সৌমিত্র কুমার রায়,  নজরুল ইসলাম- ভারত বনধে্র বাজার। সিএবি–র সামনের রাস্তায় অন্যদিনের তুলনায় গাড়িঘোড়া কম। তা থেকে একটু এগিয়ে এসে লেসলি ক্লডিয়াস সরণি। সেই রাস্তা আরও শুনশান। ছবিটা আসলে প্রতীকী।
মঙ্গলবারের ইস্টবেঙ্গল বনাম মহমেডান ম্যাচ। মিনি ডার্বি। এই ম্যাচের আগে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারত। টিকিট কেনার লাইন দেখা যেতেই পারত। বদলে উল্টো ছবি। পিয়ারলেসের কাছে ইস্টবেঙ্গল হেরে যাওয়ায় মিনি ডার্বির গুরুত্ব কমেছে। টানা লিগ জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে ইস্টবেঙ্গলের। মিনি ডার্বি দেখতে লাল–হলুদ সমর্থকরাও আগ্রহ হারিয়েছেন। মিনি ডার্বির আগের দিন সকালে দুই ক্লাবের তঁাবুতেই সমর্থকদের দেখা নেই। তার ওপর আইএফএ ম্যাচটা রবিবার থেকে পিছিয়ে মঙ্গলবার করায় উন্মাদনায় আরও ভাটা পড়েছে। আইএফএ–তে টিকিট বিক্রির কাউন্টারের লোকজন মাছি তাড়াচ্ছে। 
যতই হোক মিনি ডার্বি তো। তাই দুই দলের কোচই ম্যাচটা মরা–বাঁচার ম্যাচ হিসেবে দেখছেন। ইস্টবেঙ্গলের কাছে ম্যাচটা ডু অর ডাই, লিগের শেষ পর্যন্ত লিগ জেতার ক্ষীণ আশা জিইয়ে রাখতে। মহমেডান কোচ রঘু নন্দী চাইছেন ম্যাচটা জিতে লিগ টেবিলে সম্মানজনক জায়গায় শেষ করতে।
মহমেডানের বিরুদ্ধে নামার আগে লাল–হলুদ ফুটবলারদের লক্ষ্য, ম্যাচ জিতে নিজেদের কাজটা করে রাখা। চিরশত্রু মোহনবাগান কী করবে, তা ভাবতে নারাজ। কোচ বাস্তব রায় বলে দিচ্ছেন, ‘মোহনবাগান কী করল, ও সব আমরা ভাবছি না। আমাদের কাছে ম্যাচটা ডু অর ডাই। জেতা ছাড়া অন্য টিম কী করল, তা নিয়ে চিন্তা করা আমাদের কাজ নয়।’
মহমেডানের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে কয়েকটা পরিবর্তন হবে। অনুশীলনে ইঙ্গিত, গোলে রক্ষিত দাগারের বদলে উবেদ আসতে পারেন। মাঝমাঠে প্রকাশ সরকার এবং সুরাবুদ্দিন আজ শুরু করতে পারেন। কারণ, লালরিনডিকা ও ব্রেন্ডন চোটের জন্য অনিশ্চিত। আমনার চোখের সংক্রমণ সেরে গেছে। এদিন অনুশীলনে দেখা গেল সুভাষ ভৌমিককে রক্ষণ সংগঠনের দিকে জোর দিতে। রক্ষণে চুলোভার জায়গায় খেলবেন ফানাই। মিনি ডার্বির আগে বিশ্বকাপার ডিফেন্ডার জনি অ্যাকস্টাকে নিয়ে প্রাক্–ম্যাচ সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন উড়ে গেল বাস্তব রায়ের উদ্দেশে। বাস্তব বলছেন, ‘অ্যাকস্টাকে সময় দিতে হবে, ও মানিয়ে নেবে।’
বিপক্ষ মহমেডান শিবির অ্যাকস্টাকে নিয়ে সতর্ক, কিন্তু বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ। বিদেশি এমেকার গর্জন, ‘জনি বিশ্বকাপার হতে পারে। ফুটবলটা হয় মাঠে। ম্যাচের দিনে যে দল ভাল খেলবে, তারাই জিতবে।’ লাল–হলুদ রক্ষণে চাপ বাড়াতে জোড়া স্ট্রাইকারে রণনীতি সাজিয়েছেন রঘু নন্দী। ফরোয়ার্ডে এমেকার সঙ্গে লাল–হলুদের প্রাক্তনী বাজো আর্মান্ডকে জুড়ে দেওয়া হতে পারে। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠকে গুরুত্ব দিচ্ছেন রঘু নন্দী। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে রঘুর লক্ষ্য ৩ পয়েন্ট, তবে ১ পয়েন্ট হলেও পেতে মরিয়া, ‘মিনি ডার্বি হারতে কোনও দলই চায় না। এই সমস্ত ম্যাচে ফুটবলাররা চেগে থাকে। আমরা ইস্টবেঙ্গলের থেকে পিছিয়ে রয়েছি। জানি, ওরা অল আউট খেলবে। আমরাও অল আউট যাব। ৩ পয়েন্ট পেলে ভাল, না হলে ১ পয়েন্ট নিয়েও মাঠ ছাড়তে চাই।’‌

আজ বড় ম্যাচ। তার আগে অ্যাকস্টাকে ক্যামেরাবন্দি ব্যস্ত মেহতাব সিং। ছবি— রনি রায় 

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top