আজকালের প্রতিবেদন: স্বপ্নভঙ্গ! দুশানবের রিপাবলিক সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে ড্র করে প্রাক্–বিশ্বকাপে পরের রাউন্ডে যাওয়ার কোনও সুযোগই রইল না ভারতের।ম্যাচের অন্তিম লগ্নে লেন ডঙ্গেলের গোলে হার বঁাচাল ভারত। ম্যাচটা প্রায় হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল। সংযোজিত সময়ে (৯০+৪ মিঃ) ব্রেন্ডনের মাপা কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে এক পয়েন্ট তুলে আনলেন লেন। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেকেই গোল। লেনের কাছে স্মরণীয় ম্যাচ। কিন্তু দলের কাছে নয়। প্রাক্–বিশ্বকাপে পরের রাউন্ডে যেতে বৃহস্পতিবারের অ্যাওয়ে ম্যাচটা ভারতের কাছে ছিল ডু অর ডাই লড়াই। ৩ পয়েন্ট দরকার ছিল। জিততে না পেরে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ। সেইসঙ্গে এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে যাওয়ার রাস্তাও কঠিন হল ভারতের। খাতায়–কলমে সুযোগ রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তা খুবই কঠিন। পরের দুটো ম্যাচ থেকে ৬ পয়েন্ট এলেও তেমন আশা নেই।
কয়েকদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে সুনীল ছেত্রি বলেছিলেন, ‘কোচ স্টিম্যাকের পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা এখনও খেলতে পারিনি। সময় লাগবে।’ এদিনের ম্যাচ দেখে সে কথাটাই হয়তো বারবার মনে পড়ছিল ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের। গোটা প্রথমার্ধে ভারতের খেলায় পরিকল্পনার অভাব। শুরুর ১০ মিনিট পর্যন্ত ভারতের হাতে ম্যাচ ছিল। তারপর খেলায় ফেরে প্রতিপক্ষ। আক্রমণের পর আক্রমণ। বল পজেশনও বেশি রাখে।
৪–২–৩–১ রণনীতিতে দল সাজিয়েছিলেন ভারতের কোচ ইগর স্টিম্যাক। প্রণয় হালদার ও ব্রেন্ডনকে ডিফেন্সিভ স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করেন তিনি। কিন্তু ভারতের মাঝমাঠে মিসপাস হচ্ছিল। বিপক্ষ লং বল খেলে ম্যাচে আধিপত্য বজায় রাখে।
দুশানবের প্রবল ঠান্ডা, অ্যাস্ট্রোটার্ফে কিছুটা হলেও সমস্যা হচ্ছিল ভারতীয় ফুটবলারদের। ১০ মিনিটে ভুল ক্লিয়ারেন্সে বিপদ ডেকে এনেছিলেন ডিফেন্ডার আদিল খান। ভারতের দুটো উইং সেভাবে ধারালো না থাকায় আত্রুমণের তেজ ছিল না। আনাস না থাকায় রক্ষণ নিয়ে স্টিম্যাকের চিন্তা ছিলই। লেফট ব্যাক মান্দার রাও দেশাইয়ের দিক থেকেই যাবতীয় আক্রমণ শানাচ্ছিল আফগানিস্তান। প্রথমার্ধের সংযোজিত সময়ে মান্দারকে সামনে রেখেই স্কোয়্যার পাস ডেভিড নাজিমের। তা থেকে জেলফি নাজারির ফিনিশ।
০–১ পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মান্দারকে তুলে নেন স্টিম্যাক। পরিবর্তে জামশেদপুরের ফারুখ চৌধুরিকে নামিয়ে আক্রমণাত্মক রণনীতিতে যায় ভারত। মনবীর নামেন। প্রথমার্ধের তুলনায় ভারতের বলের দখল বাড়ে। মিসপাসের সংখ্যা কমে। প্রতিপক্ষ রক্ষণে বেশ কয়েকটা আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়ে। কর্নার থেকে সুনীল ছেত্রির হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। প্রীতম কোটালের হেড দারুণ সেভ করেন বিপক্ষ গোলরক্ষক।
গোল শোধের মরিয়া চেষ্টা করছিল ভারত। তাদের আক্রমণে রাশ টানতে রক্ষণে ‘পার্ক দ্য বাস’ স্ট্র্যাটেজি নিয়েছিল আফগানিস্তান। তাছাড়া ফাইনাল থার্ডে গিয়ে সুনীল–উদান্তা–আশিক কম্বিনেশনও কাজ করছিল না। সুনীলকে ছন্দে পাওয়া যায়নি। ভারত অধিনায়কের পায়ে বল গেলেই বিপক্ষের ডিফেন্ডাররা দু–তিনজন চলে আসছিলেন। প্রতি–আক্রমণে বিপক্ষ দল গোলের সুযোগ তৈরি করে ফেলছিল। কাউন্টার অ্যাটাকে দ্বিতীয়ার্ধে বিপক্ষের আমিরির শট পোস্টে লাগে। ভারতের তারকা ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘানের অভাব স্পষ্ট। রক্ষণে নেতৃত্ব দিয়ে খেলার মতো কেউ নেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ভারত ছন্দে ফেরে। তাতে অবশ্য লাভ কিছু হয়নি।
পরের ম্যাচটাও ভারতের অ্যাওয়ে ম্যাচ। ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচটা কার্যত নিয়মরক্ষার ম্যাচ হয়ে দাঁড়াল ভারতের কাছে। 
ভারত: গুরপ্রীত, প্রীতম (‌‌লেন), রাহুল, আদিল, মান্দার (ফারুখ), প্রণয়, ব্রেন্ডন, উদান্তা, সাহাল (মনবীর), আশিক, সুনীল

গোল করার মুহূর্তে ডাংগেল। ছবি: টুইটার

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top