অগ্নি পান্ডে: মোহনবাগানকে ৩–২ গোলে হারানোর পরক্ষণে কী মনে হয়েছিল? ভাবার সময় নিলেন না। হাসতে হাসতে বলে দিলেন, ‘সঙ্গে সঙ্গে কোচ শাহিদ রামনকে জানিয়ে দিলাম পরের ম্যাচে পিয়ারলেসকে নিয়ে ভাবনা শুরু করে দিতে। মোহনবাগানকে হারিয়ে খেতাব জয়ের সুযোগ এসেছে। পরের ম্যাচে পিয়ারলেসকে হারাতে পারলে লিগ জিতেও যেতে পারি।’ 
সাদা–কালো টিডি দীপেন্দু বিশ্বাসের চোখেমুখে অদ্ভুত তৃপ্তি। বললেন, ‘মাঠে নেমে খেলা অনেক সহজ। বেঞ্চে বসার কাজটা কঠিন। ম্যান ম্যানেজমেন্ট করতেই সময় চলে যায়। আর্থার এক নম্বর স্ট্রাইকার। দলের কম্বিনেশনে ওকে এই ম্যাচে প্রথম থেকে খেলাব না ঠিক করেছিলাম। তাই সবচেয়ে বেশি সময় ওর পেছনেই দিতে হল। বুধবার থেকে প্রায় শ’চারেক বার কথা বলেছি। বৃহস্পতিবার ওর সঙ্গে লাঞ্চ করেছি। রিজার্ভ বেঞ্চে পাশে নিয়ে বসেছি। এই কাজগুলো সবচেয়ে কঠিন।’ তাহলে বিধায়ক হওয়াটা কাজে দিচ্ছে? বিধায়ককে তো জনসংযোগ করতে হয়। হেসে ফেললেন বসিরহাটের বিধায়ক।
দলের এক নম্বর স্ট্রাইকারকে মিনি ডার্বিতে প্রথম থেকে না খেলানোর সাহস দেখালেন কীভাবে? উত্তর এল, ‘আর্থার পজিটিভ স্ট্রাইকার। কিন্তু িচডি হোল্ডিং স্ট্রাইকার। বল ধরতে পারে। কাড়তে পারে। তাই চিডিকে খেলানোর কথা ভেবেছিলাম। জীবনের সব ক্ষেত্রেই সাহস না থাকলে কিছু হবে না। সাহস দেখাতেই হত।’ মোহনবাগান ম্যাচ থেকে সবচেয়ে বড় পাওনা? দীপেন্দ্ু বললেন, ‘বাঙালি ছেলেরা পারে, সেটা প্রমাণ হল। মহমেডানের বাঙালি ছেলেরা দেখিয়ে দিল। রাজারহাটের ফিরোজের নাম শুনেছিলেন? মাঝমাঠে বেইতিয়াকে খেলতেই দেয়নি। সঙ্গে প্রসেনজিৎ পাল, সুজিত সাধু। এটাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তীর্থঙ্করের কথা ছেড়েই দিন। একাই শেষ করে দিল মোহনবাগানকে।’
নিজেদের জঘন্য মাঠে যা খেলেছে, তার চেয়ে যুবভারতীর ভাল মাঠে অনেক উঁচুমানের ফুটবল উপহার দিল মহমেডান। পরের ম্যাচ পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে খেলবেন? নিজেদের মাঠেই খেলতে চান দীপেন্দু, ‘আমরা চাই সেই ম্যাচে মহমেডানের সব সভ্য–সমর্থক মাঠ ভরিয়ে দিন। আমরা আরও ভাল ফুটবল খেলব। মাঝে কয়েকটা দিন নিজেদের মাঠে প্র্যাকটিস করব না। মাঠটা স্বাভাবিকভাবেই ভাল হবে।’
এই সাফল্যের নেপথ্যে ‘গুরু’ অমল দত্ত। নির্দ্বিধায় জানালেন দীপেন্দু। বললেন, ‘অমল স্যরের কাছ থেকেই সব শিখেছি। ডায়মন্ড সিস্টেম। প্রেসিং ফুটবল। সেটাই ফলো করছি। যা কিছু পেয়েছি, অমল স্যরের জন্যই তো।’ অঙ্গীকারমতো ফুটবলারদের স্নিকার্সগুলো কবে দেবেন? হাসির সঙ্গে জবাব এল, ‘দিতে তো হবেই। দিন দুয়েকের মধ্যেই দিয়ে দেব।’

জয়ের পর দীপেন্দু বিশ্বাস।ছবি: রাজকুমার মণ্ডল

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top