সৌমিত্র কুমার রায়—ফ্ল্যাশব্যাকে ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। 
৪–০ ডার্বি জিতে ছয়ে ছয় ঘরোয়া লিগ জয়ের স্বপ্ন সত্যি করার পথে এগনো। 
২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। ব্যবধানটা তিন বছরের। ইস্টবেঙ্গলের ঘরোয়া লিগ জয়ের নয়ে নয়ের স্বপ্ন কার্যত শেষ। বছর তিনেক আগে যে কোচের হাত ধরে লাল–হলুদ সমর্থকদের মুখে হাসি ফুটেছিল, বৃহস্পতিবার সেই কোচই টানা ন’বার লিগ জয়ের হাসিটা ইস্টবেঙ্গলের মুখ থেকে কার্যত কেড়ে নিলেন। বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। ‘দাদা, তিন বছর আগে আপনি এইদিনে আমাদের ডার্বি জিতিয়ে ছিলেন। আর আজ আমাদের স্বপ্নভঙ্গ করে দিলেন।’ তঁাবু ছাড়ার সময় বিশ্বজিতের পিছনে হাঁটতে হাঁটতে এক লাল–হলুদ সমর্থক কথা বলছিলেন। কিছুটা এগিয়ে থামলেন বিশ্বজিৎ। ঘাড় ঘুড়িয়ে বললেন, ‘বিশ্বাস করুন, আমার একদম মাথায় ছিল না। আপনি আমাকে মনে করিয়ে দিলেন।’
এ দিন ইস্টবেঙ্গল মাঠে পিয়ারলেসের কাছে ১–২ হেরে বাগানের লিগ জয়ের রাস্তা সহজ করে দিল লাল–হলুদ। ডার্বির পরের ম্যাচ, হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা থাকেই। সেটাই হল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের টাটকা বিশ্বকাপার ডিফেন্ডার জনি অ্যাকস্টা কী করলেন? তিনি ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেওয়ার আগে সুভাষ–বাস্তব–রঞ্জনদের দল গোল হজম করেছিল ১, আর জনিকে ডিফেন্সে রেখে দু’ম্যাচে চার গোল হজম! ডার্বিতে পিন্টু মাহাতো নেইমারের বিরুদ্ধে খেলা ডিফেন্ডারকে টপকে গোল করেছিলেন। আর এ দিনও একই ছবি। পিয়ারলেসের আনসুমানা ক্রোমা ও নরহরি শ্রেষ্ঠার দুটো গোলের পরই জনিকে নিয়ে ফিসফাস শুরু গ্যালারিতে। অস্বীকার করার কোনও জায়গাই নেই। বিশ্বকাপারকে কাটিয়ে গোল ক্রোমার। ৭ মিনিটে। পিয়ারলেসের গোল খেলার গতির বিপরীতে। এর আগে পর্যন্ত পিয়ারলেস রক্ষণ কঁাপছিল লাল–হলুদ আক্রমণের ঢেউয়ে। ৭৮ মিনিটে নরহরি গোল করেন। নিজেদের মধ্যে তিন–চারটে পাস খেলেন পিয়ারলেস ফুটবলাররা। মাঝমাঠ থেকে লং বল পান নরুদ্দিন। তিনি বল নিয়ে যখন এগোচ্ছিলেন, কাছেই ছিলেন বিশ্বকাপার। ক্লোজ মার্কিংয়ে কেন গেলেন না জানা নেই। নরুদ্দিন হেলায় পাস করলেন নরহরিকে। বল ধরে ৩৫ গজ দূর থেকে গোলার মত শটে গোল নরহরির। শটটা সামাদ আলির পায়ে লাগায় ইস্টবেঙ্গল কিপার বুঝতে পারেননি।
শুধু বিশ্বকাপারে বিরক্ত হয়ে লাভ কী? টিমের গোল মিসের প্রদর্শনী। ৬ মিনিটের মাথায় জবি জস্টিন যে সুযোগ নষ্ট করলেন, গোল করার থেকে গোল মিস করাই কঠিন। ডানমাইওয়া রালতের বাইসাইকেল কিক পিয়ারলেস কিপার সেভ করেন, গোল লাইনের সামনে দঁাড়িয়ে মিস জবির। ২২ মিনিটে মেহতাব সিংয়ের হেড থেকে কাশিমের আরও একটি সুযোগ নষ্ট। প্রথমার্ধেই ম্যাচটা শেষ করে দিতে পারত ইস্টবেঙ্গল। সেই ম্যাচে ৭২ মিনিটে গোল শোধ দিতে হচ্ছে। ৭২ মিনিটে বঁাদিক থেকে গগনদীপের মাপা সেন্টার, পঁা ছুইয়ে গোল কাশিমের। মিনার্ভার বিদেশির পিছনে বিশ্বজিৎ লাগিয়ে দিয়েছিলেন ক্রোমাকে। সেই ক্রোমা ২৮ মিনিটে চোট পেয়ে বেরিয়ে যান। পরিবর্ত হিসেবে নামা নরহরি নিজের কাজটা দারুণ করেন। সুযোগ পেলেই আক্রমণে চাপ বাড়াচ্ছিল পিয়ারলেস। এগিয়ে থেকেও কখনও রক্ষণাত্মক খেলার ভুল করেনি তারা। তবে পিয়ারলেস ফুটবলাররা ম্যাচে অহেতুক সময় নষ্ট করছিলেন। 
গোলের জন্য উঠে যাচ্ছেন জনি। কিন্তু সতীর্থরাই অবাক ম্যাচে বিশ্বকাপারকে সেভাবে ট্যাকলে যেতে না দেখে। খেলার অন্তিম মুহূর্তে জনির হেড বঁাচান বিপক্ষ কিপার সন্দীপ পাল। ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রেন্ডন। তঁাকে এবং লালরিনডিকাকে তুলে নেওয়ার পর উইং প্লে মার খায়। দ্বিতীয়ার্ধে আমনাকে সামনে তুলে দিয়ে ৪–৪–২ ছকে গিয়েও লাভ হয়নি।
ম্যাচ হেরে ইস্টবেঙ্গলের তীরে এসে তরী প্রায় ডুবল বলাই যায়। গ্যালারিতে বসে দলের হার দেখলেন নতুন স্প্যানিশ কোচ আলেজান্দ্রো। দুটো ম্যাচই দেখলেন, জয় দেখতে পেলেন না।   
ইস্টবেঙ্গল: রক্ষিত, সামাদ, মেহতাব, অ্যাকস্টা, চুলোভা (কমলপ্রীত), রালতে, কাশিম, লালরিনডিকা (বালি), আমনা, ব্রেন্ডন (সুরাবুদ্দিন), জবি

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top