সুরজিৎ সেনগুপ্ত: রাশিয়ার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর প্রায় মাসখানেকের একটা অবসর পাওয়া গিয়েছিল। প্লেয়াররা উপভোগ করছিল এই অবসর। আর আমরা মানে দর্শকরা বিরক্ত হচ্ছিলাম, ফুটবল দেখতে পাচ্ছি না বলে। এখন আবার ইংল্যান্ড, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সে ফুটবল লিগ শুরু হয়ে গেছে। তারই ফাঁকে একটা নতুন টুর্নামেন্ট এসে গেল আমাদের সামনে— উয়েফা নেশনস লিগ। এদিন ছিল এই টুর্নামেন্টের খেলা, ফ্রান্স বনাম জার্মানি। 
ধারাবাহিকতার বিচারে এই দু’‌টো দলই পরস্পরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানে জার্মানি অনেকটা এগিয়ে। তারা চারবার বিশ্বকাপ জিতেছে, ইউরো কাপও জিতেছে বহুবার। সেই তুলনায় ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছে দু’‌বার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অর্থাৎ সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে ফ্রান্স চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আর প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে জার্মানিকে। উয়েফা নেশনস লিগে এদিন এই দুই দল মুখোমুখি হয়ে আমাদের উপহার দিল একটা অসাধারণ ম্যাচ। 
যে শক্তি নিয়ে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছে, সেই দলকেই অপরিবর্তিত রেখে খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স। অন্যদিকে বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানিও সেই দলকে নিয়েই নেমেছিল। ডিফেন্সে বোতেং–‌হামেলস, মাঝমাঠে টনি ক্রুজ, ডেক্সলার, ফরোয়ার্ডে মুলার— মোটামুটি বিশ্বকাপের সেই দল। ফ্রান্সও এমনই বিশ্বকাপের দল নিয়েই এসেছিল। ডিফেন্সে ভারানে, উমতিতি, মাঝমাঠে পোগবা, ‌মাতুইদি আর ফরোয়ার্ডে গ্রিজম্যান, এমবাপে। রাশিয়া ‌বিশ্বকাপের কথা মনে রেখেই ভাবছিলাম বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত জার্মানি বোধহয় সদ্য চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ধরে রাখতে পারবে না। কিন্তু, বাস্তবে তা ঘটল না। খেলা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হামেলস এসে প্যাগার্ডের ক্রস সেন্টারে হেড দিয়ে ফ্রান্স গোলকিপারকে পরীক্ষা করে গেল। পরমুহূর্তেই দেখা গেল মাঝমাঠে বল ধরে এমবাপে বল নিয়ে অনেকটা দৌড়ে গিয়ে জার্মানি ডিফেন্সকে চাপে ফেলে দিল। যদিও এতটা দৌড়ের পর এমবাপের শটটা ছিল দুর্বল। কথায় বলে ‘‌মর্নিং শোজ দ্য ডে’‌। খেলার শুরুতেই আক্রমণ আর প্রতিআক্রমণের ঝড় দেখে সেই প্রবাদটাই মনে আসছিল। বেশ ভাললাগার সঙ্গেই দেখলাম খেলায় শেষ পর্যন্ত এই ঝড়ই বজায় রইল। 
ম্যাচে প্রায় সব কিছুই ছিল— গতি ছিল, ছিল অনেক নির্ভুল পাশ, সেট পিসের বৈচিত্র‌্য ছিল, ছিল বেশ কয়েকটা ভাল শট। তবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে গোল, সেটাই ছিল না। এবং তার জন্য দু’‌দলের গোলকিপারকেই কৃতিত্ব দিতে হবে। একদিকে গ্রিজম্যান, এমবাপে, পোগবার শট একের পর এক সেভ করছে জার্মানির গোলকিপার ন্যুয়ের। অন্যদিকে মুলার, ক্রুজ, ড্রেকসলার শট বাঁচিয়ে দিচ্ছে ফ্রান্সের গোলকিপার। 
