গৌতম সরকার
ফ্রান্স     ২
এমবাপে, জিরৌদ

হল্যান্ড   ১ 
বাবেল

আবার এমবাপেকে দেখছি, আবার পোগবা, গ্রিজম্যানকে েদখছি, আবার জিরৌদকেও দেখছি। আর দেখতে দেখতে মুগ্ধ হচ্ছি। বিশ্বকাপে যে ছন্দে ছিল দল, সেই ছন্দ, সুর কাটেনি। বিশ্বকাপ জেতার পর সাধারণত যে গা–‌ছাড়া ভাব আসে, ফ্রান্সের খেলায় সেটা ছিল না। খেলতে হয় বলে খেলতে নেমেছে নেশনস কাপে, মোটেই নয়। প্রথম ম্যাচের তুলনায় দ্বিতীয় ম্যাচে আরও যেন বেশি করে নিজেদের চেনাল ফ্রান্স। হ্যাঁ, এটা ঘটনা, রাশিয়া বিশ্বকাপে হল্যান্ড ছিল না। তবে উত্তেজনাপূর্ণ খেলা হয়েছে। হল্যান্ডের মনোভাব ছিল, বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী। বাবেলের গোলটা তার জ্বলন্ত উদাহরণ। ঠিক জায়গায় ঠিক সময়ে পৌঁছে গেছে। কিন্তু লড়াইয়ে যোগ্য দল হিসেবে ২–১ জিতেছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপ জয়ী দলকে নিয়ে যে কথাটা বারবার বলতে হচ্ছে, সেটা হল ওদের মানসিকতা। কিলিয়ান এমবাপে তো বিশ্বকাপের ছন্দেই আছে। ১৪ মিনিটে হল্যান্ডের প্রমেসের অবাক করা হেড, বক্সের মধ্যে পেয়ে মাতৌদি ক্রস করে। সেই ক্রস থেকেই গোল এমবাপের। অন্য দলের সঙ্গে ফ্রান্সের তফাত হল, ফুটবল যে শুধু সৌন্দর্য ছড়ানোর খেলা নয়, এর মধ্যে যে অসাধারণ মস্তিষ্ক কাজ করে, সেটাই ওরা বারবার দেখাচ্ছে। মানে সময় মতো বুদ্ধি খরচ করে জায়গা দখল করা, নতুনত্ব, উন্নতির ছাপ রাখা। এত পাসের বৈচিত্র‌্য!‌ মন ভরে যায়। এই ম্যাচ দেখার জন্য অনেক রাত, অনেক দিন জেগে থাকা যায়।  খেলার ৬২ মিনিটে বাবেল হল্যান্ডের হয়ে সমতা ফেরানোর পরও কিন্তু একবারও মনে হয়নি ম্যাচটা ড্র হতে পারে (‌‌যদিও বৃহস্পতিবার মিউনিখে প্রথম ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেছিল এই ফ্রান্স)‌‌। তার প্রমাণ অনেকদিন পর দেশের জার্সিতে জিরৌদের গোল। বিশ্বকাপে ও অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু মিস করেছিল। এদিন অবশ্য ৭৪ মিনিটে অসাধারণ গোলটা করল। দেশের জার্সিতে ৩২ গোল করে পেছনে ফেলে দিল কিংবদন্তি জিদানকে (‌‌৩১ গোল)‌‌। ৮৩ ম্যাচ খেলে ৩২ গোল করল জিরৌদ। জিদান খেলেছিল ১০৮ ম্যাচ। রাশিয়া বিশ্বকাপে ওর মিস করা নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু আমি বলব, মিস খেলার অঙ্গ। মিস তো মেসিও করে। তবে জিরৌদ বিশ্বকাপে গোল মিস করলেও, ও কিন্তু ফ্রান্সকে দারুণ নির্ভরতা দিয়েছিল। এমবাপে, পোগবাদের অনেক সাহায্য করেছিল। আদর্শ সৈনিকের ভূমিকায় ছিল। এগুলো কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে?‌  হল্যান্ড এই ম্যাচে সমানে সমানে টক্কর দিয়েছে। সুযোগ তৈরি করেছে। হয়তো সব গোল হয়নি। কিন্তু চেষ্টায় খামতি ছিল এই অভিযোগ ওদের বিরুদ্ধে কেউ করতে পারবে না। লেখা শেষের আগে এমবাপের কথা আলাদা করে না লিখলে, অসম্পূর্ণ থাকবে বিশ্লেষণ। ওকে যত দেখছি, মুগ্ধ হচ্ছি। ফোকাস থেকে এতটুকু সরেনি। বল নিয়ে যে দু’‌বার এগিয়েছে অসাধারণ। চাইব, ও সুস্থ থাকুক। এভাবেই এগোক। এই মুহূর্তে সারা বিশ্বের সমস্ত তরুণ, উদীয়মান ফুটবলারদের কাছে জ্বলন্ত উদাহরণ। বিশ্বকাপ খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, একটা নাম হয়েছে— তারপর মনোবিজ্ঞান বলে একটা অহংকার কাজ করে। মনে হয়, মাঠে মেরে দেব। কিন্তু এমবাপেকে দেখে মনেই হল, এরকম কিছু ওর ভেতরে কাজ করছে। তবে দেশঁর দলের একা এমবাপে নয়। গ্রিজম্যান, জিরৌদের মনোভাবেও স্পষ্ট ওরা ফোকাস হারায়নি। সবমিলিয়ে বলতে হয়, প্রাণবন্ত ফুটবল দেখলাম। যে ফুটবল মন ভাল করে দেয়। ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top