অগ্নি পান্ডে: ‘জার্সি মানেই আমার মা... আর তো কিছুই জানি না...।’
ইস্টবেঙ্গল সম্পর্কে এমন কথাই মিথ। বছরের পর বছর। তাও শতবর্ষে অরিজিৎ সিং গেয়ে যা আরও গেঁথে দিয়েছেন লাল–হলুদ জনতার হৃদয়ে। কিন্তু এই ইস্টবেঙ্গলকে দেখলে তেমন মনেই হবে না। নির্বিষ গোকুলামের কাছেও হেরে যেতে হল। ডুরান্ড সেমিফাইনালে। এখনকার সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে দেিশ–বিদেশি ফুটবলারদের সমন্বয়ে জার্সির রং কতটা গুরুত্ব পায় তা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। জার্সি ঘিরে তেতে ওঠা বা সেই আবেগ তো এখনকার জগাখিচুড়ি দলের ক্ষেত্রে কতটা কাজ করে সন্দেহ থেকেই যায়।
এখন কথায় কথায় পেশাদারিত্ব। সেই পেশাদারি মনোভাব কোথায় দেখলাম? কোথায় সেই মাটি কামড়ে পড়ে থাকা? হার না লড়াই। বলতেই পারেন টাইব্রেকার সবসময়ই ফাটকা। ম্যাচটা যাবে কেন টাইব্রেকার পর্যন্ত? কেন ৯০ মিনিট এগিয়ে থাকার পরেও একটা ভুলে এতবড় খেসারত দিতে হবে? কেন কোচ আলেসান্দ্রো দলের এক নম্বর ডিফেন্ডার বোরজাকে মাঠেই নামাবেন না? কেন তাঁর বদলে মার্তি খেলবেন? প্রশ্ন উঠবেই।  
ম্যাচের ইনজুরি টাইম। মিনিটখানেক বাকি। ইস্টবেঙ্গল বক্সে লারার দেশের স্ট্রাইকার মার্কাসকে ফাউল করলেন মেহতাব সিং। নিশ্চিত পেনাল্টি এবং লাল কার্ড। গোল করে মার্কাস (১–১) ম্যাচের রং বদলে দিলেন! কী করলেন মেহতাব? অতিরিক্ত সময়ে গোকুলামের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলকে দশজনে খেলতে হল। গোটা ম্যাচে পিছিয়ে থাকা গোকুলাম বদলে গেল ৮৬ মিনিটে। পরিবর্ত হিসেবে নামা ব্রাজিলের ব্রুনো পেলিসারি নামার পরই। চাপ বাড়াল গোকুলাম। শেষ িদকে বারবার রুখে দাঁড়ালেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার মিরশাদ। নইলে অতিরিক্ত সময়েই গোলের ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে পারত গোকুলাম। দশজনে খেলেও অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিিনট ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটা নিয়ে গেল টাইব্রেকারে।
শেষ পর্যন্ত ৩–২ গোলে পরাজিত ইস্টবেঙ্গল। লাল–হলুদ অধিনায়ক ডিকার প্রথম শট লাগল পোস্টে। গোকুলামের ব্রুনো প্রথম শটে গোল করলেন (১–০)। ইস্টবেঙ্গলের দ্বিতীয় শট কোলাডোর বাঁচালেন গোকুলাম গোলকিপার উবেদ। গোকুলামের দ্বিতীয় শট মিতেইয়ের বাঁচালেন মিরশাদ। তৃতীয় শটে ইস্টবেঙ্গলের মার্তি গোল করলেন (১–১)। তৃতীয় শট গোকুলামের জর্জ গোল করলেন (২–১)। চতুর্থ শটে হাওকিপ ব্যবধান কমালেন। (২–২)। চতুর্থ শটে গোকুলামের লালরোমাউইয়া দলকে এগোলেন (৩–২)। শেষে ইস্টবেঙ্গলের তঙডংবার শট বাঁচিয়ে গোকুলামকে ফাইনালেন তুলে দিলেন গোলকিপার উবেদ (৩–২)। ম্যাচের নায়ক গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলেই খেলে যাওয়া গোলকিপার উবেদ।
ফেরা যাক ম্যাচের ৯০ মিনিটে। ১৮ মিনিটে ডান দিক থেকে বিদ্যাসাগরের মাইনাস। গোলকিপারের হাতে লেগে বল ছিটকে যায়। বল ক্লিয়ার করলেন গোকুলাম ডিফেন্ডার। সেই বল গিয়ে সামাদের পায়ে পড়তেই ১৫ গজ দূর থেকে দুরন্ত শটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে (১–০) এগিয়ে দিলেন। শুরু থেকেই আক্রমণের আধিক্য ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ৩৫ মিনিটে কোলাডোর থেকে বল পেয়ে পিন্টুর জোরালো শট বুক দিয়ে বাঁচালেন গোকুলাম গোলকিপার উবেদ। প্রথমার্ধে ইনজুরি টাইমে গোকুলামের বাঁদিক থেকে সেন্টার হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে গেলেন ইস্টবেঙ্গল স্টপার মার্তি। বল ঢুকে যাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল গোলেই। হঠাৎ গোকুলামের কিসেকা পাল্টা হেড দিয়ে বলটাই বার করে দিলেন! নিশ্চিত গোল খেত ইস্টবেঙ্গল। তারপরই গোকুলামের মালেমগাঙ্গাবা মিতেইর দূরপাল্লার শট বাঁচালেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার মিরশাদ।
ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেসান্দ্রো প্রথম থেকেই মাঝমাঠ ব্লক করে খেলাটা দু’‌দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে সেটা চোখে পড়ল না। ৫৪ মিনিটে ডান পায়ের সিন বোনে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন। পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামলেন কমলপ্রীত। মাঝমাঠে খানিকটা হলেও খেলা ধরার চেষ্টা দেখা গেল গোকুলামের। বিক্ষিপ্ত কয়েকবার আক্রমণ। দ্বিতীয়ার্ধে হঠাৎই মাঝমাঠে লাল–হলুদের বলের দখল কমে গেল। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে গোল খেয়েও গেল।   বুধবার বিকেল ৩টেয় খেলা শুরু হয়েছিল। এত গরম যে রেফারি তেজস নাগভেঙ্ককার ২৭ মিনিটে ‘ওয়াটার ব্রেক’ দিতে বাধ্য হলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও ‘ওয়াটার ব্রেক’ দেখল যুবভারতী। ইস্টবেঙ্গল: মিরশাদ, সামাদ (কমলপ্রীত), মার্তি, মেহতাব সিং, মনোজ, পিন্টু মাহাতো, লালরিনডিকা রালতে, ব্রেন্ডন (তঙডংবা), কাশিম, কোলাডো, বিদ্যাসাগর (হাওকিপ)।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top