ইস্টবেঙ্গল ২ (‌মার্কোস, মার্তি)‌    ট্রাউ ১ (দীপক)‌ 


মুনাল চট্টোপাধ্যায়: একেই বলে ওস্তাদের মার শেষ রাতে। যখন মনে হচ্ছিল, লিগ টেবিলের সবচেয়ে নীচে থাকা দল ট্রাউয়ের সঙ্গে ১–‌১ ড্র করে কল্যাণীতে ঘরের মাঠে দ্বিতীয়বার পয়েন্ট খোয়াতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল, ঠিক তখনই নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে জয়সূচক গোল মার্তি ক্রেসপির। জুয়ান মেরার তোলা বল বদলি হিসেবে নামা অভিজিৎ ও কাশিমের পা ঘুরে বক্সে পড়ার মুখে মার্কোসের হেডে পা ছুঁইয়ে গোল করে গ্যালারিতে স্বস্তির উল্লাস এনে দেন মার্তি। ট্রাউয়ের বিরুদ্ধে ২–‌১ গোলে জিতে ৪ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে থেকে ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিল আলেসান্দ্রো বাহিনী। তবে ইস্টবেঙ্গলের প্রথমার্ধের খেলায় যে আধিপত্য দেখা গেছে, দ্বিতীয়ার্ধে তা ছিল না অধিকাংশ সময়। আসলে কোলাডোর অভাবটা বেশ ধরা পড়ছে। নির্বাসন কাটিয়ে ডার্বিতে কোলাডোর ফেরার অপেক্ষায় থাকবেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আলোসান্দ্রো, এটা বলাই বাহুল্য।
এদিন যেভাবে শুরু করেছিল খেলা, তাতে ৩ পয়েন্ট বাঁধা ছিল লাল–হলুদের। ৮ মিনিটের মাথায় সামাদের দূরপাল্লার শট ক্রসপিশ ছুঁয়ে বাইরে গেলে বাঁচে ট্রাউ। ১৪ মিনিটে ট্রাউ গোলকিপার গুরপ্রীতের আংশিক ক্লিয়ারেন্স বক্সের বাইরে মার্কোসের পায়ে চলে আসে। গুরপ্রীত তখন গোললাইনে ফিরতে পারেননি দেখে মার্কোস ফাঁকা গোলের দিকে উঁচু করে বল পাঠান। গোলে ঢোকার মুখে সেই বল বাইরে পাঠিয়ে নিশ্চিত পতন রোখেন ট্রাউয়ের স্টপার দীপক দেবরানি।
লাল–হলুদ ব্রিগেড তাদের কাঙ্ক্ষিত গোলটা পেয়েই গেল ১৭ মিনিটে। সামাদের ভাসানো বল বক্সের মধ্যে পড়ার মুখে বাজপাখির ক্ষিপ্রতায় মাথা ছুঁইয়ে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মার্কোস। কলকাতা লিগ ছাড়াও আই লিগে রিয়েল কাশ্মীর ম্যাচে তাঁর গোল করার অক্ষমতা নিয়ে শুরু হয়েছিল গুঞ্জন। তারপরই তিন ম্যাচে গোল করে সমালোচনার জবাব দিলেন লাল–হলুদে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। মনে হয়েছিল এগিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল আরও বেশি করে চেপে ধরবে প্রতিপক্ষকে। একদিক থেকে হাফে পিন্টু, অন্যদিক থেকে ওভারল্যাপে ওঠা সাইডব্যাক অভিষেকে ভর করে উইং দিয়ে আক্রমণ শানিয়ে ট্রাউ গোলের সামনে একাধিকবার পৌঁছেও গিয়েছিল লাল–হলুদ। কিন্তু ট্রাউয়ের ডিফেন্ডার ও গোলকিপার গুরপ্রীতের নাছোড়বান্দা মনোভাবে গোল বাড়েনি। 
আর একজনের কথা বলতেই হবে। তিনি ইস্টবেঙ্গলের স্প্যানিশ উইঙ্গার–কাম–স্কিমার জুয়ান মেরা। যখনই তাঁর পায়ে বল গেছে, বিপজ্জনক হয়ে উঠেছেন। তাঁর কর্নার ও ফ্রিকিক থেকে গোল আসেনি সেই ট্রাউ গোলকিপারের দৃঢ়তায়। তবে জয়সূচক গোল এসেছে শেষপর্যন্ত জুয়ানের বাড়ানো ক্রসেই।
ফুটবলে একটা কথা চালু আছে, সুযোগের অপচয় করলে ভুগতে হয়। সেটাই হল ইস্টবেঙ্গলের। বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক আগে মুহূর্তের অসতর্কতায় গোল হজম করতে হল তাদের। লুওয়াংয়ের ফ্রিকিক বক্সের মধ্যে মিস ক্লিয়ারেন্সে চলে আসে ফাঁকায় দাঁড়ানো ফাল্গুনী সিংয়ের পায়ে। তিনি গড়ানো শট নিলে প্রাক্তন মোহনবাগানী দীপক দেবরানি পায়ের ফ্লিকে তা ইস্টবেঙ্গলের জালে জড়ান। সমতা ফিরিয়ে চেগে যায় ডগলাসের কোচিংপ্রাপ্ত ট্রাউ। দাঁতে দাঁত চেপে লড়েও যান ট্রাউয়ের অভিষেক, লুওয়াং, প্রেমজিৎরা। তবে হার বাঁচেনি অনভিজ্ঞতার কারণে। পরপর তিন ম্যাচ হারায় ট্রাউ কোচের চাকরি ডগলাসের থাকবে না এটা বলেও দেওয়া যেতে পারে।  
ম্যাচ জেতা কেন কঠিন হল, এই প্রশ্নে ইস্টবেঙ্গল কোচ আলেসান্দ্রো বলেন, ‘আমি বরাবর বলে এসেছি ট্রাউ যতই টেবিলের নীচের দিকে থাক, ওদের বিরুদ্ধে লড়াই সহজ হবে না। ভুললে চলবে না ১১ দিনে ৪টে ম্যাচ খেলতে হয়েছে ফুটবলারদের। তাছাড়া প্রচুর গোল মিসের জন্য ম্যাচটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে আসল কথা হল, ম্যাচটা আমরা জিতেছি।’‌ সামনের ডার্বি নিয়ে আলেসান্দ্রোর বক্তব্য, ওটা অন্য ধরনের আবেগের ম্যাচ। তার জন্য ফুটবলারদের তরতাজা করে বিশেষভাবে তৈরি করতে হবে। গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না এমন নয়, তবে সেটা কাজে লাগানো জরুরি। আলেসান্দ্রোর পছন্দের মাঠে যুবভারতীতে ডার্বি। তাতেই যেন আরও চনমনে লাগছে ইস্টবেঙ্গল কোচকে। 

ইস্টবেঙ্গল:‌ রালতে, সামাদ (‌তনডোম্বা)‌, আশির, ক্রেসপি, অভিষেক, পিন্টু (অভিজিৎ)‌, কাশিম, কমলপ্রীত, জুয়ান, রোনাল্ডো (‌বিদ্যাসাগর)‌ ও মার্কোস। ‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top