আলোক সেন, বাঁকুড়া: জয়পুরে খেলতে গিয়ে মৃত্যু হল এক প্রতিভাবান ফুটবলারের। স্কুলের জোনাল পর্যায়ের ফাইনাল খেলায় মারাত্মক চোট পেলে তাকে বাঁকুড়া মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় তার। ফুটবলারের নাম অভিজিৎ দে (‌১৭)। সে জয়পুরের আশুরালি জেসি হাইস্কুলে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ত। অভিজিতের বাড়ি ওই গ্রামেই। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্কুল এবং গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।
খবর পেয়েই বঁাকুড়া মেডিক্যালে ছুটে যান মন্ত্রী শ্যামল সঁাতরা। তিনি বলেন, ‘‌ছাত্রটির পরিবার অত্যন্ত অভাবী। বাবা রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ের কাজ করেন।’‌ অভিজিতরা দুই ভাই। সে ছোট। তার দাদাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি। এদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে ৫০,০০০ টাকা তিনি অভিজিতের পরিবারের হাতে তুলে দেন। স্কুলের শিক্ষক সব্যসাচী খঁা জানান, জয়পুর হাইস্কুল মাঠে গতকাল তঁাদের স্কুলের সঙ্গে মাগুরা হাইস্কুলের খেলা হচ্ছিল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তখন তঁাদের স্কুল ২–১ গোলে এগিয়ে ছিল। অভিজিৎ ছিল তঁাদের স্কুলের গোলকিপার। বিপক্ষের কর্নার আটকাতে সে যখন লাফিয়ে বলটি ধরার চেষ্টা করছিল, তখন বিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে তার ধাক্কা লাগে। ভারসাম্য রাখতে না পেরে অভিজিৎ মাটিতে পড়ে যায়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে উঠে বলটিকে আটকায় সে। তার পরই ফের মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দেখা যায়, অভিজিতের মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে জয়পুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা করে জানিয়ে দেন, আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। এখনই তাকে বঁাকুড়া মেডিক্যালে নিয়ে যেতে হবে। তখন দ্রুত তাকে বঁাকুড়া মেডিক্যালে এনে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে তাকে সিসিইউ–তে নিয়ে যান। কিন্তু তাকে বঁাচানো যায়নি। রাত ৯টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়। সব্যসাচীবাবু জানান, অভিজিৎ ছাত্র হিসেবে ছিল অত্যন্ত মেধাবী ছিল। খেলার মাঠেও ছিল দলের একজন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। বঁাকুড়া মেডিক্যালে ময়নাতদন্তের পর এদিন বিকেলে তার মৃতদেহ আশুরালি গ্রামে গিয়ে পৌঁছলে কান্নার ঢেউ ওঠে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top