭৭। তবে অনায়াসে ভারত অধিনায়ক শতরান করতে পারতেন।  মহম্মদ আমিরের বলে ৪৮তম ওভারে বিরাট কোহলি কট বিহাইন্ড হন। স্কোরবোর্ডে এটাই লেখা থাকবে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যে কোহলি–‌সহ ক্রিকেট দুনিয়া দেখল, ভারত অধিনায়ক আউট ছিলেন না। আমির এবং সরফরাজ আহমেদ আবেদন করলেও আম্পায়ার প্রথমে কোহলিকে আউট দেননি। কিন্তু আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে কোহলি নিজেই উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে যান। স্টাম্প মাইক্রোফোনে খোঁচা লাগার শব্দও শোনা যায়। কিন্তু আলট্রা এজ টেকনলজিতে দেখা যায় বল ব্যাটে লাগেনি। প্রথমে রাহুল–রোহিত–বিরাটের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল অন্তত ৩৫০ তো উঠবেই। কিন্তু, মহম্মদ আমির এবং ওয়াহাব ৪৪ থেকে ৫০ ওভারের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতকে ৫ উইকেটে ৩৩৬ রানে থামিয়ে দিতে পেরেছিলেন। 

যদিও শেষে দেখা গেল সেটাই পাকিস্তানের জন্য অনেক রান। কারণ শুরুতেই বিজয় শঙ্কর ধাক্কা আনেন পাক শিবিরে। বোলিংয়ের সময় নিজের তৃতীয় ওভারে চোট পান ভুবনেশ্বর। তাঁর সেই ওভারের শেষ দু’‌টি বল করেন বিজয় শংকর। আর এসেই নিজের প্রথম বলে তুলে নেন ইমাম–উল–হকের উইকেট। এরপর যদিও প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৪ রান যোগ করেন বাবর আজম এবং ফাখর জামান। কিন্তু প্রয়োজনের সময় সেই জুটি ভেঙে কোহলিকে চাপমুক্ত করেন কুলদীপ। প্রথমে বাবর আজম (‌৪৮) এবং পরে ফাখার জামান (‌৬২)কে ফিরিয়ে দেন কুলদীপ। আর এরপরই এক ওভারে জোড়া ধাক্কা দেন হার্দিক। ২৭ তম ওভারে প্রথমে মহম্মদ হাফিজ (‌৯)‌ এবং পরের‌ বলে শোয়েব মালিককে (‌০) ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর ফিরে যান সরফরাজও (‌১২)‌। একদিকে উইকেট পড়ছে, অন্যদিকে রানরেট বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আবার নামে বৃষ্টি। শেষপর্যন্ত ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে দেখা যায়, পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যমাত্রা ৩০ বলে ১৩৬ রান। যা কিনা এককথায় অসম্ভব। শেষপর্যন্ত ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১২ রানে থামে পাকিস্তান।
এদিন স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের সেরা হন রোহিত শর্মা। আর ভারত মূল্যবান দুই পয়েন্ট পেয়ে তিন নম্বরে উঠে এল। তবে একটা কথা ম্যাচের পর বলা যায়, ‌পাকিস্তান এদিন শুধু টসটাই জিতেছে, গোটা ম্যাচে সবদিক থেকে জিতল কিন্তু ভারতই।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top