অগ্নি পাণ্ডে, কল্যাণী: ম্যাচ শেষে পরাজিত কোচ এগিয়ে গেলেন প্রতিপক্ষ শিবিরের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দিকে। হাত বাড়িয়ে দিলেন। বিজয়ী টিডি বুকে টেনে নিলেন পরাজিত কোচকে। কোচ বলে উঠলেন, ‘কলকাতা লিগের বদলা নিয়ে নিলি! পরের ম্যাচগুলোর জন্য শুভেচ্ছা।’ টিডি হেসে বললেন, ‘শুনেছি তোর দলের কথা। মাত্র ১৩ দিন প্র্যাকটিস করেছিস। আগামী ম্যাচগুলোর জন্য তোকেও শুভেচ্ছা।’
দুজনে একই সঙ্গে ফুটবল জীবন শুরু করেছিলেন জামশেদপুরে টাটা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে। একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। একসঙ্গে ভারতের অনূর্ধ্ব–১৬ এবং অনূর্ধ্ব–১৯ দলে খেলা।  পরবর্তী সময়ে মোহনবাগানেও একসঙ্গে খেলা। এখন বিপরীত শিবিরে। দীপেন্দু বিশ্বাস এবং শঙ্করলাল চক্রবর্তী। কলকাতা লিগের ফল পাল্টা ফিরিয়ে দিলেন মহমেডান টিডি দীপেন্দু ভবানীপুর কোচ শঙ্করলালকে।
 আই লিগ দ্বিতীয় ডিভিশনের ‘বি’ গ্রুপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শনিবার কল্যাণী স্টেডিয়ামে ২ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যায় দীপেন্দুর মহমেডান। ডান দিক থেকে ছাংতের সেন্টার ভবানীপুর বক্সে পড়তেই সাদা–কালোর অনূর্ধ্ব–২২ সঞ্জীব ঘোষ বড় ক্লাবে বহুদিন খেলা অভিজ্ঞ স্টপার ভবানীপুরের কিংশুক দেবনাথের পাশ দিয়ে ঠান্ডা মাথায় গোল করেন (১–০)। হাঁ করে দেখলেন কিংশুক এবং ভবানীপুর গোলকিপার অরূপ দেবনাথ! কিছুক্ষণের মধ্যেই সমতা ফেরাতে পারত শঙ্করলালের ভবানীপুর। ১০ মিনিটে জগন্নাথ সানা ফাঁকায় মহমেডান গোলকিপার প্রিয়ন্তকে পেয়েও বাইরে উড়িয়ে দিলেন! 
২৬ মিনিটে ডান দিক থেকে ছাংতের চমৎকার মাইনাস। বক্সে দাঁড়ানো সাদা–কালোর বিদেশি জন চিডি গোল করে ব্যবধান বাড়ালেন (২–০)। ম্যাচের গতিপ্রকৃতি দেখে ৩৩ মিনিটে ভবানীপুর কোচ শঙ্করলাল দুটো পরিবর্তন করলেন। সানার পরিবর্তে। নামালেন ঘানার নয়া বিদেশি ওপোকুকে। এনজামুল হকের বদলে অনূর্ধ্ব–‌২২ ফুটবলার মনোরঞ্জন সিংকে। খানিকটা খেলার পরিবর্তন হলে মহমেডান খোলামনে প্রথমার্ধ জুড়ে খেলে গেল। দ্বিতীয়ার্ধেও মহমেডান ক্রমশ চেপে ধরল। দারুণ খেললেন পিয়ারলেস থেকে লিয়েনে মহমেডানে আসা জিতেন মুর্মু। মাঝমাঠ আর ফরোয়ার্ড লাইন একাই নিয়ন্ত্রণ করলেন। ৭৯ মিনিট দূরপাল্লার শটে মহমেডানকে আবার এগিয়ে দিলেন সত্যম শর্মা (৩–০)। 
সব বিভাগেই ‘বন্ধু’ শঙ্করলালকে টেক্কা দিলেন দীপেন্দু। হাসতে হাসতে বলছিলেন, ‘দিঘায় আমাদের কন্ডিশনিং ক্যাম্প কাজে দিয়েছে। প্রত্যেক ফুটবলার ফিট। ৯০ মিনিট দৌড়নোর ক্ষমতা দেখাল। এই ম্যাচ কঠিন ছিল। ৩ গোলে জয় পরের ম্যাচগুলোয় শক্তি বাড়িয়ে দেবে।’ আর ‘বন্ধু’ শঙ্করলালের কথায়, ‘মাত্র ১৩ দিন সময় পেয়েছি। কলকাতা লিগের থেকে দল বদলে গেছে আই লিগে। সময় ছিল না। ফ্রি ফুটবলার নেই। যারা আছে তাদের দিয়ে কাজ চালাতে হবে।’ 
‌তবে শঙ্করলালের কাজটা কঠিন।
মহমেডান: প্রিয়ন্ত, বলবিন্দার, প্রসেনজিৎ, ফিরোজ, সত্যম (তীর্থঙ্কর), ছাংতে, সইফুল, হীরা মণ্ডল, সঞ্জীব (মোসেস), জিতেন (দুয়ারি), চিডি।
ভবানীপুর: অরূপ দেবনাথ, সৌরভ, এনজামুল (মনোরঞ্জন), কিংশুক, অনুপ, শরণ সিং, মোহনরাজ, সানা (ওপোকু), পঙ্কজ মৌলা, তুহিন (ফয়সল), রাজন বর্মন।‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top