নজরুল ইসলাম: ঐতিহাসিক টেস্ট নিয়ে যেমন মেতে উঠেছে মহানগর। তার আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। ওপার বাংলাও অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ইডেন টেস্টের দিকে। ফলাফল নয়, ইডেনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে বাংলাদেশিদের কাছে। সাফল্যের প্রত্যাশা নেই। ঐতিহাসিক গোলাপি বলে নৈশালোকে খেলাটাই বাড়তি আবেগ। ক্রিকেটপ্রেমীদের সঙ্গে উত্তেজিত মুশফিকুর রহিমরাও।
মঙ্গলবার বিকেলে কলকাতায় পা রেখেছে বাংলাদেশ দল। হোটেলে ঢোকার সময়ই মোমিনুলদের শরীরী ভাষাতেই বোঝা যাচ্ছিল কতটা উত্তেজিত। গোলাপি বলে টেস্ট খেলাটা যে বাড়তি চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ শিবির। ইন্দোরে লাল বলে সামি, উমেশদের সুইং সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের। গোলাপি বলে যে আরও সমস্যায় পড়তে হবে মেনে নিয়েছেন মুশফিকুররা। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান তো মনে করছেন, গোলাপি বলে টেস্ট খেলাটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ। মুশফিকুরের মুখে শোনা গেছে সেই চ্যালেঞ্জের কথা। ‘‌‌ইডেনে ঐতিহাসিক টেস্টে মাঠে নামার জন্য উদগ্রীব। তবে এই ম্যাচ বাড়তি চ্যালেঞ্জ। লাল বলের তুলনায় গোলাপি বল অনেক বেশি সুইং করে। এই দুদিন সুইংয়ের সঙ্গে মনিয়ে নিতে হবে।’‌ লাল বলেই যেখানে সাফল্য নেই গোলাপি বলে মহম্মদ সামি, উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মাদের বিরুদ্ধে কতটা লড়াই করতে পারবেন মুশফিকুররা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তবু গোলাপি বলে টেস্ট খেলার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা।
গোলাপি বল সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই বাংলাদেশ শিবিরের। ইন্দোরে মাত্র দুদিন প্র‌্যাকটিস করার সুযোগ মিলেছে। ইডেনে আরও দুদিন। অর্থাৎ চারটি সেশন প্র‌্যাকটিস করে গোলাপি বলের লড়াইয়ে নামতে হবে  মোমিনুলদের। তবুও মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে। দলের জোরে বোলার আল আমিন বলছিলেন, ‘‌ইডেনে গোলাপি বলে ঐতিহাসিক টেস্ট খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। গোলাপি বল সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা নেই। ইন্দোরে দুটো সেশন প্র‌্যাকটিস করেছি। ইডেনে আরও দুটো সেশন পাব। আশা করছি মানিয়ে নিতে সমস্যা হবে না। তবে এই ম্যাচটা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।’‌  
আল আমিন মনে করছেন তাঁদের মতো ভারতীয় ক্রিকেটারদেরও গোলাপি বলে সমস্যায় পড়তে হবে। তাঁর কথায়, ‘‌গোলাপি বল সম্পর্কে আমাদের খুব বেশি ধারণা নেই। বেশ কয়েকজন ভারতীয় ক্রিকেটারেরও একই অবস্থা। লাল বলের সঙ্গে গোলাপি বলে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তবে দুই দলের ক্রিকেটারদের একই বলে খেলতে হবে। বোলার হিসেবে একটা কথা বলতে পারি, গোলাপি বলে বোলাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবে। আমাদের সামনে যে সুযোগ আসবে সেটা আঁকড়ে ধরতে হবে। না হলে ভারতীয় দলের ওপর চাপ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।’‌
এ তো গেল বোলার আল আমিনের কথা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে গোলাপি বলের সুইং। দলের অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের মুখেও গোলাপি বলে সুইংয়ের কথা। ‌গোলাপি বল সুইং ও বাউন্স অনেক বেশি। গতিও বেশি। ব্যাটসম্যানদের সতর্ক থাকতে হবে। ইন্দোরে দুদিন প্র‌্যাকটিস করে গোলাপি বল সম্পর্কে এটাই ধারণা মেহেদি হাসান মিরাজের। তবে আমরা গোলাপি বলে টেস্ট খেলার জন্য অন্য ক্রিকেটারদের সঙ্গে তিনিও মুখিয়ে রয়েছেন। ইন্দোরের মতো ইডেনে আর ভুল করতে চায় না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেল ইডেনে তিন জোরে বোলার নিয়েই মাঠে নামার পরিকল্পনা। পরিস্থিতি বুঝে আরও একজন বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মুস্তাফিজুর রহমান, আল আমিনকে খেলানোর ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশ শিবিরের।
মঙ্গলবার কলকাতা পৌঁছনোর পর সন্ধে পর্যন্ত হোটেলেই বিশ্রাম নেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা। রাতে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের দেওয়া নৈশভোজে হাজির ছিলেন সব ক্রিকেটারই। নৈশভোজ টেবিলেই লড়াইয়ের অঙ্গীকার মুশফিকুরদের। বাইশ গজে নেমে সেই অঙ্গীকার কতটা বাস্তবায়িত করতে পারেন এখন সেটাই দেখার।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top