আজকালের প্রতিবেদন: খলনায়ক হতে গিয়েও দিনের শেষে নায়ক হয়েই মাঠ ছাড়লেন হাইমে কোলাডো। পেনাল্টি মিস করে সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছিলেন। সেই কোলাডোই আবার পেনাল্টি থেকেই গোল করে, মার্কোসকে দিয়ে গোল করিয়ে ‘নায়ক’। বহুদিন পরে ফর্মে ফিরলেন। সেই সঙ্গে তিন ম্যাচ পর জয়ের সরণিতে ফিরল ইস্টবেঙ্গলও।
শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের মাঠে চেন্নাই সিটিকে ২–০ ফলাফলে হারাল ইস্টবেঙ্গল। ৭৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে কোলাডোকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন বালাকৃষ্ণন। রেফারি পেনাল্টি দিতে ভুল করেননি। পেনাল্টি থেকে ২–০ করেন কোলাডো। এদিন কোলাডোর ফর্মে ফেরা সমর্থকদের স্বস্তি দিল।   
গতবারের চেন্নাই দলের কাঠামোটাই ভেঙে গিয়েছে। পেড্রো মানজি, নেস্টর, স্যান্ড্রো রডরিগেজরা দল ছেড়েছেন। গত বছর আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে যঁাদের অবদান ছিল অনেক। এবারের চেন্নাইয়ের খেলা যেন গতবারের ছায়া। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থই হল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধ শেষে ফলাফল গোলশূন্য।
এদিনের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশে পরিবর্তন হয়েছিল। ব্রেন্ডন শুরু থেকে নেমেছিলেন। গোলে ফিরেছিলেন মির্শাদ। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে প্রথমার্ধের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি লাল–হলুদ। অন্তত ২–৩ গোলে এগিয়ে যেতে পারত। তার ওপর হাইমে কোলাডোর পেনাল্টি মিস। ম্যাচের ১৬ মিনিটে কোলাডোর পেনাল্টি শট বঁাচান চেন্নাই গোলকিপার নাজেট। এই নাজেট এদিন দুরন্ত ফর্মে ছিলেন। বেশ কয়েকটা দারুণ সেভ করেছেন। ৬৭ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখেছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে। ৬৮ তম মিনিটে ডানদিক থেকে কোলাডোর সেন্টারে পা ছুঁইয়ে গোল করে যান মার্কোস। তবে তিনি গোল লাইনের এত কাছে বল পেয়েছিলেন, যে ওই জায়গা থেকে গোল না করাটাই কঠিন কাজ। এদিন মার্কোসের গোলসংখ্যা আরও একটি বাড়ল। ফলে পঁাচ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে মোহনবাগানের ফ্রান গঞ্জালেস, ডিপান্ডা ডিকার পাশে নাম তুলে ফেললেন লম্বা দাড়ি আর মাথায় ঝুঁটির মার্কোস।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ইস্টবেঙ্গলের খেলায় ঝাঁঝ খানিকটা বাড়ে। ৫৯ মিনিটে ব্রেন্ডনের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। কোলাডোর শটে নিশ্চিত পতন রোধ করেন চেন্নাই গোলকিপার। সেইসময়ে ব্রেন্ডনও বেশ কয়েকবার বিপক্ষ রক্ষণকে বেগ দিয়েছেন। যদিও প্রথমার্ধে তিনি বিপক্ষ গোলকিপারের সঙ্গে একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
চেন্নাইয়ের মাঝমাঠে কাতসুমি ইউসা গতিকে কাজে লাগিয়ে লাল–হলুদ রক্ষণে হানা দিচ্ছিলেন। দুটো উইংয়ে দারুণভাবে কাজে লাগালেও আক্রমণে ধার ছিল না আকবর নওয়াজের দলের। ৫৬ মিনিটে ফিটোর গড়ানে শট সেভ করেন িমর্শাদ।   
ডার্বি হারের পর কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্ডেজের ইস্তফা। নতুন কোচ মারিও রিভেরা এখনও আসেননি কলকাতায়। সহকারী কোচ বাস্তব রায় ছিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। দলকে জিতিয়ে খুশি বাস্তব। ক্রোমাকে দ্বিতীয়ার্ধে নামায় টিম ম্যানেজমেন্ট। জিতে ৮ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে চার নম্বরে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল।
ইস্টবেঙ্গল: মির্শাদ, মেহতাব সিং, আশির, কমলপ্রীত (আভাস), আম্বেকর, ব্রেন্ডন (ক্রোমা), কাশিম, লালরিনডিকা (নাওরেম), জুয়ান, কোলাডো, মার্কোস

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top