মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ন’‌ বছর পরে কলকাতা লিগ জিতল মোহনবাগান। শেষ বার যে দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেখানে বিভিন্ন দফায় ৩জন কোচ ছিলেন। এবারের লিগ জয়ে কী বলছেন সেই ৩ কোচ করিম, সত্যজিৎ ও বিশ্বজিৎ?‌
‌করিম বেঞ্চারিফা:‌ মোহনবাগান আমার প্রিয় ক্লাব। ভারতে এই একটা ক্লাবেই দু’‌দফায় কোচিং করিয়েছি। প্রথমবার কোচের দায়িত্ব নিয়ে কলকাতা লিগ জয় স্মৃতিতে উজ্জ্বল। নয় বছর আগে শেষবার মোহনবাগানের কলকাতা লিগ জয়ে আমার কিছুটা অবদান আছে। ওই মরশুমটা টাফ ছিল। কারণ কলকাতা লিগ ও আই লিগ একসঙ্গে খেলতে হয়েছিল। ফুটবলারা সেরাটা দিয়েছিল। মোহনবাগানে অন্যান্য ট্রফি জয়ের পাশাপাশি আমার কাছে বেশি স্মরণীয় আই লিগের মাঝপথে নির্বাসন কাটিয়ে শূন্য পয়েন্ট হাতে নিয়ে অবনমন বাঁচানো। ডার্বিতে ৫–‌‌৩ গোলে আমার কোচিংয়ে জয়টাও মনে রাখার মতো ব্যাপার। মোহনবাগান নয় বছর পর কলকাতা লিগ জেতায় কোচ শঙ্করলাল, ফুটবলার ও কর্তাদের অভিনন্দন। আশা করি, কলকাতা লিগের এই সাফল্য বাগানকে আই লিগেও ভাল ফল করতে সাহায্য করবে।
সত্যজিৎ চ্যাটার্জি:‌ নয় বছর আগে মোহনবাগান যখন শেষবার কলকাতা লিগ জিতেছিল, তখন পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কলকাতা লিগ ও জাতীয় লিগের খেলা একসঙ্গে থাকায় কোচিং করাটা সহজ ছিল না। দুটো ভিন্ন টুর্নামেন্ট। খেলার ধরন আলাদা। এক টুর্নামেন্ট থেকে অন্য টুর্নামেন্টে মনঃসংযোগ করার কাজটা ছিল কঠিন। দুটোতেই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে এই চাপটা ছিল। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল জাতীয় লিগে বাইরে বাইরে খেলতে যাওয়ার ধকল।

চোট–‌আঘাত, ক্লান্তি ফ্যাক্টর ছিল। সুরকুমার, ব্যারেটো, দীপকের মতো ফুটবলারদেরও দেখেছি ক্লান্ত বোধ করতে প্র‌্যাকটিসে। তাই ওই বছরের লিগ জয়টা অবশ্যই খুব কৃতিত্বের। আমি করিমের পর কোচিংয়ের দায়িত্ব পেলেও মরশুমের শেষ পর্যন্ত ছিলাম না। যখন কোনও দল চ্যাম্পিয়ন হয়, সমষ্টিগত প্রয়াসেই সাফল্য আসে। এবারের লিগ জয়ে প্রধান কৃতিত্ব ফুটবলারদের। তারপর কোচের। আর তৃতীয় কৃতিত্ব কর্তাদের, যাঁরা সঠিক দল নির্বাচন করে কোচের হাতে তুলে দেন। সবার নিশ্চয়ই মনে আছে, মাঝে কিছুটা সময় কলকাতা লিগকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি আই লিগে মূলত ফোকাস করায়। গত মরশুমে কলকাতা লিগ জয়ের ব্যাপারে বাড়তি গুরুত্ব দিলেও সেটা অল্পের জন্য ফসকে যায়। এবার শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল ভাল দল গড়া। অনেকেই জানেন, মরশুমে শুরুতে কর্তাদের মধ্যে একটা সমস্যা দেখা