লন্ডনে একাই থাকেন। লর্ডস এবং ওভাল, দুটি মাঠেই খেলা দেখেন নিয়মিত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কই নেই। কিন্তু মাইকেল হোল্ডিংয়ের মতো পুরোপুরি মুখ ঘুরিয়ে ফেলেননি। ক্লাইভ লয়েডের মুখোমুখি দেবাশিস দত্ত

ক্লাইভ লয়েড:‌ মাইকেল হোল্ডিং কি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ভালবাসে না?‌ অবশ্যই ভালবাসে। অভিমানাহত হয়ে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছে আপাতত। আমার আমলে অনেক বিখ্যাত ক্রিকেটারই দূরে সরে আছে। আমি নিশ্চিত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের ডাকে ওরা সবাই এগিয়ে আসবে।
 গর্ডন গ্রিনিজও তো আপনার মতো ওভালে বসে খেলা দেখছেন।
লয়েড:‌ ক’‌দিন আগে লন্ডনে গর্ডন গ্রিনিজ একটা চ্যারিটি ডিনার আয়োজন করেছিল। আমি গিয়েছিলাম তো। মাইকেল হোল্ডিং ছিল। আপনাদের বিরাট কোহলি এসেছিল। বার্বাডোজে একটা স্কুলের উন্নতির জন্য গর্ডন ওই চ্যারিটি ডিনার আয়োজন করেছে। বরাবরই ও রাশভারী এবং সিরিয়াস ধরনের মানুষ ছিল। তাই ওর ডাকে গিয়েছি। আবার ডাকলে আবার যাব।
 এর মাঝে কি গারফিল্ড সোবার্সের সঙ্গে কথা হল?‌
লয়েড:‌ না, না। স্যর গ্যারি এখন বার্বাডোজেই থাকেন বেশিরভাগ সময়। হঁাটুর যন্ত্রণায় কাতর। দেখা হয়নি অনেকদিন। কথাও হয়নি। মনে করিয়ে দিলেন যখন, খুব তাড়াতাড়ি ওকে ফোন করব। মানুষটার বয়স হয়ে গেল ৮২।
 আপনারই বা কী কম!‌
লয়েড:‌ (‌হেসে)‌ আমারও হঁাটুতে সমস্যা রয়েছে। তবে হ্যঁা, হঁাটতে–‌চলতে অসুবিধা হয়। ক্রিকেট মাঠে আসার সময় এই ব্যথা কমে যায় (‌হেসে)‌।
 আগামী বছর তো ইংল্যান্ডেই বিশ্বকাপ!‌ থাকবেন তো?‌
লয়েড:‌ অবশ্যই। ’‌৭৫ এবং ’‌৭৯–‌তে আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম লন্ডনে। ’‌৮৩–‌তে জিতেছিল কপিলদেব। তারপর ১৯৯৯ সালে বিশ্বকাপ হয়েছিল। ১৯ বছর পর, আগামী বছর যে বিশ্বকাপের আয়োজন হবে, তার জন্য এখন থেকেই এদেশে রয়েছে প্রবল উত্তেজনা। শুনছি টিকিটের দাম নাকি খুব বেশি!‌ ইন্ডিয়া যেখানে খেলবে, সেখানে এক–‌একটি টিকিটের দাম ২৫০ পাউন্ড!‌ মাই গুডনেস!‌ ভারতীয় দর্শকরা এই মার্কেটটাকে সমৃদ্ধ করছে। এখানকার সব মানুষ নিশ্চিত, বিশ্বকাপের সময় টিকিটের হাহাকার তৈরি হবে।
 ভারত বনাম ইংল্যান্ডের চলতি সিরিজের খেলা সম্পর্কে কিছু বলবেন?‌