খেলা শুরু হয়েছিল আমাদের সময় রাত সওয়া বারোটায়। খানিকটা ঘুম চোখে নিয়েই খেলা দেখতে বসলাম। খেলা শুরু হতেই যে গতি আর দক্ষতা দু’‌দলের প্লেয়ারদের মধ্যেই দেখতে পেলাম, তাতে চোখ থেকে ঘুম কোথায় উড়ে গেল। যদিও আমরা সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবলে বেশ কিছু ভাল ম্যাচ দেখেছি, তবু, মনে হচ্ছিল যেন বহুদিন এমন ম্যাচ দেখিনি। বিশ্বকাপে স্পেন আর পর্তুগালের ম্যাচটা মনে পড়ছিল যেখানে ফলাফল ছিল ৩–‌৩। সেখানে গোলকিপারের দুর্বলতা চোখে পড়েছিল। এদিনের ম্যাচে আমরা পেলাম অনবদ্য গোলকিপিং। ম্যাচ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হওয়ার এটাই একমাত্র কারণ। আশাকরি উয়েফা নেশনস লিগে এমনই বেশ কিছু ম্যাচ আমরা দেখতে পাব।‌‌‌‌

জার্মানির প্রশংসা দেশঁর মুখে
সংবাদ সংস্থা, মিউনিখ: মেসুট ওজিলের জাতীয় দলের হয়ে না খেলার সিদ্ধান্তে রীতিমতো হতাশ কোচ জোয়াকিম লো। বৃহস্পতিবার ‌ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে বারবারই জার্মানির মিডফিল্ডে ওজিলের মতো প্লেয়ারের অভাব লক্ষ্য করা গেছে। সেকথা মাথায় রেখেই লো বলেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একবার ওজিলের উচিত ছিল তাঁর সঙ্গে কথা বলা। ‘‌ভেবেছিলাম ও আমাকে ফোন করে সিদ্ধান্তের কথা জানাবে। সেটা করেনি, তাই আমি হতাশ। মানবিকতার বিচারেও আমি হতাশ। অনেক বছর একসঙ্গে কাজ করেছি আমরা।’‌ বলেছেন লো। তবে ওজিল ফিরে এলে তিনি যে স্বাগত জানাবেন, সেটাও বলেছেন লো, ‘‌আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে ওকে দলে ফেরাব।’‌
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগানের সঙ্গে দেখা করার পরেই ওজিলকে নিয়ে ঝড় উঠেছিল দেশে। ওজিলের দাবি ছিল, তাঁকে জোর করে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। যে অভিযোগ উড়িয়ে লো বলেছেন, ‘‌হ্যাঁ, ব্যাপারটা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তাতে আমাদের পারফরমেন্সে প্রভাব পড়েনি।’‌ তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁর দল যেভাবে খেলেছে, তাতে খুশি লো। বলেছেন, ‘‌আমাদের পারফরমেন্স গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেভাবে দল খেলেছে, তাতে আমি খুশি। ঠিকঠাক হলে আমরা গোলও করতে পারতাম। ডিফেন্সও ভাল খেলেছে। ফ্রান্সকে গোল করার সুযোগ দেয়নি।’‌
ফ্রান্সের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপেকে এদিন বিশ্বকাপের ফর্মেই পাওয়া গেছে। জার্মান ডিফেন্সে মাঝেমধ্যেই তিনি আঘাত হানছিলেন। কোচ দিদিয়ের দেশঁ বলছেন, ‘‌আমরা জিততেই নেমেছিলাম। কিন্তু জার্মানি অনেক ভাল খেলেছে। বিশ্বকাপে একটা বড় ধাক্কা খাওয়ার পর এটাই ওদের প্রথম ম্যাচ ছিল। সেখানে অনেক ভাল খেলেছে ওরা।’‌

এমবাপে–‌মুলারের বল দখলের লড়াই। ছবি:‌ এএফপি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top