সৌমিত্র কুমার রায়: রেফারি বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই এতক্ষণ আটকে থাকা বাঁধটা ভেঙে পড়ল। পিলপিল করে মোহনবাগান মাঠে তখন ঢুকছে সমর্থকদের স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে সবুজ মাঠে সারি সারি কালো মাথা। সকলেরই উদ্দেশ্য ওই দু’‌জনকে ছোঁয়া। কে আগে পারে, তারই প্রতিযোগিতা চলছে যেন।
‘‌ডি–কে’‌। হ্যাঁ, মরশুম শুরুর আগে তাঁদের জুটিকে এই নামই দিয়েছিল ময়দান। ডিপান্ডা ডিকা এবং হেনরি কিসেক্কা। প্রথমজন মোহনবাগানে ইতিমধ্যেই এক মরশুম খেলে ফেলেছেন। আরেকজন এবারই এসেছেন গোকুলাম কেরালা থেকে। শেষবার যখন মোহনবাগান কলকাতা লিগ জিতেছিল, তখন দলে ছিলেন ব্যারেটো, চিডির মতো তারকা বিদেশিরা। ছিলেন তুলুঙ্গা, এনএস মঞ্জুরা। এবার দলে তারকা খুঁজে পাওয়া দায়। সনি নর্ডি–হীন মোহনবাগান জনতার প্রাণভোমরা ছিলেন ওই দু’‌জনই। এঁদের ভর করেই তো স্বপ্ন দেখা। এঁদের জন্যেই তো গলা ফাটিয়ে চিৎকার। সেই স্বপ্ন যখন সফল হয়, বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাস তো হবেই। মোহনবাগান মাঠে এদিনের সন্ধে সেটাই বলে দিচ্ছিল।
বলা হয়, তাঁর মতো ভাল তিনকাঠি নাকি কেউ চেনে না। ভারতের আসার পর আই লিগ এবং কলকাতা লিগ মিলিয়ে টানা চারবার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তবে তার থেকেও ডিকাকে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে প্রথম ট্রফি। এদিন সমর্থকদের স্রোতে ভাসতে ভাসতে বলছিলেন, ‘‌এই লিগজয় আমার কাছে স্পেশ্যাল।’‌ ম্যাচের আগে স্ত্রী জর্জিয়েটের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তখনই জর্জিয়েট বলেছিলেন, ট্রফি না জিতলে এই সাফল্য কেউ মনে রাখবে না। সেটাই বেশি তাতিয়েছিল। স্ত্রীর আস্থার দাম রাখতে পেরে খুশি ডিকা। সাফল্যের রহস্য কী?‌ ডিকা বললেন, ‘‌টিমওয়ার্ক। এটাই আসল।’‌ কন্যসন্তান ফ্রান্স জন্ম নিয়েছে ক’‌দিন আগেই। কথামতোই এই লিগজয় নিজের মেয়েকে উৎসর্গ করলেন ডিকা। পাশাপাশি জানালেন, স্ত্রী জর্জিয়েট সবসময় তাঁর পাশে থেকে তাঁকে মোটিভেট করেছেন। নাহলে এই সাফল্য আসত না। এদিন দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে নামের পাশে গোলসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তবে তা নিয়ে আক্ষেপ নেই ডিকার। উল্টে এদিনের নায়ক হেনরির প্রশংসায় মাতলেন। বললেন, ‘‌ওর সঙ্গে কোনও ইগো সমস্যা নেই। আমাদের জুটিটাও দারুণ।’‌ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ক্লাবের তরফে তাঁকে নতুন গাড়ি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সমস্যায় তা হয়নি। সেকথা শুনেও ডিকার মুখে লেগে থাকল হাসি।
জোড়া গোলদাতা হেনরিকে নিয়েও এদিন তুমুল উল্লাস চলছিল। ফুটবল–পাগল কেরল থেকে আসলেও হেনরি মানলেন, ‘‌কলকাতা সমর্থকদের কথাই আলাদা। ওরা ফুটবলের জন্য আরও বেশি পাগল।’‌ তবে ভারতে তাঁর প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পেছনে গোকুলামের কথাও ভুলছেন না হেনরি। 
তাঁরও ভারতে আসার পর এটাই প্রথম ট্রফি, তাই অনুভূতিটাই আলাদা। কর্তাদের ঝামেলা দলে কোনও প্রভাব ফেলেনি বলে জানালেন হেনরি। পাশাপাশি, ডিকার সঙ্গে তাঁর আন্ডারস্ট্যান্ডিং যে দুর্দান্ত, সেটাও মানলেন। ‘‌যত সময় এগিয়েছে, ততই ওর সঙ্গে বোঝাপড়া বেড়েছে। ডিকা খুবই বুদ্ধিমান স্ট্রাইকার। ওর সঙ্গে কখনওই অসুবিধে হয়নি।’‌ বলে গেলেন হেনরি।‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top