লয়েড:‌ ইন্ডিয়া ভার্সেস ইংল্যান্ড?‌ এটা আসলে ইংল্যান্ড ভার্সেস বিরাট কোহলি সিরিজ হল। ভারতের ব্যর্থতা দেখে আমি স্তম্ভিত। যারা বলছে প্র‌্যাকটিস ম্যাচ না খেলার কারণেই ভারত হেরে গেল, এ ব্যাপারে আমি একমত। কিন্তু আমায় বলুন তো, টি–‌২০, ফিফটি ওভার্স গেম এবং তারপর ৫ টেস্টের সিরিজ— এত সময় পেয়েও বিলেতের উইকেট এবং আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারা গেল না?‌ আমি কিছুতেই ভারতের এই পরাজয় মেনে নিতে পারছি না। ইংল্যান্ড কিন্তু এত ভাল দল নয়!‌ ইন্ডিয়া প্লেড রিয়েল ব্যাড ক্রিকেট। আমি তো বলব, এখনকার ইংল্যান্ড দলের ওয়ান ডে টিমটা বেটার। নট দ্য টেস্ট টিম। তার কাছেই কিনা হেরে গেল বিরাটরা!‌
 এভাবে সিরিজ হারার অন্যতম কারণ কী?‌
লয়েড:‌ ব্যাড ব্যাটিং। ওপেনাররা গত ৯ ইনিংসে কিছু করতে পারল না। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা নয়?‌
 আপনার দলের দুই ওপেনার গর্ডন গ্রিনিজ, ডেসমন্ড হেনেসের মতো তো আর চাইলেই পাওয়া যায় না।
লয়েড:‌ গ্রিনিজ–‌হেনেস ওয়্যার আউটস্ট্যান্ডিং। এমন ব্যাটসম্যান কি চাইলেই পাওয়া যায়?‌ আপনি কি বলতে চান, গ্রিনিজ, হেনেস ছাড়া অন্য কোনও দেশের ওপেনাররা রান করেনি?‌ অস্ট্রেলিয়ার বুন অ্যান্ড মার্শ, ইংল্যান্ডের অ্যালিস্টার কুক, পাকিস্তানের সইদ আনোয়ার–‌আমির সোহেল। আরে, একজন ওপেনার তো রান করবে!‌ গ্রিনিজ–‌হেনেস জুটি তো স্বপ্নের জুটি। আপনাদের সুনীল গাভাসকারের মতো ওপেনার তো আমি দেখিনি। আমাদের জোরে বোলারদের বিরুদ্ধে সুনীলের সাহস, টেকনিক, টেম্পারামেন্ট ক’‌জন ব্যাটসম্যান দেখিয়েছে?‌ গাভাসকারের দেশের ওপেনারদের আজ এই দশা!‌ জানি না, কীভাবে ভারত এই মহাসঙ্কট থেকে মুক্তি পাবে। আমার আমলে জিতিয়েছে বোলাররা। ওরা বলত, ব্যাটসম্যানরা যদি ১৫০ রান তোলে, বোলাররা বিপক্ষকে ১৪৯ রানের মধ্যে নামিয়ে দেবে। কপিলদেবের সঙ্গে দেখা হলেই বলি, ’‌৮৩–‌র বিশ্বকাপ ও জিতেছিল আমাদের ব্যাটসম্যানদের কারণে। আমরা পারিনি। তা না হলে, ’‌৮৩–‌র বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমে ১৮৩ রানে ভারতকে আউট করার পর আমরা জিততে পারিনি। বোলাররা তো ১৮৩ রানে বেঁধে দিয়েছিল ইন্ডিয়াকে। তাই বিরাটদের বুঝতে হবে, রান না করলে জেতা যাবে না। স্কোরবোর্ডে রান চাই। এখনও মানুষটা আছেন একইরকম। বিলেতের এই গ্রীষ্ম তিনি উপভোগ করেছেন ভালই। প্রথমে পাকিস্তান সিরিজ, তারপর ভারতের সফর, ‘‌এদেশের মাঠে বসে খেলা দেখার একটা আনন্দ আছে। আই এনজয় ইট ভেরি মাচ।’‌ কথা শেষ করার সময় জানতে চাইলাম, আপনার দেখা সেরা ব্যাটসম্যান কে?‌ উত্তর পাওয়া গেল, ‘‌স্যর গারফিল্ড সোবার্স।’‌ গোপাল বসু বেঁচে থাকলে লয়েডের এই শেষ প্রশ্নের উত্তর শুনে খুব খুশি হতেন।‌‌‌‌

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
জনপ্রিয়

Back To Top