দেয় আর্থিক ব্যাপারে। কিন্তু আমি অন্যদের বলেছিলাম, নতুন মরশুমের দলগঠনে কোনও আপস চলবে না। সেরা দলই গড়তে হবে। সেই মতো একটা পাঁচ সদস্যের কমিটি গড়া হয়। যাতে ছিল সৃঞ্জয় বসু, দেবাশিস দত্ত, উত্তম সাহা, সঞ্জয় ঘোষ ও তৎকালীন ফুটবল সচিব হিসেবে আমি। ওই কমিটিতে আমরা ডেকে নিয়েছিলাম কোচ শঙ্করলাল ও টেকনিকাল কমিটির সদস্য কম্পটন দত্তকে। সকলে মিলে বারবার আলোচনা করে যে টিমটা তৈরি করে ফেলি, তারই সুফল মিলছে এখন। আমি জানি ডিপান্ডা, ইউতা, অরিজিৎ বাগুই, সৌরভ দাস, পিন্টু মাহাতো, গোলকিপার শঙ্করদের ধরে রাখতে, হেনরি, ব্রিটো, অভিষেক আম্বেকার, কিমকিমাদের আসতে রাজি করানোয় কতটা খাটতে হয়েছে।

ডার্বতে ২ গোলে এগিয়ে গিয়েও সেদিন বাগান না জিতলেও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম, যে মনের জোর ও জোস এই বাগান ফুটবলারদের রয়েছে, তাতে খেতাব ঘরে ঢুকবে। সেটা হওয়ায় ভাল লাগছে। ফুটবলারদের পাশাপাশি অভিনন্দন কোচ শঙ্করলালকে। 
বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য:‌ পুরনো কথা বিশেষ মনে রাখতে পারি না। আট বছর আগে আমার কোচিংয়ে মোহনবাগানের কলকাতা লিগ জয়ের কথা নিয়ে বলার থেকে এবারের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাকে বেশ কৃতিত্বের বলব। মোহনবাগানে মরশুমের শুরু থেকে নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে চলেছে। তার মাঝেও ফোকাস ঠিক রেখে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য কোচ শঙ্করলাল ও ওর ফুটলারদের বাহবা দেব। বহুদিন ধরে ওরা লিগ পাচ্ছিল না। স্বাভাবিকভাবে সদস্য–‌‌সমর্থকদের মধ্যে একটা আক্ষেপ ছিল। সেটা এবার মিটল। একটা দলের সাফল্যের পিছনে বড় কারণ হল সঠিক দল নির্বাচন। মোহনবাগান সেটা পেরেছে। একটা ব্যালান্সড দল গড়েছে। সব বিভাগে কার্যকরী ফুটবলার। তাছাড়া কোচ শঙ্করলালকে কৃতিত্ব দেব পিন্টু মাহাতো, সৌরভ দাস, অরিজিৎ বাগুই, গোলকিপার শিলটন ছাড়াও শঙ্করকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার জন্য। আমি মনে করি বাঙালি ছেলেদের সুযোগ দিলে তারা কোনও অংশে অন্যদের থেকে কম নয়, সেটা প্রমাণ করবে। বাগানে, মহমেডানে, আমি যে দলের কোচ ছিলাম, সেই পিয়ারলেসে এটা বারবার দেখা গেছে। সেখানে আমি বলব ইস্টবেঙ্গলের দলটাই এবার ঠিকভাবে তৈরি হয়নি। তাতে নিজেরা ডুবেছে। পিয়ারলেসের কাছে হারে ইস্টবেঙ্গলের দুর্বলতা বেরিয়ে এসেছিল। মহমেডান ম্যাচে সেটা আরও প্রকট হয়। শঙ্করলালের কৃতিত্ব খাটো না করেও বলব, মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথটা কিছুটা হলেও সুগম করেছে ইস্টবেঙ্গল।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top