সৌমিত্র কুমার রায়:  খাঁ খাঁ করছিল যুবভারতীর গ্যালারি। মিনি ডার্বি হচ্ছে, দেখে বোঝার জো নেই। শেষ কবে ইস্টবেঙ্গল–মহমেডান ম্যাচে এত কম দর্শক হয়েছিল, ফুটবলবোদ্ধারা মনে করতে পারছিলেন না।
পিয়ারলেস ম্যাচ হেরে টানা নয়ে নয়ের স্বপ্নে আঘাত লেগেছে। ম্যাচ দেখতে আসার আগ্রহ হারিয়েছেন লাল–হলুদ সমর্থকরা। সমর্থক যে কম হবে, ম্যাচের আগের দিন টিকিট বিক্রির হাল দেখেই আন্দাজ করা গিয়েছিল।
তার মধ্যেও ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দে হাতে হাত রেখে গ্যালারির দিকে ছুটে গেলেন মহমেডান ফুটবলাররা। গ্যালারিতে টান টান সাদা–কালো পতাকা। ম্যাচ শেষে ম্যাচের সেরা ফিলিপ আদাজাকে কোলে তুলে চিত্রসাংবাদিকদের পোজ দিচ্ছিলেন তন্ময়, প্রসেনজিৎরা। সাদা–কালো কর্তারা সাইডলাইনে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছিলেন।
ফিলিপ আদাজা— এদিনের ম্যাচে এমেকার বদলি হিসেবে মাঠে আসা বিদেশির জোড়া গোলে লজ্জার হার ইস্টবেঙ্গলের। ০–১ পিছিয়ে থেকেও দুরন্ত প্রত্যাবর্তনে মহমেডানের জয়ের তারিফ করতেই হয়।
মঙ্গল–সন্ধেয় ইস্টবেঙ্গলের বিশ্বকাপার প্রথমে ত্রাতা, দিনের শেষে তিনিই দলকে ডোবালেন। গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। ৮৭ মিনিটে সেই বিশ্বকাপারকে টপকেই গোল করে লাল–হলুদের পয়েন্ট কাড়লেন ফিলিপ আদাজা। পা বাঁচাতে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ অ্যাকস্টা। সেই বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ইস্টবেঙ্গল কিপার রক্ষিত দাগারকে কাটিয়ে নিয়ে গোল ফিলিপের। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে গোল করতে ওপরে উঠে গেছে গোটা ইস্টবেঙ্গল। সেই সুযোগে বল পেয়ে ফাঁকায় দ্বিতীয় গোল ফিলিপের। পিন্টু মাহাতোর পর জর্জ ম্যাচে জোড়া গোল হজম, এদিন ফিলিপের গোল। এ সব গোল হজমের জন্যই আঙুল উঠছে বিশ্বকাপারের দিকে। কোচ–কর্তারা বলছেন, ওকে সময় দিতে হবে। এবার দেখার, আর কতদিন সময় নেন অ্যাকস্টা।
প্রথম একাদশে কয়েকটা পরিবর্তন করতে হয়েছিল সুভাষ ভৌমিককে। মাঝমাঠে শুরু করেন ইয়ামি ও প্রকাশ সরকার। লাল–হলুদ মিডফিল্ড ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই প্রথমার্ধ শেষে অ্যাকস্টার গোল ছাড়া বলার মতো কিছুই ছিল না। উল্টে দুই অর্ধ মিলিয়ে সাদা–কালো যা সুযোগ নষ্ট করল, সেগুলো কাজে লাগলে ইস্টবেঙ্গলের লজ্জা আরও বাড়তে পারত।
বিরতির পর মিনিট পনেরো লাল–হলুদ রক্ষণ থরথর করে েকঁেপছে। রঘু নন্দীর দলের আক্রমণের পর আক্রমণ। প্রথমার্ধেও এমেকা ও দীপেন্দু দুয়ারি সুযোগ পেয়েছিলেন। খেলা শুরুর মিনিট দুয়েকের মধ্যে এমেকা দ্রুত গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিেয়ছিলেন। দীপেন্দু দুয়ারির শট সাইড নেটে লাগে। দ্বিতীয়ার্ধেও দুয়ারির শট অল্পের জন্য বাইরে যায়। 
লাল–হলুদ রক্ষণ ভাঙতে সামনে দীপেন্দু–এমেকার সঙ্গে একটু পেছনে বাজোকে জুড়ে দিয়েছিলেন রঘু। বল ধরে বাজো বেশ সুন্দর আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেন গোটা ম্যাচে। 
অন্যদিকে, ইস্টবেঙ্গল একই সমস্যায় জর্জরিত। গোল করার লোকের অভাব। একা স্ট্রাইকার জবির পেছনে আমনা খেললেও লাভের লাভ কিছুই হচ্ছে না। জবি জস্টিন একটা ম্যাচে দুরন্ত খেললেন, তার পর থেকেই ফর্ম খুঁজে বেড়াচ্ছেন। এদিকে গোল করে যাচ্ছেন বিশ্বকাপার ডিফেন্ডার। মেহতাবের কর্নার। রালতের চমৎকার হেড মহমেডান কিপার অরূপ দেবনাথের হাতে লেগে ছিটকে বেরিয়ে এলে ফিনিশ বিশ্বকাপারের।
দ্বিতীয়ার্ধে আধিপত্য নিয়ে খেলতে শুরু করে রঘুর দল। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই বুঝি গোল হয়ে গেল। ৫৫ মিনিটে খুব জোর বেঁচে যায় সুভাষের দল। সামনেই গোলপোস্ট, শট নিলেই গোল। মিস করেন রাহুল কেপি। তার পরই প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর শট গোললাইন সেভ অ্যাকস্টার। এই সময়টায় মুহুর্মুহু আক্রমণ শানায় সাদা–কালো। এমেকার আরও একটা শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬০ মিনিটে প্রসেনজিৎ চক্রবর্তীর শট পোস্টে লাগে। মিসের পর রঘুকে কপাল চাপড়াতে দেখা যায় সাইডলাইনে দঁাড়িয়ে। ৬৯ মিনিটে লাল্টু হেমব্রমের দুরন্ত হেড বারের ওপর দিয়ে যায়। মহমেডান ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় গোল শোধের মরিয়া ভাব দেখা যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই। রঘু ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন, মিনি ডার্বিতে এক পয়েন্ট হলেও নেবেন।
এক পয়েন্ট নয়, জিতেই মাঠ ছাড়লেন রঘু, সেই সঙ্গে সুভাষের ইস্টবেঙ্গলের লিগ জয়ের সলিলসমাধি হয়ে গেল।
ইস্টবেঙ্গল: রক্ষিত, সামাদ, অ্যাকস্টা, মেহতাব, ফানাই, ইয়ামি (সুরাবুদ্দিন), কাশিম, প্রকাশ (‌কমলপ্রীত)‌, রালতে (‌বালি)‌, আমনা, জবি
মহমেডান: অরূপ, তন্ময়, প্রসেনজিৎ পাল, টোরে, ফারুখ, রাহুল কেপি (‌সুমিত)‌, সত্যম (প্রসেনজিৎ), লাল্টু, বাজো, দীপেন্দু, এমেকা (ফিলিপ)‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top