সৌমিত্র কুমার রায়- নেতাজি ইনডোর থেকে বাড়ি ফিরেই ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা হয়তো চলতি মাসের দুটো দিন ক্যালেন্ডারে লাল কালির দাগ দিয়ে রাখবেন।
১ আগস্ট এবং ১৩ আগস্ট।
মনের মণিকোঠায় বাঁধিয়ে রাখার মতো দুটো দিন। পয়লা আগস্ট যদি ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ উৎসবের অষ্টমী হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা অবশ্যই নবমীর রাত। উৎসবের আমেজ। এ উৎসব যেন পুনর্মিলনের। ছয়, সাত, আটের দশক থেকে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের মিলিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গলের ক্রীড়াদিবসের সন্ধ্যা। বহু বছর বাদে একে অপরের সঙ্গে দেখা। পুরনো স্মৃতি ভেসে ওঠা। প্রাক্তন অধিনায়ক খাবরাকে দেখেই জড়িয়ে ধরলেন মেহতাব হোসেন। কতদিন বাদে দু’জনের দেখা।   
খাবরা, মেহতাব, সংগ্রাম মুখার্জি, রবার্ট, কুলজিৎ সিংরা এক এক করে ইনডোরের ভিতরে প্রবেশের মুখে তঁাদের বুকে জড়িয়ে ধরছিলেন ক্লাবের কর্তারা। ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলাররাও আবার তঁাদের ঘরে ফিরতে পেরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়ছিলেন। মঞ্চে উঠে অভ্র মণ্ডলের চোখে জল। ইনডোর ছাড়ার আগে মেহতাব বলে গেলেন, ‘অবশ্যই ইস্টবেঙ্গল আমার কাছে সব কিছু। ২০০৮ সালে নীতুদা আমার জার্সি নম্বর ২৩ বদলে ১৪ করে দেওয়ার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’
এক কথায় যেন সোনাঝরা সন্ধ্যা। সঞ্চালক মির মঞ্চে ডেকে নেন তরুণ মজুমদার, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, সুলে মুসা, সুকুমার সমাজপতি এবং সবশেষে মজিদ বাসকারকে। ইরানের বিশ্বকাপার তখন মঞ্চের নীচে বসে অনুরাগীদের সইয়ের আবদার মেটাচ্ছিলেন। পাশে বসা জামশিদ নাসিরি তঁাকে বলেন মঞ্চে উঠতে। মঞ্চের নীচে সামনের সারিতে বসে ইস্টবেঙ্গলের সমস্ত জীবিত অধিনায়করা। যঁাদের সংবর্ধিত করা হল। কিন্তু, ছড়িয়ে–ছিটিয়ে হীরের মাঝে কোহিনুর একজনই। তিনি, বাদশা। সব রং একাই শুষে নিলেন। সকালে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে রক্তদাতাদের উৎসাহ দেওয়া থেকে দুপুরে তারকাদের ম্যাচেও প্রধান আকর্ষণ তিনিই। ইরান থেকে ক্লাবকর্তাদের জন্য উপহারও এনেছেন। দুপুরে বাঙালি একাদশ বনাম ভিন রাজ্য ও বিদেশি একাদশের ম্যাচে তারকার মেলা। কে নেই সেখানে। শেষপর্যন্ত বাঙালি একাদশ ৫–২ গোলে জেতে। গোলদাতা নবি (৩), ষষ্ঠী দুলে ও দীপঙ্কর রায়। বিপক্ষের গোলদাতা সঞ্জু প্রধান।
প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু। প্রধান অতিথি তরুণ মজুমদার, সম্মাননীয় অতিথি রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়কে সংবর্ধিত করা হয়। ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। পঞ্চপাণ্ডবের পরিবারকেও সংবর্ধনা দেওয়া হল। এরই মাঝে আবেগঘন মুহূর্ত ৈতরি হল মঞ্চে। নিজের উত্তরীয়টা মজিদের গলায় পরিয়ে দেন জামশিদ নাসিরি। ক্লাবের অ্যালম্যানাকের উদ্বোধন করেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘মাঠে বসে ইস্টবেঙ্গলের খেলা দেখেছি। আজ মনে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলে একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।’ জীবিত অধিনায়কদের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলে কোচিং করানো সমস্ত কোচকে সংবর্ধিত করা হয়। প্রাক্তন ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, ‘প্রথম ইস্টবেঙ্গল জার্সিটা গায়ে চাপিয়ে আয়নার সামনে পঁাচ মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম।’
অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া শতবর্ষের থিম সং এদিনই আত্মপ্রকাশ করল। ব্যাপক গেয়েছেন অরিজিৎ। যেন এই গানটিই এদিনের ‘ম্যান অফ দ্য ম্যাচ’। ইমন চক্রবর্তী ও নচিকেতার সঙ্গীতানুষ্ঠােন জমজমাট শতবর্ষের ‘ক্রীড়া দিবস’।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top